সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিএনপি দলীয় ও বহিষ্কৃত নেতাদের বালু ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে বৃদ্ধের মৃত্যু

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিএনপি দলীয় ও বহিষ্কৃত নেতাদের বালু ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে বৃদ্ধের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ঘোড়াউত্রা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মী ও দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব এখন চরম রূপ ধারণ করেছে। এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত শনিবার রাত প্রায় ১টার সময় উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নে। বালু উত্তোলনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও বহিষ্কৃত দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপির কর্মী, সাবেক মেম্বার রমিজ উদ্দিন ও হিরা নামের দুজন গুরুতর আহত হন। এ সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে কাছুম আলী (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতা ও সাবেক মেম্বার রমিজ উদ্দিন চলতি বছর ঘোড়াউত্রা নদীর একাংশ ইজারা নেন। ইজারাকৃত নদীতে বিএনপির বহিষ্কৃত গ্রুপের নেতা জুম্মন মিয়া বালু উত্তোলনের জন্য জোরপূর্বক ড্রেজার বসান। এতে ইজারাদার ও বিএনপি কর্মী রমিজ উদ্দিন বাধা দেন। জুম্মন সেই বাধা অমান্য করে বালু উত্তোলন শুরু করলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

রাত প্রায় ১টার সময় রমিজ উদ্দিন কয়েকজনকে নিয়ে ছাতিরচর বেড়িবাঁধে বসে আলাপ-আলোচনা করছিলেন। এমন সময় বহিষ্কৃত গ্রুপের নেতা জুম্মন ২০/২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে রমিজ মেম্বারকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা নিয়ে কোপ দিতে উদ্যত হলে রমিজ দৌড়ে গ্রামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

রমিজের ডাক-চিৎকারে বাড়ির মালিক বিএনপি কর্মী হিরা ও কাছুম আলী এসে জুম্মনের হাত থেকে রামদা কেড়ে নেন। এ সময় হিরা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন এবং কাছুম আলী শ্বাসকষ্টে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে কাছুম আলীকে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন উভয় গ্রুপের নেতা ও স্থানীয় কয়েকটি সূত্র।

উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ভাটি বরাটিয়ার ধনু নদী ও বোয়ালিয়া নদীতে বিএনপির বহিষ্কৃতদের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এরই সূত্র ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরাও নদীতে বালু উত্তোলনে ভাগ-বাটোয়ারার সুযোগ খুঁজছেন।

দলীয় দ্বন্দ্বের সুযোগে বিগত আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট দলীয় বালু ব্যবসায়ীরা গ্রুপ নেতাদের সহায়তায় বালু ব্যবসায় ঢুকে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন দুই গ্রুপের একাধিক নেতাকর্মী। গত বছরও বালু ব্যবসা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে বহিষ্কৃতরা অবৈধ বালু ব্যবসা পরিচালনা করছেন- এমন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসন মাঝে-মধ্যে নামমাত্র অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে। অনেকের মতে, নদীতে বালু উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন। তা না হলে তারা কেন বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না- এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এ ছাড়া স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাচীন পুকুর, জলাশয়, ফসলি জমি এবং খাল ভরাটের পোস্ট করছেন। এগুলো প্রশাসনের দৃষ্টিতে পড়লেও প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন সচেতন মহল।

গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার নির্বাচনের বিরোধিতার কারণে ৬০ থেকে ৭০ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বহিষ্কৃতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের হাঁস প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেন। বিজয়ের পর থেকেই প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা ও রাজনৈতিক নানা বিষয়ে মতপার্থক্য চলছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিগত সরকারের দলীয় বালু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ব্যবসায় ঢুকে পড়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

নিকলীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে অবৈধ বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি এ প্রতিনিধিকে বলেন, “ছাতিরচর এলাকায় নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তিনি জানতেন না।”

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, “ছাতিরচরের ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। মৃতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

শিরোপার পর গোল্ডেন বলও স্পেনের, রদ্রির অনন্য অর্জন

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ
শিরোপার পর গোল্ডেন বলও স্পেনের, রদ্রির অনন্য অর্জন

বিশ্বকাপের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি জিতেছে স্পেন। আর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিতেও আধিপত্য দেখিয়েছে ইউরোপের নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন বল জিতেছেন স্পেনের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা রদ্রি। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি নিজের অসাধারণ ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কারও ঘরে তুলেছেন তিনি।

বিশ্বকাপজুড়ে স্পেনের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রাখতে রদ্রির ভূমিকা ছিল অনন্য। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচে তিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। ফাইনালেও নিজের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দিয়ে স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে নেন।

এবারের সিলভার বল জিতেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বমঞ্চে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি, তবু পুরো টুর্নামেন্টে তার নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ গোল-অ্যাসিস্ট তাকে সেরা খেলোয়াড়দের কাতারে রেখেছে।

অন্যদিকে ব্রোঞ্জ বল পেয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। দল ফাইনালে উঠতে না পারলেও পুরো আসরে ১০ গোল করে তিনি জিতেছেন গোল্ডেন বুট। টানা দুই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে এমবাপ্পে গড়েছেন অনন্য এক ইতিহাস। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগের ফুটবলার।

এবারের বিশ্বকাপে গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হয়েছেন স্পেনের উনাই সিমন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি জিতেছেন গোল্ডেন গ্লাভ। আর টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড় হয়েছেন স্পেনের উদীয়মান ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি, যিনি পুরো আসরে পরিণত ফুটবল উপহার দিয়ে নজর কেড়েছেন।

স্পেনের বিশ্বকাপ জয় এবং ব্যক্তিগত পুরস্কারে রদ্রি, উনাই সিমন ও পাও কুবার্সির সাফল্য প্রমাণ করেছে, দলীয় শক্তির পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও এবারের বিশ্বকাপে স্প্যানিয়ার্ডরাই ছিলেন সবচেয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে শিরোপা না জিতেও মেসি ও এমবাপ্পে আবারও দেখিয়ে দিয়েছেন কেন তারা বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই তারকা।

টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাস গড়লেন এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ
টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাস গড়লেন এমবাপ্পে

বিশ্ব ফুটবলে নিজের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করলেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ গোল করে টানা দ্বিতীয় আসরে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। এর আগে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এ ৮ গোল করে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্স শিরোপা জিততে না পারলেও এমবাপ্পের গোলবন্যা ছিল পুরো আসরের অন্যতম বড় আকর্ষণ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেন তিনি। সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার কীর্তিও গড়েন ফরাসি অধিনায়ক।

ফাইনালের আগে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। তবে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে গোল করতে না পারায় মেসি ৮ গোলেই শেষ করেন টুর্নামেন্ট। ফলে দুই গোলের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো সেরা গোলদাতার পুরস্কার নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে।

মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের তিনটি আসরে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২। ২০১৮ বিশ্বকাপে করেছিলেন ৪ গোল, ২০২২ সালে ৮ গোল এবং ২০২৬ সালে ১০ গোল। এই ধারাবাহিকতায় তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল গোলস্কোরার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু গোল করা নয়, বড় ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করার অসাধারণ সক্ষমতা। ২০২২ সালের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি। যদিও দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি, তবু ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে এটি তার ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় মাইলফলক।

ফুটবল ইতিহাসে টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের নজির অত্যন্ত বিরল। এমবাপ্পের এই কীর্তি তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার বয়স ও ধারাবাহিকতা বিবেচনায় ভবিষ্যতের বিশ্বকাপগুলোতেও আরও নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ
অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপ স্পেনের। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে লা রোহা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৫তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল।

শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের ধার এবং ট্যাকটিক্যাল আধিপত্য- সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল স্পেন। তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দুর্দান্ত গোলকিপিং এবং আর্জেন্টিনার দৃঢ় রক্ষণ প্রথম ১০৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচকে গোলশূন্য রেখেছিল।

শুরু থেকেই স্পেনের চাপ

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে স্পেন। বক্সের ডান প্রান্তে লামিন ইয়ামালের জোরালো শট দুর্দান্তভাবে ফিরিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

এরপর একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে স্প্যানিশরা। ইয়ামালের নিচু ক্রস, মিকেল ওইয়ারসাবালের দূরপাল্লার শট এবং মার্ক কুকুরেয়ার প্রচেষ্টা—সবই প্রতিহত করেন মার্তিনেজ।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধজুড়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি। মাঝমাঠে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমোর দাপটে লিওনেল মেসিদের আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।

চোট ও কার্ডে বিপাকে আর্জেন্টিনা

৪০ মিনিটে ট্যাকটিক্যাল ফাউলের দায়ে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। কয়েক মিনিট পরই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি।

গোলশূন্য অবস্থায় প্রথমার্ধ শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আধিপত্য

বিরতির পর লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামিয়ে মাঝমাঠে ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা করেন লিওনেল স্কালোনি। কিন্তু স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে তাতেও খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি।

৫১ মিনিটে ওইয়ারসাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন পারেদেস। কিছুক্ষণ পর অভিনয়ের অভিযোগে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ।

৭৫ মিনিটে স্পেন কোচ মাঠে নামান দুই কার্যকর বদলি—মিকেল মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামস। এরপর থেকেই আক্রমণের গতি আরও বাড়ে স্পেনের।

নাটকীয় মুহূর্তের পর অতিরিক্ত সময়

৮০ মিনিটের দিকে দানি ওলমোর দারুণ আক্রমণ শেষ মুহূর্তে ক্লিয়ার করে দেন গনসালো মন্তিয়েল।

কিছুক্ষণ পর বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক থেকে লামিন ইয়ামালের দুর্দান্ত শট আবারও রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

লাল কার্ডে দশজনের আর্জেন্টিনা

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। বল দখলের লড়াইয়ে পাউ কুবারসিকে বিপজ্জনক ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

একজন বেশি খেলোয়াড়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় স্পেন।

১০৫ মিনিটে বিশ্বকাপ নির্ধারণী গোল

অবশেষে ১০৫তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।

বাম দিক থেকে নিকো উইলিয়ামস বল নিয়ন্ত্রণে রেখে বক্সের ভেতরে ফেররান তোরেসের দিকে পাস বাড়ান। ফাঁকায় বল পেয়ে কোনো ভুল করেননি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ডান পায়ের শক্তিশালী শটে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে স্পেনকে এগিয়ে দেন তিনি।

এর আগে মিকেল মেরিনোর একটি হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। আরেকবার নিকো উইলিয়ামস বল জালে জড়ালেও মেরিনোর ফাউলের কারণে গোল বাতিল করেন রেফারি।

শেষ চেষ্টা ব্যর্থ আর্জেন্টিনার

গোল হজমের পর শেষ মুহূর্তে সর্বশক্তি দিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। তবে আইমেরিক লাপোর্তে, পাউ কুবারসি, কুকুরেয়া এবং গোলরক্ষক উনাই সিমনের দৃঢ়তায় কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।

শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের ট্রফি জিতে বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে ফিরল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ম্যাচের উল্লেখযোগ্য ঘটনাপ্রবাহ
  • ৫’ : ইয়ামালের শট দারুণভাবে রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
  • ৪০’ : লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখেন।
  • ৪৪’ : চোটে মাঠ ছাড়েন লিসান্দ্রো, নামেন ওতামেন্দি।
  • ৪৫’ : প্রথমার্ধ শেষ, স্কোর ০-০।
  • ৪৬’ : পারেদেস মাঠে নামেন।
  • ৫১’ : পারেদেস হলুদ কার্ড।
  • ৬০’ : এনজো অভিনয়ের দায়ে হলুদ কার্ড।
  • ৭৫’ : স্পেনের হয়ে মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামস মাঠে নামেন।
  • ৯০’ : নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে।
  • ৯৭’ : দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ।
  • ১০৫’ : নিকো উইলিয়ামসের পাস থেকে ফেররান তোরেসের জয়সূচক গোল।
  • ১২০’ : স্পেন ১-০ আর্জেন্টিনা; বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।

Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41