পাকুন্দিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা, আকস্মিক পরিদর্শনে ক্ষুব্ধ সংসদ সদস্য
সংগ্রহীত ছবি
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হতাশাজনক চিত্র, শিক্ষকদের অনিয়ম এবং বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত অসঙ্গতি দেখে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রথমে তিনি উপজেলার শ্রীরামদী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী মোট শিক্ষার্থী ৬১ জন হলেও উপস্থিত রয়েছে মাত্র ৭ জন। বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৪ জন।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এমন উপস্থিতির চিত্র দেখে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবেদ হোসেনকে মুঠোফোনে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন সংসদ সদস্য। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দায়ীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
পরে দুপুর ১২টার দিকে তিনি উপজেলার তারাকান্দি পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানেও প্রায় একই ধরনের চিত্র দেখতে পান। বিদ্যালয়ের রেজিস্টার অনুযায়ী শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭১ জন হলেও উপস্থিত ছিল মাত্র ২৭ জন।
এ সময় বিদ্যালয়ের জমি নিয়েও গুরুতর অসঙ্গতির বিষয় সামনে আসে। পরিদর্শনে জানা যায়, সরকারি নথিতে বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ৫২ শতাংশ হলেও বাস্তবে মাত্র ২৬ শতাংশ জমি দৃশ্যমান রয়েছে। অবশিষ্ট ২৬ শতাংশ জমির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য বলেন, সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করার দায়িত্বে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না। বিদ্যালয়ের জমি-সংক্রান্ত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ শারফুল ইসলামসহ শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন,
“প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে অভিযোগ পাওয়ার পর আকস্মিকভাবে দুটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। একটি বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষকের বিপরীতে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এসব অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখন থেকে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হবে এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষায় কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array