মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের, দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের, দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার মরদেহ

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় টিকটক ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া মোনায়েম (১৫) নামের এক কিশোরের মরদেহ প্রায় ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের বাগখালী এলাকার নানশ্রী সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ তল্লাশির পর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থল থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মোনায়েম উপজেলার নানশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে টিকটক ভিডিও ধারণ করতে নানশ্রী সেতু এলাকায় যায় মোনায়েম। ভিডিওটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে তিনি সেতুর পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ওঠেন। সেখান থেকে নিচের পানিতে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

বিদ্যুতের আঘাতে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নিচের পানিতে পড়ে যান এবং মুহূর্তের মধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যান।

ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে নিকলী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয় করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পানিতে নেমে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নানশ্রী সেতু এলাকায় শত শত মানুষ ভিড় করেন। নিখোঁজ মোনায়েমের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দ্রুত তাকে উদ্ধারের আকুতি জানান।

প্রায় ৯ ঘণ্টার টানা তল্লাশি শেষে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ডুবুরি দল ঘটনাস্থল থেকেই মোনায়েমের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ নেমে আসে।

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয় করে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়ে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

স্থানীয়রা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ধারণের জন্য অনেক তরুণ-কিশোর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গিয়ে বিভিন্ন কসরত বা স্টান্ট করার চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সচেতন মহলের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

পাকুন্দিয়ায় কাঁঠাল গাছ থেকে পড়ে ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় কাঁঠাল গাছ থেকে পড়ে ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় কাঁঠাল গাছ থেকে পড়ে জিনু ব্যাপারী (৫৫) নামে এক ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার নারান্দী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জিনু ব্যাপারী উপজেলার নারান্দী গ্রামের মৃত আব্দুস শহীদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিনু ব্যাপারী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ফলের ব্যবসা করতেন। সোমবার বিকেলে নিজ গ্রামের একটি কাঁঠাল গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়তে ওঠেন। আগের রাতের বৃষ্টিতে গাছটি ভেজা থাকায় একপর্যায়ে তাঁর পা পিছলে যায়। এতে তিনি গাছ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই জিনু ব্যাপারীর মৃত্যু হয়েছিল।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

হোসেনপুরে বজ্রপাতে নিহত প্রবাসী রাসেলের পরিবারে দুর্দশা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বজ্রপাতে নিহত প্রবাসী রাসেলের পরিবারে দুর্দশা

সৌদি আরবে আকস্মিক বজ্রপাতে নিহত কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের প্রবাসী রাসেল মিয়ার পরিবারের সদস্যরা চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মৃত্যুর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারি সহায়তার অধিকাংশ আশ্বাস এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সীমাহীন আর্থিক সংকটে স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে পরিবারটিকে।

একসময় প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন রাসেল মিয়া। তাঁর উপার্জনেই চলত সংসার। কিন্তু আকস্মিক মৃত্যুর পর পরিবারটি যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অনেক দিনই চুলায় আগুন জ্বলে না। খাদ্যসংকটের কারণে পরিবারের সদস্যদের অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। চলমান বর্ষা মৌসুমে ভাঙাচোরা একটি ঘরে চার সন্তানকে নিয়ে অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন রাসেলের স্ত্রী শাহানাজ পারভীন।

সরেজমিনে কথা হলে শাহানাজ পারভীন বলেন, “স্বামী চলে যাওয়ার ১৬ দিন পর আমার মাও মারা যান। এখন আমার মা-বাবা, ভাই-বোন—কেউ নেই। চার সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। অনেক সময় সন্তানদের ঠিকমতো খাবারও দিতে পারি না। সরকারি সহযোগিতার আশায় আছি, কিন্তু এখনো তেমন কোনো সহায়তা পাইনি। নানা দুশ্চিন্তায় আমি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছি।”

রাসেলের মা মোমেনা আক্তার বলেন, অনেক দিন তিন বেলার পরিবর্তে এক বেলা খাবার খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে পরিবারটির। চরম দারিদ্র্যের কারণে শিশুদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। লেখাপড়ার খরচ বহন তো দূরের কথা, নিয়মিত খাবারের সংস্থান করাই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১০ মার্চ সৌদি আরবে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান রাসেল মিয়া। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও চার সন্তান চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

ঈদ উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা নিহতের বাড়িতে গিয়ে জামাকাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। সে সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

তবে পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী কোনো সরকারি সহায়তা তারা পাননি। ফলে দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছে পরিবারটি।

প্রতিবেশী আবু রায়হানসহ স্থানীয় অনেকেই বলেন, রাসেল মিয়ার পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন এবং দেশের বিত্তবান ব্যক্তিদের এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িক সহায়তা নয়; পরিবারটির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন, বিধবা ভাতা, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা জরুরি। কারণ একজন প্রবাসী দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে মৃত্যুবরণ করার পর তাঁর পরিবারকে চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

হোসেনপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. মিসবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, রাসেল মিয়ার পরিবার বর্তমানে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোরও দ্রুত এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। একই সঙ্গে চার শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “একজন প্রবাসীর মৃত্যু শুধু একটি প্রাণের অবসান নয়; এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতেরও মৃত্যু। রাসেল মিয়ার চার সন্তান আজও অপেক্ষা করছে—রাষ্ট্র ও সমাজের সহযোগিতায় অন্তত তাদের বাবার স্বপ্নগুলো যেন বেঁচে থাকে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “সরকারিভাবে পরিবারটিকে সাময়িক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে আমরা কাজ করছি।”

বাজিতপুরে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাই-বোনের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাই-বোনের

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়নে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে দুই ভাই-বোন। ছোট ভাইকে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়ে শেষ পর্যন্ত দুজনকেই প্রাণ দিতে হয়েছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কায়ছার হাবিব দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহতরা হলেন উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়নের কুকরারাই হাজী বাড়ির বাসিন্দা হাফেজ জাহেদ আলী মুন্সীর ছেলে আশরাফুল (৯) ও মেয়ে তুলনা (১৩)। তারা সম্পর্কে সৎ ভাই-বোন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে কুকরারাই বাংলা বাজার জামে মসজিদসংলগ্ন একটি বিলে হাঁটুসমান পানিতে খেলছিল আশরাফুল। খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত সে বিলের গভীর অংশে চলে যায় এবং পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে।

ছোট ভাইকে ডুবে যেতে দেখে বড় বোন তুলনা কোনো কিছু না ভেবেই তাকে উদ্ধারের জন্য পানিতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু সাঁতার না জানায় তিনিও গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

দুই ভাই-বোনকে একসঙ্গে পানিতে ডুবে যেতে দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। স্থানীয়রা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাদের উদ্ধার করে দ্রুত বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। হাসপাতালে এবং পরে তাদের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একসঙ্গে দুই সন্তানের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীরাও এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বড় বোন নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে। এমন হৃদয়স্পর্শী ঘটনা এলাকায় আগে কেউ দেখেনি। তারা শিশুদের প্রতি আরও বেশি নজরদারি এবং জলাশয়ের পাশে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

কৈলাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কায়ছার হাবিব বলেন, “খবর পেয়ে আমি নিহত দুই শিশুর বাড়িতে গিয়ে তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। একই সঙ্গে স্থানীয়দের নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছি। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

তিনি আরও বলেন, “বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন বিল, পুকুর ও জলাশয়ে পানি বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।”


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41