টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের, দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার মরদেহ
সংগ্রহীত ছবি
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় টিকটক ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া মোনায়েম (১৫) নামের এক কিশোরের মরদেহ প্রায় ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের বাগখালী এলাকার নানশ্রী সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ তল্লাশির পর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থল থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোনায়েম উপজেলার নানশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে টিকটক ভিডিও ধারণ করতে নানশ্রী সেতু এলাকায় যায় মোনায়েম। ভিডিওটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে তিনি সেতুর পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ওঠেন। সেখান থেকে নিচের পানিতে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
বিদ্যুতের আঘাতে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নিচের পানিতে পড়ে যান এবং মুহূর্তের মধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যান।
ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে নিকলী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয় করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পানিতে নেমে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নানশ্রী সেতু এলাকায় শত শত মানুষ ভিড় করেন। নিখোঁজ মোনায়েমের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দ্রুত তাকে উদ্ধারের আকুতি জানান।
প্রায় ৯ ঘণ্টার টানা তল্লাশি শেষে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ডুবুরি দল ঘটনাস্থল থেকেই মোনায়েমের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ নেমে আসে।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয় করে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়ে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ধারণের জন্য অনেক তরুণ-কিশোর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গিয়ে বিভিন্ন কসরত বা স্টান্ট করার চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সচেতন মহলের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।





Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array