সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

দুই দশক ধরে ফুটবলকে নতুন ভাষা শেখানো এক জাদুকর মেসি

শাহীন আলম প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দুই দশক ধরে ফুটবলকে নতুন ভাষা শেখানো এক জাদুকর মেসি

ফুটবলার আসে, ফুটবলার যায়। চেনা-অচেনা কত শত নক্ষত্র ক্ষণিকের আলোয় আলোকিত করে সবুজ গালিচা, তারপর সময়ের নির্মম নিয়মে হারিয়ে যায় বিস্মৃতির অতল গহ্বরে। কিন্তু খুব কম মানুষই আছেন, যাঁরা সময়কে হারিয়ে নিজেরাই ইতিহাস হয়ে ওঠেন। গত দুই দশক ধরে ফুটবল নামের ব্যাকরণটিকে যিনি বারবার নতুন করে লিখেছেন, তাঁর নাম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।

তিনি শুধু ফুটবল খেলেন না; সবুজ ক্যানভাসে বুটের প্রতিটি স্পর্শে লিখে চলেন এক একটি মহাকাব্য।

২০০৭ সালে যখন ব্রাজিলিয়ান জাদুকর কাকা ব্যালন ডি’অর উঁচিয়ে ধরলেন, কিংবা ২০০৮ সালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো প্রথমবারের মতো ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানে ভূষিত হলেন, তখন মেসির ঝুলিতে ছিল না একটি ব্যালন ডি’অরও। কে জানত, সেই শূন্যতাই একদিন হয়ে উঠবে ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল সূচনা!

অতঃপর শুরু হলো এক অভূতপূর্ব সাম্রাজ্যের উত্থান।

২০০৯ থেকে ২০১২—টানা চার বছর ব্যালন ডি’অর জিতে মেসি শুধু সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যাননি, ফুটবলকে নিয়ে গেছেন এক নতুন উচ্চতায়। পরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জিতে সমতায় ফিরলে অনেকেই ভেবেছিলেন, মেসির রাজত্ব বুঝি শেষ।

কিন্তু কিংবদন্তিরা শেষ হন না, তাঁরা নতুন করে নিজেদের সংজ্ঞায়িত করেন।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেসি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন। আজ তাঁর ট্রফি কেবিনেটে শোভা পাচ্ছে রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর। শুধু তাই নয়, ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও রোনালদোর চারটির বিপরীতে ছয়বার এই সম্মান জিতে তিনি প্রমাণ করেছেন—গোল করার শিল্পেও তিনিই সর্বোচ্চ মানদণ্ড।

মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায় তাঁর দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য।

তাঁর চোখের সামনেই উত্থান হয়েছে অসংখ্য কিংবদন্তির, আবার সময়ের স্রোতে তাঁদের অনেকেই হারিয়েও গেছেন। কিন্তু মেসি যেন সময়ের বাইরের এক চরিত্র।

প্রথম প্রজন্ম—কাকা, রবিনহো, ওয়েসলি স্নেইডার, ফ্রাঙ্ক রিবেরি। তাঁদের সোনালি সময়েই নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন মেসি।

দ্বিতীয় প্রজন্ম—নেইমার, লুইস সুয়ারেজ, সার্জিও আগুয়েরো, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, আনহেল দি মারিয়া। বার্সেলোনা, পিএসজি এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে এই প্রজন্মের সঙ্গে পথচলায়ও তিনিই ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্র।

বর্তমান প্রজন্ম—কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড, জুড বেলিংহাম। বিশ্ব ফুটবলের নতুন মুখগুলো যখন নিজেদের সেরা সময় পার করছে, তখনও ৩৯ বছর বয়সী মেসি তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্সকে হারিয়ে তিনি পূরণ করেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। আর ২০২৬ বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে জুড বেলিংহামের ইংল্যান্ডকে বিদায় করে আবারও মনে করিয়ে দেন—মেসির জাদু সময়ের সঙ্গে ম্লান হয় না, বরং আরও পরিণত হয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে মেসির খেলার ধরনও।

তরুণ বয়সের সেই বিস্ফোরক গতি, অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং কিংবা টানা ৫০ গজ দৌড়ে গোল করার দৃশ্য আজ তুলনামূলক কম দেখা যায়। কারণ এখন তিনি গতির নয়, বুদ্ধিমত্তার ফুটবল খেলেন।

মাঠ এখন তাঁর কাছে যেন এক বিশাল দাবার বোর্ড।

প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে কয়েক চাল আগেই পড়ে ফেলেন তিনি। কখন গতি বাড়াতে হবে, কখন খেলা ধীর করতে হবে, কখন একটি নিখুঁত থ্রু-পাসে পুরো ডিফেন্স চিরে দিতে হবে—এসব যেন তাঁর সহজাত প্রবৃত্তি।

সবুজ গালিচায় তাঁকে দেখে অনেক সময় মনে হয়, একজন গ্র্যান্ডমাস্টার দাবার গুটি সাজাচ্ছেন, আর বাকিরা কেবল তাঁর চালের অপেক্ষায়।

আজ ৩৯ বছরের এক অভিজ্ঞ ফুটবল-মস্তিষ্কের সামনে বিশ্বের সেরা ২৫-২৮ বছর বয়সী তারকারাও অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়েন। কারণ, গতি কমতে পারে, শক্তি ক্ষয় হতে পারে; কিন্তু ফুটবলীয় মেধা, দৃষ্টিভঙ্গি আর সৃজনশীলতা যদি সময়ের সঙ্গে আরও শাণিত হয়, তবে বয়স কেবল জন্মসনদের একটি সংখ্যা হয়ে থাকে।

মেসি সেই বিরল ব্যতিক্রম।

তিনি আর শুধু একজন ফুটবলার নন; তিনি একটি যুগ, একটি দর্শন, একটি চলমান ইতিহাস।

প্রজন্ম বদলাবে, নক্ষত্র বদলাবে, রেকর্ড ভাঙবে—কিন্তু লিওনেল মেসির গল্প ফুটবলের ইতিহাসে চিরকাল এক অনন্ত মহাকাব্য হয়েই বেঁচে থাকবে।

শিরোপার পর গোল্ডেন বলও স্পেনের, রদ্রির অনন্য অর্জন

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ
শিরোপার পর গোল্ডেন বলও স্পেনের, রদ্রির অনন্য অর্জন

বিশ্বকাপের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি জিতেছে স্পেন। আর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিতেও আধিপত্য দেখিয়েছে ইউরোপের নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন বল জিতেছেন স্পেনের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা রদ্রি। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি নিজের অসাধারণ ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কারও ঘরে তুলেছেন তিনি।

বিশ্বকাপজুড়ে স্পেনের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রাখতে রদ্রির ভূমিকা ছিল অনন্য। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচে তিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। ফাইনালেও নিজের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দিয়ে স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে নেন।

এবারের সিলভার বল জিতেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বমঞ্চে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি, তবু পুরো টুর্নামেন্টে তার নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ গোল-অ্যাসিস্ট তাকে সেরা খেলোয়াড়দের কাতারে রেখেছে।

অন্যদিকে ব্রোঞ্জ বল পেয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। দল ফাইনালে উঠতে না পারলেও পুরো আসরে ১০ গোল করে তিনি জিতেছেন গোল্ডেন বুট। টানা দুই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে এমবাপ্পে গড়েছেন অনন্য এক ইতিহাস। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগের ফুটবলার।

এবারের বিশ্বকাপে গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হয়েছেন স্পেনের উনাই সিমন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি জিতেছেন গোল্ডেন গ্লাভ। আর টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড় হয়েছেন স্পেনের উদীয়মান ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি, যিনি পুরো আসরে পরিণত ফুটবল উপহার দিয়ে নজর কেড়েছেন।

স্পেনের বিশ্বকাপ জয় এবং ব্যক্তিগত পুরস্কারে রদ্রি, উনাই সিমন ও পাও কুবার্সির সাফল্য প্রমাণ করেছে, দলীয় শক্তির পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও এবারের বিশ্বকাপে স্প্যানিয়ার্ডরাই ছিলেন সবচেয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে শিরোপা না জিতেও মেসি ও এমবাপ্পে আবারও দেখিয়ে দিয়েছেন কেন তারা বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই তারকা।

টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাস গড়লেন এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ
টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাস গড়লেন এমবাপ্পে

বিশ্ব ফুটবলে নিজের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করলেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ গোল করে টানা দ্বিতীয় আসরে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। এর আগে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এ ৮ গোল করে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্স শিরোপা জিততে না পারলেও এমবাপ্পের গোলবন্যা ছিল পুরো আসরের অন্যতম বড় আকর্ষণ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেন তিনি। সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার কীর্তিও গড়েন ফরাসি অধিনায়ক।

ফাইনালের আগে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। তবে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে গোল করতে না পারায় মেসি ৮ গোলেই শেষ করেন টুর্নামেন্ট। ফলে দুই গোলের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো সেরা গোলদাতার পুরস্কার নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে।

মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের তিনটি আসরে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২। ২০১৮ বিশ্বকাপে করেছিলেন ৪ গোল, ২০২২ সালে ৮ গোল এবং ২০২৬ সালে ১০ গোল। এই ধারাবাহিকতায় তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল গোলস্কোরার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু গোল করা নয়, বড় ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করার অসাধারণ সক্ষমতা। ২০২২ সালের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি। যদিও দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি, তবু ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে এটি তার ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় মাইলফলক।

ফুটবল ইতিহাসে টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের নজির অত্যন্ত বিরল। এমবাপ্পের এই কীর্তি তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার বয়স ও ধারাবাহিকতা বিবেচনায় ভবিষ্যতের বিশ্বকাপগুলোতেও আরও নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ
অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপ স্পেনের। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে লা রোহা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৫তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল।

শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের ধার এবং ট্যাকটিক্যাল আধিপত্য- সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল স্পেন। তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দুর্দান্ত গোলকিপিং এবং আর্জেন্টিনার দৃঢ় রক্ষণ প্রথম ১০৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচকে গোলশূন্য রেখেছিল।

শুরু থেকেই স্পেনের চাপ

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে স্পেন। বক্সের ডান প্রান্তে লামিন ইয়ামালের জোরালো শট দুর্দান্তভাবে ফিরিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

এরপর একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে স্প্যানিশরা। ইয়ামালের নিচু ক্রস, মিকেল ওইয়ারসাবালের দূরপাল্লার শট এবং মার্ক কুকুরেয়ার প্রচেষ্টা—সবই প্রতিহত করেন মার্তিনেজ।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধজুড়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি। মাঝমাঠে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমোর দাপটে লিওনেল মেসিদের আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।

চোট ও কার্ডে বিপাকে আর্জেন্টিনা

৪০ মিনিটে ট্যাকটিক্যাল ফাউলের দায়ে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। কয়েক মিনিট পরই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি।

গোলশূন্য অবস্থায় প্রথমার্ধ শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আধিপত্য

বিরতির পর লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামিয়ে মাঝমাঠে ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা করেন লিওনেল স্কালোনি। কিন্তু স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে তাতেও খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি।

৫১ মিনিটে ওইয়ারসাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন পারেদেস। কিছুক্ষণ পর অভিনয়ের অভিযোগে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ।

৭৫ মিনিটে স্পেন কোচ মাঠে নামান দুই কার্যকর বদলি—মিকেল মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামস। এরপর থেকেই আক্রমণের গতি আরও বাড়ে স্পেনের।

নাটকীয় মুহূর্তের পর অতিরিক্ত সময়

৮০ মিনিটের দিকে দানি ওলমোর দারুণ আক্রমণ শেষ মুহূর্তে ক্লিয়ার করে দেন গনসালো মন্তিয়েল।

কিছুক্ষণ পর বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক থেকে লামিন ইয়ামালের দুর্দান্ত শট আবারও রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

লাল কার্ডে দশজনের আর্জেন্টিনা

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। বল দখলের লড়াইয়ে পাউ কুবারসিকে বিপজ্জনক ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

একজন বেশি খেলোয়াড়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় স্পেন।

১০৫ মিনিটে বিশ্বকাপ নির্ধারণী গোল

অবশেষে ১০৫তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।

বাম দিক থেকে নিকো উইলিয়ামস বল নিয়ন্ত্রণে রেখে বক্সের ভেতরে ফেররান তোরেসের দিকে পাস বাড়ান। ফাঁকায় বল পেয়ে কোনো ভুল করেননি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ডান পায়ের শক্তিশালী শটে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে স্পেনকে এগিয়ে দেন তিনি।

এর আগে মিকেল মেরিনোর একটি হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। আরেকবার নিকো উইলিয়ামস বল জালে জড়ালেও মেরিনোর ফাউলের কারণে গোল বাতিল করেন রেফারি।

শেষ চেষ্টা ব্যর্থ আর্জেন্টিনার

গোল হজমের পর শেষ মুহূর্তে সর্বশক্তি দিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। তবে আইমেরিক লাপোর্তে, পাউ কুবারসি, কুকুরেয়া এবং গোলরক্ষক উনাই সিমনের দৃঢ়তায় কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।

শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের ট্রফি জিতে বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে ফিরল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ম্যাচের উল্লেখযোগ্য ঘটনাপ্রবাহ
  • ৫’ : ইয়ামালের শট দারুণভাবে রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
  • ৪০’ : লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখেন।
  • ৪৪’ : চোটে মাঠ ছাড়েন লিসান্দ্রো, নামেন ওতামেন্দি।
  • ৪৫’ : প্রথমার্ধ শেষ, স্কোর ০-০।
  • ৪৬’ : পারেদেস মাঠে নামেন।
  • ৫১’ : পারেদেস হলুদ কার্ড।
  • ৬০’ : এনজো অভিনয়ের দায়ে হলুদ কার্ড।
  • ৭৫’ : স্পেনের হয়ে মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামস মাঠে নামেন।
  • ৯০’ : নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে।
  • ৯৭’ : দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ।
  • ১০৫’ : নিকো উইলিয়ামসের পাস থেকে ফেররান তোরেসের জয়সূচক গোল।
  • ১২০’ : স্পেন ১-০ আর্জেন্টিনা; বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।

Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41