ইয়ামাল-ওলমোর অপ্রতিরোধ্য স্পেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে মহাপরীক্ষা
ইউরোপের মুকুট জয়ের পর এবার বিশ্বজয়ের হাতছানি স্পেনের সামনে। তবে সেই স্বপ্নপূরণের শেষ বাধা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ছন্দে থাকা দুটি দল।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন যেন নিজেদের নতুন রূপে আবিষ্কার করেছে। ঐতিহ্যবাহী তিকি-তাকার ধীরগতির ধাঁচ থেকে বেরিয়ে দলটি এখন খেলছে দ্রুতগতির, আক্রমণাত্মক এবং উচ্চ-প্রেসিং ফুটবল। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারানো ছিল সেই আধিপত্যেরই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
স্পেনের এই দুর্দান্ত যাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ১৯ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। ডান প্রান্তে তার গতি, ড্রিবলিং ও এক-অন-এক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার দক্ষতা পুরো টুর্নামেন্টেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বিপর্যস্ত করেছে। ফাইনালেও ইয়ামালই হতে পারেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম।
ইয়ামালের সঙ্গে মাঝমাঠে দানি ওলমোর সৃজনশীলতা স্পেনের আক্রমণকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। নিখুঁত পাসিং, ওয়ান-টু কম্বিনেশন এবং বক্সের সামনে জায়গা তৈরি করার অসাধারণ ক্ষমতায় তিনি প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে বারবার ভেঙে দিয়েছেন।
তবে স্পেনের প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে আছে মাঝমাঠে। দলের ‘ইঞ্জিন’ রড্রি রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য তৈরি করে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন। ফাইনালে লিওনেল মেসি, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজদের প্রভাব কমিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও অনেকটাই থাকবে এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকার কাঁধে।
চোট কাটিয়ে ফেরা পেড্রি মাঝমাঠে ফিরেছেন নিজের স্বাভাবিক ছন্দে। তার নিখুঁত থ্রু-পাস ও আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতা প্রতিনিয়ত গোলের সুযোগ তৈরি করছে মিকেল ওইয়ারসাবাল ও নিকো উইলিয়ামসদের জন্য। ফলে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে পুরো ম্যাচজুড়েই সতর্ক থাকতে হবে।
রক্ষণেও সমান শক্তিশালী স্পেন। আইমেরিক লাপোর্তে ও তরুণ পাউ কুবার্সির জুটি গড়ে তুলেছে দৃঢ় প্রতিরক্ষা। দুই ফুলব্যাক মার্ক কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোরো আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দায়িত্বই সমান দক্ষতায় সামলাচ্ছেন। ফলে মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ কিংবা লাউতারো মার্টিনেজদের জন্য স্পেনের রক্ষণ ভাঙা মোটেও সহজ হবে না।
আর যদি আর্জেন্টিনা কোনো সুযোগ তৈরি করেও ফেলে, পোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নস্যাৎ করে নিজের নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে মেটলাইফের ফাইনালটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়; এটি হবে দুই ভিন্ন দর্শনের ফুটবলেরও সংঘর্ষ। একদিকে লিওনেল স্কালোনির অভিজ্ঞ ও বাস্তববাদী আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের গতিময়, আক্রমণাত্মক ও দলগত ফুটবলে বিশ্বাসী স্পেন।
বিশ্বমুকুট ধরে রাখতে চাইলে আর্জেন্টিনাকে শুরু থেকেই স্পেনের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিতে হবে। একই সঙ্গে ইয়ামাল ও ওলমোর কাছে বল পৌঁছানো বন্ধ করতে না পারলে মেসিদের জন্য শিরোপা রক্ষা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমান স্পেন আর কোনো একক তারকার দল নয়। এটি এমন এক সুসংগঠিত ইউনিট, যেখানে প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করছে। আর সেই কারণেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন লড়াই। রবিবারের ফাইনালে নির্ধারিত হবে—বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি থাকবে বুয়েনস এইরেসে, নাকি নতুন ঠিকানা হবে মাদ্রিদ।





Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array