শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঐতিহ্যবাহী নরসিংহ জিউর আখড়ার জমি নিয়ে বিতর্ক, জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঐতিহ্যবাহী নরসিংহ জিউর আখড়ার জমি নিয়ে বিতর্ক, জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী নরসিংহ জিউর আখড়ার বিপুল পরিমাণ দেবোত্তর সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী, ভক্তবৃন্দ ও আখড়া পরিচালনা কমিটির দাবি, প্রভাবশালী একটি মহল আখড়ার অধিকাংশ সম্পত্তি দখল করে রেখেছে। ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় বেদখলকৃত সম্পত্তি দ্রুত উদ্ধার করে আখড়ার স্বার্থ সংরক্ষণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আখড়া পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, সিএস ও এসএ রেকর্ড অনুযায়ী শ্রী শ্রী নরসিংহ জিউর আখড়ার নামে মোট ১ একর ৩৩ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি রয়েছে। তবে বাস্তবে এই সম্পত্তির প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

কমিটির দেওয়া তথ্যমতে, রেকর্ডভুক্ত কয়েকটি দাগের জমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ভোগদখল করে আসছেন। এর মধ্যে ৭৪ নম্বর দাগের ৫.৮১ শতাংশ জমি, ৭৩ নম্বর দাগের ৪ শতাংশ জমি এবং ৭৫ নম্বর দাগের ৩.৩২ শতাংশ জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা দখল করে রেখেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া আখড়ার আরও কয়েকটি অংশ ভাড়াটিয়া ও দখলদারদের মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আখড়ার মূল মন্দির ও আশপাশের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে বিভিন্ন দোকানপাট, অস্থায়ী ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্থাপনার একটি বড় অংশ দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর গড়ে উঠেছে।

ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের চারপাশের পরিবেশ আগের মতো নেই বলে জানান স্থানীয় ভক্তরা। তাদের মতে, একসময় আখড়ার বিস্তৃত এলাকা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ ও ভক্তদের সমাগমের জন্য ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেবোত্তর সম্পত্তি বেদখলে থাকায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভক্ত বলেন, “এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের দান করা দেবোত্তর সম্পত্তি। বছরের পর বছর ধরে আমরা দেখছি, আখড়ার জমি ধীরে ধীরে অন্যের দখলে চলে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আখড়ার অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়তে পারে।”

তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও ভূমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছে আখড়া পরিচালনা কমিটি।

কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, শুধু মৌখিক অভিযোগ নয়, রেকর্ডপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দিয়েছেন। তারা আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শ্রী শ্রী নরসিংহ জিউর আখড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আখড়ার দাবিকৃত সম্পত্তির সিএস, এসএ রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বেদখলকৃত ভূমি উদ্ধারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”

উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ সৃষ্টি হলেও তারা দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চান। তাদের মতে, শুধু তদন্ত নয়, বাস্তবিক অর্থে বেদখলকৃত জমি উদ্ধার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার করে আখড়ার স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ভৈরবে সংঘর্ষের পর ওসি প্রত্যাহার, পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
ভৈরবে সংঘর্ষের পর ওসি প্রত্যাহার, পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাঁকে ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার করে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে ভৈরবে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতির অবনতি হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তবে সংঘর্ষ ও মহাসড়কে যান চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ বলেন, “ওসি আতাউর রহমান আকন্দকে ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।”

তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে ওসির প্রত্যাহারের খবরে ভৈরবজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় প্রশাসনের জবাবদিহিতার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ভৈরবে সংঘর্ষ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

করিমগঞ্জে ফলাফলের পুরস্কার গাছের চারা, উচ্ছ্বসিত আড়াইশ শিক্ষার্থী

জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ফলাফলের পুরস্কার গাছের চারা, উচ্ছ্বসিত আড়াইশ শিক্ষার্থী

পরীক্ষাভীতি দূর করা, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করা এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার ‘জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনকারী আড়াইশ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা। এমন অভিনব পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচলিত পুরস্কার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে পরিবেশবান্ধব ও বাস্তবমুখী চিন্তাধারা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই আয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের মলাই ফকির বাজারের আমিন সেন্টার সংলগ্ন জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর, উপদেষ্টা আল আমিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুজিবুর রহমান মঞ্জু, সহকারী শিক্ষক আলাম নাশরাক নিলি, আব্দুল্লাহ আল সাদী লিয়ন, পান্না আক্তার, রিতা আক্তার, শাহীনা আক্তার ঝুনু, লামিয়া মীম, ইতি আক্তার, কণা আক্তারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শতাধিক অভিভাবক এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর বলেন, “বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষের চারা বিতরণ করি। এতে তারা যেমন ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত হয়, তেমনি পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হয়ে ওঠে। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষার মান উন্নয়নেও ব্যতিক্রমী ভূমিকা রাখছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আধুনিক, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।”

বিদ্যালয়ের উপদেষ্টা আল আমিন বলেন, “একজন শিশুর শিখন দক্ষতা গড়ে ওঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টায়। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেই কাজটিই আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছে।”

দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি কার্যক্রমই অন্যদের থেকে আলাদা। পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি তারা পরিবেশ, নৈতিকতা ও জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়। পুরস্কার হিসেবে গাছের চারা পাওয়ায় তারা আনন্দিত এবং নিজেদের বাড়িতে চারা রোপণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, গাছের চারা উপহার শিক্ষার্থীদের শুধু পরিবেশ সচেতনই করবে না, বরং বিদ্যালয়মুখী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের সৃজনশীল ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাকুন্দিয়ায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত, আহত ৩

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত, আহত ৩

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মালবাহী ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার শ্রীরামদী সরকারি হিমাগার সংলগ্ন ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে বাদল মিয়া (৪৫) এবং হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দাপুনিয়া গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে ইছাম উদ্দিন (৫০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি মালবাহী ট্রাক পাকুন্দিয়ার শ্রীরামদী সরকারি হিমাগার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার দুই যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, অটোরিকশায় থাকা যাত্রীরা বড়শি দিয়ে মাছ ধরার জন্য পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করতে যাচ্ছিলেন। পথে শ্রীরামদী এলাকায় পৌঁছালে তারা ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. আরিফুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘাতক ট্রাক ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এদিকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।