সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

অর্থ পাচারে ‘ফোকলা’ ব্যাংকিং খাত, দুই বছরের ‘কুশন’ চান অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অর্থ পাচারে ‘ফোকলা’ ব্যাংকিং খাত, দুই বছরের ‘কুশন’ চান অর্থমন্ত্রী

সংগ্রহীত ছবি

বছরের পর বছর ধরে অর্থ পাচারের ফলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ‘ফোকলা’ হয়ে পড়েছে এবং বেসরকারি খাত তীব্র তারল্য সংকটে ধুঁকছে—এমন মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশের একটি আর্থিক ‘কুশন’ প্রয়োজন, যার মাধ্যমে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলবিশ্ব ব্যাংক-এর বসন্তকালীন সভা উপলক্ষে আটলান্টিক কাউন্সিল-এর এক বিশেষ আয়োজনে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করা এবং বেসরকারি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা।” তিনি দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে ব্যাপক আর্থিক ‘লুটপাট’ ও অর্থ পাচারের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার যে অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তা কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। পুঁজিবাজার অত্যন্ত নাজুক এবং দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাজারে মূলধন ও চলতি মূলধনের ‘তীব্র সংকট’ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে বেসরকারি খাতকে এখন প্রায় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করতে হচ্ছে। “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সব সময় বেসরকারি খাতনির্ভর। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এই খাতকে আগে উদ্ধার করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ,” বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দেশের অনেক ব্যাংকই এখন প্রায় দেউলিয়া অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে দ্রুত নতুন মূলধন জোগান দেওয়ার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বেসরকারি খাতে মূলধন ঘাটতির জন্য অতীত সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে তিনি বলেন, “অতীতে অর্থনীতি গুটিকয়েক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, যা সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাজারভিত্তিক অর্থনীতিতে টিকে থাকা কঠিন করে তোলে।”

তিনি আরও বলেন, ওই পরিস্থিতির কারণে দেশের মুদ্রার মান প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপে প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আরও কমেছে। সব মিলিয়ে বেসরকারি খাতের প্রায় ৫০ শতাংশ মূলধন ও চলতি মূলধন কার্যত বিলীন হয়ে গেছে।

এর ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকলেও তাদের উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই মন্দার কারণে কোম্পানিগুলো লোকসানে চলছে এবং মূলধন ভেঙে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। একদিকে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও মূল্যস্ফীতি মূলধন কমিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে ব্যবসাগুলো আরও ক্ষতির মুখে পড়ছে। “অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি যারা, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি দুর্দশায়,” যোগ করেন তিনি।

এই সংকট মোকাবিলার বিষয়টি আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকেও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত বেসরকারি খাত ও ব্যাংকিং খাতে মূলধন জোগান দেওয়া। এর আগে অন্য কোনো সংস্কার কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।”

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে আইএমএফের কাছ থেকে বাংলাদেশ ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন পায়, যার মধ্যে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও শর্ত পূরণে অগ্রগতি না হওয়ায় তা বিলম্বিত হয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, আসন্ন বাজেট এবং বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা হিসেবে অন্তত ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়েও চলমান আইএমএফ-বিশ্ব ব্যাংক বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে।

আইএমএফের শর্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে। এটি ১১ শতাংশ থেকে নেমে এখন ৭ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত না হলে কর-জিডিপি বাড়ানো সম্ভব নয় বলেও তিনি মত দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংককে জানিয়েছি—প্রথমে ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়াতে হবে, তারপর কর-জিডিপি বাড়ানোর বিষয়টি আসবে। আর এটি সময়সাপেক্ষ।”

সবশেষে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আগামী দুই বছরের জন্য একটি কার্যকর আর্থিক ‘কুশন’, যার মাধ্যমে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।”

বিন্নাটি বাজারে সাউন্ড ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বাউল সন্ধ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
বিন্নাটি বাজারে সাউন্ড ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বাউল সন্ধ্যা

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি বাজারে সাউন্ড ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাউল সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে বিন্নাটি বাজারের মোল্লা মার্কেট চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিন্নাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহীম মোল্লার সভাপতিত্বে আয়োজিত বাউল সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল)।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিল্পীরা বাউল ও লোকসংগীত পরিবেশন করেন। বাদ্যশিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ও শিল্পীদের গানকে ঘিরে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আবহ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা সবসময়ই আমাদের পছন্দের। সমাজে সুস্থ ও ইতিবাচক সাংস্কৃতিক চর্চা বজায় রাখা প্রয়োজন। অসুস্থ বিনোদন থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য ও সুন্দর সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বাউল ও লোকসংগীত আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাপ, স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক আবু হানিফ, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিলন, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার, সদর উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক রাসেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বাউল সন্ধ্যায় শিল্পীদের পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন। আয়োজকেরা জানান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জের নতুন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের নতুন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান

দুই এলএনজি টার্মিনাল সচল, তবু কাটছে না গ্যাস-সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
দুই এলএনজি টার্মিনাল সচল, তবু কাটছে না গ্যাস-সংকট

আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সংকট কাটছে না। নতুন একটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর পর গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি চালু হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশীয় সামিট গ্রুপের ভাসমান টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ফলে দুটি টার্মিনাল সচল থাকলেও আজ রোববার সকাল থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ টার্মিনাল দুটির সম্মিলিত সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে—এমন প্রত্যাশা ছিল শিল্পকারখানা, আবাসিক গ্রাহক ও পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের। কিন্তু দুটি টার্মিনাল একসঙ্গে সচল হওয়ার পরও সরবরাহ বেড়েছে সামান্যই। ফলে দীর্ঘদিনের গ্যাস-সংকট থেকে দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি।

পেট্রোবাংলার ক্রয় বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দুটি টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে ১১টি কার্গো প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে আসছে মাত্র পাঁচটি। ফলে আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি এখন বেশ এলোমেলো। কবে নাগাদ এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি কিনে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করে সরকার। টার্মিনাল দুটি নিজেরা এলএনজি আমদানি করে না। আমদানি করা এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করাই এসব টার্মিনালের মূল কাজ।

এর আগে টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল। পরে ত্রুটি মেরামত করে টার্মিনাল চালু করা হয়। বর্তমানে টার্মিনাল সচল থাকলেও পর্যাপ্ত এলএনজি না পাওয়ায় সরবরাহে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল যখন এলএনজি-সংকটে ভুগছিল, তখন সামিটের টার্মিনাল তার সক্ষমতার চেয়েও বেশি—সর্বোচ্চ প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত—গ্যাস সরবরাহ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে সামিটের টার্মিনালও কার্গো-সংকটে পড়েছে। ফলে সরকারি নির্দেশনায় ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, রোববার সকাল ১০টায় এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। টার্মিনালটির সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

অন্যদিকে, সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমিয়ে ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়েছে। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সামিটের টার্মিনাল সচল থাকলেও সাগরে বর্তমানে কোনো এলএনজিবাহী জাহাজ নেই। ফলে বাধ্য হয়েই সরবরাহ কমাতে হয়েছে। নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে এলএনজি কেনার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উন্মুক্ত দরপত্র বা তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে এলএনজি না কিনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করতে গিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ডিপিএমের আওতায় অনুমোদিত কোনো এলএনজিবাহী জাহাজও এখন পর্যন্ত দেশে পৌঁছায়নি।

এ অবস্থায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনার চেষ্টা করছে। তবে সেখান থেকেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না। ফলে দুটি ভাসমান টার্মিনাল সচল থাকার পরও জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আবাসিক ও পরিবহন খাতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিনের সরবরাহ সংকটের মধ্যে নতুন করে এলএনজি-সংকট তৈরি হওয়ায় সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।