শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘এখন আর কিছুই আমাকে অবাক করে না’- বিসিবির পরিবর্তন নিয়ে ফিল সিমন্স

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘এখন আর কিছুই আমাকে অবাক করে না’- বিসিবির পরিবর্তন নিয়ে ফিল সিমন্স

মুখে চওড়া হাসি রেখেই প্রশ্নের জবাব দিলেন ফিল সিমন্স। তাঁর উত্তর শুনে হাসলেন উপস্থিত সাংবাদিকরাও। নানা চড়াই–উতরাই পেরিয়ে আসা ৬৩ বছর বয়সী এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কোচ জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে আর কিছুই তাঁকে অবাক করে না।

২০২৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন সিমন্স। তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর সভাপতি ছিলেন ফারুক আহমেদ। ওই বছরের ১৬ মে সিমন্স বাংলাদেশে আসার কয়েক সপ্তাহ পরই ফারুক আহমেদকে সরিয়ে সভাপতি করা হয় আমিনুল ইসলামকে।

পরবর্তীতে প্রায় ১০ মাস দায়িত্বে থাকার পর গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আমিনুল ইসলামের কমিটি ভেঙে দেয়। বর্তমানে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তামিম ইকবাল

এত দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তন সিমন্সকে অবাক করেছে কি না—নিউজিল্যান্ড সিরিজ শুরুর আগে মিরপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
“জীবনে কোনো কিছুই আমাকে আর অবাক করে না (হাসি)। এটি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং জীবন সম্পর্কে আমার উপলব্ধি। এত চড়াই–উতরাই দেখেছি যে, প্রতিদিন কী হতে পারে, তা নিয়ে আমি বিস্মিত হই না।”

সিমন্স আরও জানান, বোর্ড সভাপতির পরিবর্তন তাঁর কাজের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। তিনি বলেন,
“একটি সিরিজের প্রস্তুতির জন্য আমরা যেভাবে দলকে তৈরি করি বা যে পরিশ্রম করি, সেখানে সভাপতি বদলের কোনো প্রভাব পড়েনি। কোচিং গ্রুপ হিসেবেও আমাদের কাজের ধরনে এর কোনো পরিবর্তন আসেনি।”

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রশাসনিক পরিবর্তন ও নানা আলোচনার মধ্যেও জাতীয় দলের প্রস্তুতি ঠিকঠাক হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সিমন্স।

তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম, ঠিক সেভাবেই প্রস্তুতি শেষ করেছি। খেলোয়াড়দের ওপর কোনো মানসিক প্রভাব পড়েছে বলে আমি দেখিনি। তারা আগের মতোই কঠোর পরিশ্রম করেছে—কেউ কেউ তো স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি।”

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বোর্ডের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হলেও এক পর্যায়ে সিমন্স বলেন, “চলুন, আমরা ক্রিকেটে ফিরে যাই…”

আগামী শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের এই সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি হবে চট্টগ্রামে। সব ম্যাচই শুরু হবে সকাল ১১টায়। এরপর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও মুখোমুখি হবে দুই দল।


নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।