মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

গোলপোস্টের প্রহরীরাই লিখছেন বিশ্বকাপের নতুন গল্প

ক্রীড়া প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গোলপোস্টের প্রহরীরাই লিখছেন বিশ্বকাপের নতুন গল্প

বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে কুরাসাও, কেপ ভার্দে ও ডিআর কঙ্গোর মতো দেশগুলো। প্রত্যাশার চেয়েও ভালো পারফরম্যান্স করে তারা জায়গা করে নিয়েছে আলোচনার কেন্দ্রে। আর এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন দলগুলোর গোলরক্ষকেরা। ভোজিনহা, অরল্যান্ডো গিল, লিওনেল এমপাসি, এলয় রুম ও আলিরেজার মতো গোলকিপাররা দুর্দান্ত নৈপুণ্যে নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা চার ম্যাচে আটটি নিশ্চিত গোল রক্ষা করে আলোচনায় এসেছেন। স্পেনের বিপক্ষে একাই সাতটি এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। এমনকি লিওনেল মেসির শটও প্রতিহত করেছেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল হজমের পর যখন সতীর্থরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন, তখন তাদের সাহস জুগিয়ে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন ভোজিনহা।

কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুমও নজর কেড়েছেন নিজের পারফরম্যান্সে। জার্মানির কাছে ৭-০ গোলে হারের পর ডার্ক হর্স ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১৫টি সেভ করে বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়েন তিনি। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে কুরাসাও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে মূল্যবান একটি পয়েন্ট অর্জন করে। যদিও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারেনি ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি।

বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের নায়ক ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। রাউন্ড অব ৩২-এ জার্মানির বিপক্ষে শুধু নির্ধারিত সময়েই দুর্ভেদ্য ছিলেন না, টাইব্রেকারেও দুটি শট ঠেকিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত করেন।

তবে মাঠের সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার সংগ্রামের গল্পও। কয়েক বছর আগে সদ্যজাত সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের জার্সি, বুটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রি করতে হয়েছিল তাকে। জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়ার পর সেই পুরস্কার অসুস্থ ভাইপোকে উৎসর্গ করেন গিল।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করা ম্যাচে ইরানের নায়ক ছিলেন ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার গোলরক্ষক আলিরেজা। তিনি একাই সাতটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট এনে দেন।

ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের দরিদ্র যাযাবর কুর্দি লাক পরিবারে জন্ম নেওয়া আলিরেজার শৈশব কেটেছে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নে কিশোর বয়সে বাড়ি ছেড়ে তেহরানে চলে যান। জীবিকা নির্বাহের জন্য ঝাড়ুদার, গাড়ি ধোয়া ও টায়ার পরিষ্কারের মতো নানা কাজ করেছেন তিনি। সেই আলিরেজার হাতেই এবার আটকে যান কেভিন ডি ব্রুইনে ও রোমেলু লুকাকুর মতো তারকা ফুটবলারের শট।

রাউন্ড অব ৩২-এ কলম্বিয়ার কাছে হেরে ঘানার বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলেও গোলরক্ষক লরেন্স আলি জিঘি ও বেনজামিন আসারে আলোচনায় ছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসারের অসাধারণ গোলরক্ষণের কারণে ঘানা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লড়াই ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

ঘানার স্থানীয় ক্লাব হার্টস অব ওক-এর হয়ে খেলেন আসারে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য কোনো ক্লাব খেলোয়াড় ছাড়লে প্রতিদিন খেলোয়াড়প্রতি নির্দিষ্ট অর্থ পায় সংশ্লিষ্ট ক্লাব। সেই বিবেচনাতেও আসারের অংশগ্রহণ ক্লাবটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসিও ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত পারফরমার। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে ফিরে প্রথমেই পর্তুগালকে রুখে দেন তিনি। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত করে দলের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন।

এ ছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রের মাতেজ কোভার এবং আইভরি কোস্টের এদুয়ার্দ মেন্ডিও নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোলকিপারদের আলোচনায় আরেকটি পরিচিত নাম গিয়ের্মো ওচোয়া। মেক্সিকোর এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছেন।

এবার প্রথম একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ৭৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ম্যাচ শেষে গোলপোস্টে চুম্বন করে বিশ্বকাপকে বিদায় জানান ওচোয়া। এ সময় সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও দলের সদস্যরা তাকে আবেগঘন বিদায় জানান।

বিশ্বকাপের এবারের আসরে বড় বড় তারকাদের পাশাপাশি অখ্যাত দেশগুলোর গোলরক্ষকেরাও নিজেদের অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করেছেন, আধুনিক ফুটবলে একটি দলের সাফল্যের পেছনে একজন দক্ষ গোলকিপারের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রত্যয়ে ১১ বছরে কালের নতুন সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রত্যয়ে ১১ বছরে কালের নতুন সংবাদ

কালের নতুন সংবাদের ১১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে আলোচনা সভা, কেক কাটা ও সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দৈনিক দিনকালের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আবু সালেহ বাবুল।

কালের নতুন সংবাদ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (ভিপি সোহেল)।

এ সময় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রুহুল হোসাইন, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মালেক চৌধুরী, সহসাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম ফকির মতি, দৈনিক দিনকালের জেলা প্রতিনিধি আবু সালেহ বাবুল, সাপ্তাহিক শুরুক পত্রিকার সম্পাদক মুহা. ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক নবধারা বার্তার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পলাশ, কিশোরগঞ্জ জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল্লাহ, নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম সম্পাদক সালাহউদ্দিন খান ছোটন, করিমগঞ্জ কলেজের প্রভাষক রাজ্জাকুন্নেছা সুমী এবং তাড়াইল বিএমইউজে সভাপতি ছাদেকুর রহমান রতন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (ভিপি সোহেল) সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের যেকোনো বাধা ও প্রতিকূলতায় তিনি পাশে থাকবেন।

তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং সমাজের অনিয়ম-অসংগতির চিত্র তুলে ধরতে সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

পরে প্রধান অতিথি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকরা কেক কেটে কালের নতুন সংবাদের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হাওর টাইমসের সম্পাদক মো. খায়রুল ইসলাম ভূঁইয়া, দৈনিক সকালবেলার জেলা প্রতিনিধি নূর আহাম্মদ পলাশ, দৈনিক কিশোরগঞ্জ-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রেজাউল হক, সুলতানা বেগম, সাংবাদিক মাহবুব আলম নজরুল এবং দিক দিগন্ত-এর জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান শাহিন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজকের দর্পণের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান লিপন, বিটিএন বাংলার সম্পাদক আসাউজ্জামান জুয়েল, দৈনিক আমার সংবাদের পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি এম এ হান্নান, কালের নতুন সংবাদের হোসেনপুর স্টাফ রিপোর্টার এস কে শাহিন নবাব, সাংবাদিক মামুন, উপজেলা প্রতিনিধি সোহেল মিয়া, হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম রিপন, দৈনিক নওরোজ-এর তাড়াইল উপজেলা প্রতিনিধি মজিবুল হক চুন্নু, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা তাড়াইল সভাপতি হাজী শহিদুল ইসলাম, কবি ও ছড়াকার সাদেক আহমেদ, দৈনিক সরেজমিন বার্তার জেলা প্রতিনিধি মো. আজিজুল হক ফাহিম, আমার সংবাদের জেলা প্রতিনিধি ইমরান হাসান, দৈনিক নিরপেক্ষ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান মিজান, কালের নতুন সংবাদের বার্তা সম্পাদক সোহেল রানা, সহবার্তা সম্পাদক রিতু আক্তার, সহকারী সম্পাদক মাসুদ মিয়া, সহসম্পাদক রাকিব ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শাহিন, নান্দাইল প্রতিনিধি আতাউর রহমান বাচ্চু, আতাউল হাসান দিনার ও মোহাম্মদ এমদাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে কালের নতুন সংবাদের বর্ষসেরা ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা সাংবাদিকদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় পুরস্কার গ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট আসাউজ্জামান জুয়েল, গাজীপুর প্রতিনিধি এমদাদুল হক, নেত্রকোনা থেকে আলম খান, আতাউর রহমান বাচ্চু, আমিনুল ইসলাম রিপন এবং এস কে শাহিন নবাব।

অনুষ্ঠানের বক্তারা কালের নতুন সংবাদের দীর্ঘ পথচলার প্রশংসা করে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও জনকল্যাণমুখী সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বকাপের হার থেকে বাবার মৃত্যু- মেসির বিদায়ের নেপথ্যে যে গল্প

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপের হার থেকে বাবার মৃত্যু- মেসির বিদায়ের নেপথ্যে যে গল্প

দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক আবেগঘন বার্তায় ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানান, জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে নামবেন না তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর থেকেই মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিল। তবে অবসরের সিদ্ধান্তটি যে একেবারে হঠাৎ নেওয়া নয়, তা তাঁর প্রকাশিত চিঠি থেকেই স্পষ্ট। মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র দুই দিন পর, ২১ জুলাই তিনি অবসরের চিঠিটি লিখেছিলেন। পরে সেটি প্রকাশ না করে নিজের কাছে রেখে দেন।

অবসরের ঘোষণায় মেসি বলেন, সিদ্ধান্তটি তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের এবং এখনো গভীরভাবে নাড়া দেয়। তবে দীর্ঘ সময় ভেবে তিনি বুঝেছেন, জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর এটাই উপযুক্ত সময়।

জাতীয় দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। শুধু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিরোপা জয়ের সময় নয়, তার আগের কঠিন সময়েও আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেসি।

জাতীয় দলের হয়ে খেলা তাঁর কাছে সবসময় ভালোবাসার বিষয় ছিল উল্লেখ করে মেসি জানান, নিজের দেওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই বলে তাঁর মনে হয়েছে। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের জায়গা করে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

মেসির অবসরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর ঘটনাটিও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। হোর্হে মেসি ৮ আগস্ট ৬৮ বছর বয়সে মারা যান। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর রোজারিওতে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি শুধু মেসির বাবা ছিলেন না; শৈশব থেকেই তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রধান অভিভাবক ও এজেন্ট ছিলেন।

বাবার মৃত্যুর পর মেসি এক আবেগঘন বার্তায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, বাবাকে ছাড়া কীভাবে এগিয়ে যাবেন, তা জানেন না এবং দীর্ঘদিন আর ফুটবল চালিয়ে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়েও তাঁর যথেষ্ট সংশয় তৈরি হয়েছে।

তবে সোমবারের অবসরবার্তায় মেসি স্পষ্ট করেন, বাবার মৃত্যু তাঁর সিদ্ধান্তের মূল কারণ নয়; বরং সেই ঘটনার পর নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি আরও নিশ্চিত হয়েছেন।

মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল। ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। ফলে ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে রানার্সআপ হয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়।

ফাইনালের দুই দিন পরই মেসি অবসরের চিঠি লিখেছিলেন। তবে তখনই সেটি প্রকাশ করেননি। প্রায় ছয় সপ্তাহ পর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দলকে বিদায় জানান তিনি।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হলো রেকর্ডের চূড়ায় দাঁড়িয়ে। ২০০৫ সালে অভিষেকের পর জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছেন ২০৭ ম্যাচ এবং করেছেন ১২৫ গোল—দুটিই আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ।

তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ জিতেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপেও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা তাঁর নেতৃত্বে ফাইনালে উঠেছিল।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির অবসর অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর আবেগের বশে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলে আবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিরে আসেন।

এরপরই শুরু হয় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল অধ্যায়। কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ এবং আরও একটি কোপা আমেরিকা জিতে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটান।

বিদায়বার্তায় মেসি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার পথে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, তা কখনো ভুলবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

এখন থেকে জাতীয় দলের জার্সি পরে নয়, একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে আর্জেন্টিনাকে অনুসরণ করতে চান মেসি। সতীর্থ, কোচ, কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর ভাষায়, সতীর্থদের সঙ্গে মিলে এমন কিছু স্বপ্নের মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছেন, যেগুলো একসময় শুধু স্বপ্নই ছিল—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।

মেসির অবসর শুধু আর্জেন্টিনা দলের জন্য নয়, বিশ্ব ফুটবলের জন্যও একটি যুগের সমাপ্তি। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে হতাশা, সমালোচনা ও ব্যর্থতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপসহ বড় তিনটি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতে নিজের উত্তরাধিকারকে পূর্ণতা দিয়েছেন তিনি।

৩৯ বছর বয়সে জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি মেসি। বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন তিনি। অর্থাৎ আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে আর দেখা না গেলেও ফুটবল মাঠে তাঁর অধ্যায় এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের হতাশা, বাবার মৃত্যুশোক এবং দীর্ঘ আত্মবিশ্লেষণের পর শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত জানালেন মেসি। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক পথচলার শেষে তাঁর বিদায় তাই কেবল একজন ফুটবলারের অবসর নয়—আর্জেন্টাইন ফুটবলের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তিও।

কটিয়াদীতে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন, সাম্য-মানবতার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন, সাম্য-মানবতার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম, দর্শন ও সাম্যবাদী চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন; তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রেমেরও কবি ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার। বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাইমিনুল ইসলাম আরিফ, কটিয়াদী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর এবং কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ খোকন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিটু ও শফিকুল ইসলাম ফুলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব মাইনুল হক মেনু, কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সদস্যরা, উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সহসভাপতি সাজেদুল ইসলাম সেলিম। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবির কবিতা আবৃত্তি এবং তাঁর রচিত গান পরিবেশন করে। এতে অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়।

বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবেই পরিচিত নন; তিনি ছিলেন সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রেমের কবি। তাঁর সাহিত্য অন্যায়, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে তাঁর কবিতা ও গানে মানবপ্রেম, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও সাম্যের বার্তা ফুটে উঠেছে।

বক্তারা আরও বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন বর্তমান প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর রচনা পাঠ ও চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব। ‘নজরুল বর্ষ’-এর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্যকর্ম, সংগীত ও জীবনাদর্শের চর্চা আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।