কটিয়াদীতে মাদক ও জুয়া নির্মূলে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দড়ি চরিয়াকোনা ও ভরারদিয়া মহল্লায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী এবং **‘মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি’**র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের দাবি জানানো হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে পৌরসভার কদমতলা এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কের পাশে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘মাদকমুক্ত সমাজ চাই’, ‘জুয়া বন্ধ করো’, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করো’, ‘যুবসমাজকে বাঁচাও’—এমন বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। কর্মসূচি ঘিরে পুরো এলাকায় সচেতনতা ও প্রতিবাদের আবহ সৃষ্টি হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাসুদুজ্জামান বাবু। বক্তব্য দেন কমিটির উপদেষ্টা আবুল কাশেম ও এস এম সাত্তার, সদস্য আরমান, সুমন, স্বপন, আলম, আব্দুর রহিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সভাপতির বক্তব্যে মাসুদুজ্জামান বাবু বলেন, গত কয়েক মাস ধরে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে এলাকায় মাদকসেবন, অপরাধ এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।
তিনি বলেন, “একসময় মানুষ নিজ বাড়িতেও নিরাপদে থাকতে পারতেন না। বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল এখনও মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করা হবে।”
বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও জুয়ার অবাধ বিস্তারের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এর ফলে চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ, পারিবারিক কলহ, মারামারি এবং সামাজিক অস্থিরতার মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ ও কিশোর সমাজ। অনেক পরিবার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পড়ছে বলেও দাবি করেন তারা।
তারা আরও বলেন, সরকার ও জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, জেলা পুলিশ ও কটিয়াদী থানা পুলিশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করতে স্থানীয়দের উদ্যোগে ‘মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন।
বক্তারা দাবি করেন, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে মাদকের মূল উৎস নির্মূলে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন।
স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বলেন, “মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তাদের একমাত্র পরিচয়—তারা অপরাধী।” মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাদক ও জুয়ার আড্ডাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রতিটি মহল্লায় মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।







