বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

কটিয়াদীতে মাদক ও জুয়া নির্মূলে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে মাদক ও জুয়া নির্মূলে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দড়ি চরিয়াকোনা ও ভরারদিয়া মহল্লায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী এবং **‘মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি’**র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের দাবি জানানো হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে পৌরসভার কদমতলা এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কের পাশে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘মাদকমুক্ত সমাজ চাই’, ‘জুয়া বন্ধ করো’, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করো’, ‘যুবসমাজকে বাঁচাও’—এমন বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। কর্মসূচি ঘিরে পুরো এলাকায় সচেতনতা ও প্রতিবাদের আবহ সৃষ্টি হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাসুদুজ্জামান বাবু। বক্তব্য দেন কমিটির উপদেষ্টা আবুল কাশেম ও এস এম সাত্তার, সদস্য আরমান, সুমন, স্বপন, আলম, আব্দুর রহিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সভাপতির বক্তব্যে মাসুদুজ্জামান বাবু বলেন, গত কয়েক মাস ধরে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে এলাকায় মাদকসেবন, অপরাধ এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।

তিনি বলেন, “একসময় মানুষ নিজ বাড়িতেও নিরাপদে থাকতে পারতেন না। বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল এখনও মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করা হবে।”

বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও জুয়ার অবাধ বিস্তারের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এর ফলে চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ, পারিবারিক কলহ, মারামারি এবং সামাজিক অস্থিরতার মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ ও কিশোর সমাজ। অনেক পরিবার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পড়ছে বলেও দাবি করেন তারা।

তারা আরও বলেন, সরকার ও জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, জেলা পুলিশ ও কটিয়াদী থানা পুলিশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করতে স্থানীয়দের উদ্যোগে ‘মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন।

বক্তারা দাবি করেন, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে মাদকের মূল উৎস নির্মূলে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন।

স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বলেন, “মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তাদের একমাত্র পরিচয়—তারা অপরাধী।” মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাদক ও জুয়ার আড্ডাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রতিটি মহল্লায় মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা।

কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

প্রথম আঘাত ইংল্যান্ডের, শেষ হাসি আর্জেন্টিনার

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
প্রথম আঘাত ইংল্যান্ডের, শেষ হাসি আর্জেন্টিনার

প্রথমে গোল হজম, এরপর একচেটিয়া আধিপত্য। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটে অ্যান্টনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন লিওনেল মেসিরা।

সেমিফাইনালের প্রথম এক ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যাচে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তবে সেই গোল যেন উল্টো আর্জেন্টিনাকে আরও ক্ষুধার্ত করে তোলে। গোল হজমের পর থেকেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে ইংল্যান্ডকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে। কার্যত হাফলাইন পেরিয়ে আক্রমণে ওঠার সুযোগই পায়নি ‘থ্রি লায়ন্স’।

৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। সমতায় ফিরেই আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা।

নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট আগে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট কাটে আলবিসেলেস্তেরা।

আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল রুদ্ধশ্বাস ও শারীরিক লড়াইয়ে ভরপুর। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

  • প্রথম ১০ মিনিটেই হয় ৭টি ফাউল, যার মধ্যে ৪টিই করে আর্জেন্টিনা।
  • প্রথমার্ধ শেষে মোট ১৯টি ফাউল নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা ১২টি এবং ইংল্যান্ড ৭টি ফাউল করে।
  • মাঝেমধ্যেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
  • প্রথমার্ধে উভয় দলই দুটি করে শট নেয়। ইংল্যান্ডের একটি শট লক্ষ্যভেদী ছিল।

প্রথমার্ধ থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তাঁর নিখুঁত পাস, বল নিয়ন্ত্রণ ও টার্ন ইংল্যান্ডের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে। দ্বিতীয়ার্ধে সেই চাপ আরও বাড়িয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা।

গোল হজমের পর যেভাবে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ইংল্যান্ডকে রক্ষণাত্মক খেলতে বাধ্য করেছে, তা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মানসিক দৃঢ়তা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলেরই প্রমাণ। শেষ পর্যন্ত এনজো ও লাউতারোর দুই গোলেই স্বপ্নের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মেসির দল।

মিঠামইনে গাছকাণ্ডে পদ স্থগিত সেই বিএনপি সভাপতি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মিঠামইনে গাছকাণ্ডে পদ স্থগিত সেই বিএনপি সভাপতি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির পদ স্থগিত সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকার নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি নিহত হন। হামলায় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াও গুরুতর আহত হয়েছেন।

মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. আব্দুল আওয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে মিঠামইন বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজন। হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারীতে কামালপুর বেড়িবাঁধের মেহগনি গাছ কাটার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক কারণ বা অন্য কোনো বিষয় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

কটিয়াদীতে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে এক মাংস ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে দোকান থেকে জব্দ করা প্রায় দুই বস্তা পঁচা গরুর মাংস জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকানে নিম্নমানের ও পঁচা গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দোকানে সংরক্ষিত মাংস পরীক্ষা করে তা পচনশীল এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এ সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাংস ব্যবসায়ী শারফিন কসাইয়ের দোকান থেকে প্রায় দুই বস্তা পঁচা গরুর মাংস জব্দ করা হয়। পরে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা মাংস জনস্বার্থে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়, যাতে তা কোনোভাবেই বাজারে ফিরে যেতে না পারে।

অভিযান শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষকে অস্বাস্থ্যকর, ভেজাল বা সন্দেহজনক খাদ্য বিক্রির তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই দোকানের মাংসের মান নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। অনেক ক্রেতা মাংস থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগ করলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের অভিযানে পঁচা মাংস জব্দ ও ধ্বংস করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানা বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার করা মাংস ধ্বংস করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা বরদাশত করা হবে না। ভেজাল, নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41