রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

কটিয়াদীতে মাদক ও জুয়া নির্মূলে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে মাদক ও জুয়া নির্মূলে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দড়ি চরিয়াকোনা ও ভরারদিয়া মহল্লায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী এবং **‘মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি’**র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের দাবি জানানো হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে পৌরসভার কদমতলা এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কের পাশে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘মাদকমুক্ত সমাজ চাই’, ‘জুয়া বন্ধ করো’, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করো’, ‘যুবসমাজকে বাঁচাও’—এমন বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। কর্মসূচি ঘিরে পুরো এলাকায় সচেতনতা ও প্রতিবাদের আবহ সৃষ্টি হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাসুদুজ্জামান বাবু। বক্তব্য দেন কমিটির উপদেষ্টা আবুল কাশেম ও এস এম সাত্তার, সদস্য আরমান, সুমন, স্বপন, আলম, আব্দুর রহিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সভাপতির বক্তব্যে মাসুদুজ্জামান বাবু বলেন, গত কয়েক মাস ধরে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে এলাকায় মাদকসেবন, অপরাধ এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।

তিনি বলেন, “একসময় মানুষ নিজ বাড়িতেও নিরাপদে থাকতে পারতেন না। বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল এখনও মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করা হবে।”

বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও জুয়ার অবাধ বিস্তারের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এর ফলে চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ, পারিবারিক কলহ, মারামারি এবং সামাজিক অস্থিরতার মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ ও কিশোর সমাজ। অনেক পরিবার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পড়ছে বলেও দাবি করেন তারা।

তারা আরও বলেন, সরকার ও জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, জেলা পুলিশ ও কটিয়াদী থানা পুলিশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করতে স্থানীয়দের উদ্যোগে ‘মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন।

বক্তারা দাবি করেন, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে মাদকের মূল উৎস নির্মূলে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন।

স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বলেন, “মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তাদের একমাত্র পরিচয়—তারা অপরাধী।” মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাদক ও জুয়ার আড্ডাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রতিটি মহল্লায় মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা।

কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের সুস্বাস্থ্য কামনায় মহিনন্দে দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের সুস্বাস্থ্য কামনায় মহিনন্দে দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) বাদ আসর কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের মহিনন্দ ভাস্করখিলা মিচবাহুল উলুম মাদ্রাসায় এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মহিনন্দ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফায়জুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. উজ্জ্বল মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আশরাফ আলী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র মিলাদ শরিফ পাঠ করা হয়। পরে জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের দ্রুত রোগমুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতের আগে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফায়জুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. উজ্জ্বল মিয়া উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মহিনন্দ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মাহতাবুদ্দিন, অ্যাডভোকেট আসাউজ্জামান জুয়েল, ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা, মহিনন্দ ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি নাসির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, মাইজখাপন ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শাহিনুর রহমান, যুবদলের সদস্যসচিব মো. টিটু মিয়া, মহিনন্দ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ এবং মহিনন্দ ইউনিয়ন জাসাসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ।

এ ছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ, প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী, ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মাহফিলে অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তার সুস্থতার জন্য দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তারা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দ্রুত কর্মজীবনে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবার মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

হোসেনপুরে এলজিইডি–পৌরসভার সমন্বয়হীনতায় বেহাল সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে এলজিইডি–পৌরসভার সমন্বয়হীনতায় বেহাল সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর–বাসকান্দা–পাকুন্দিয়া–ঢাকা আঞ্চলিক সড়কের হোসেনপুর পৌর এলাকার দ্বীপেশ্বর অংশে প্রায় ৩০ ফুটজুড়ে বড় একটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সংস্কার না হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, যানবাহনের চালক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সড়কের এই অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজ চললেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হোসেনপুর–বাসকান্দা–পাকুন্দিয়া সড়কটি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বাসকান্দা থেকে ঢাকার মহাখালীগামী ‘জলসিঁড়ি পরিবহন’-এর বাসসহ যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু পৌর এলাকার এ অংশটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির পৌর এলাকার অংশের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পৌরসভার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সংস্কার করা হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকুন্দিয়ার তারাকান্দি বাজার থেকে সবজি কিনে বাসকান্দায় ফিরছিলেন ব্যবসায়ী আমিন মিয়া। পথে দ্বীপেশ্বর এলাকার বড় গর্তে পড়ে তাঁর বহনকারী অটোরিকশাটি উল্টে যায়। এতে চালক মোখলেছুর রহমান গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাহাব উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, মফিজ উদ্দিন, মো. সুবল মিয়া ও সৃজন মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে বড় গর্তের কারণে ইতোমধ্যে অসংখ্য ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, গর্তটি একদিনে সৃষ্টি হয়নি; এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পৌর প্রকৌশলীকে দ্রুত গর্তটি ভরাট করে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে গর্তটির আকার আরও বড় হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই জনস্বার্থে এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

করিমগঞ্জে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে একাধিক বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে একাধিক বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে একাধিক বাড়িঘর ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, মাদক ব্যবসার অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেহুন্দা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সুজন ও শহিদুল ইসলামের সঙ্গে একই এলাকার মৃত লাল মাহমুদের ছেলে কামাল হোসেনের প্রায় ছয় থেকে সাত বছর ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জমির মধ্যে তাদের প্রায় ৪৩ শতাংশ জমি কামাল হোসেন দখলে নিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জমি নিয়ে বিরোধ চলমান থাকার মধ্যেই গত শুক্রবার কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ‘মাদক ব্যবসায়ী’ আখ্যা দিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি সেখানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে।

তাদের আরও অভিযোগ, একই সময়ে হামলাকারীরা দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাজু এবং ইউপি সদস্য মনজিলা বেগমের বাড়িতেও ভাঙচুর চালায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ ঘটনায় মৃত লাল মাহমুদের ছেলে কামাল হোসেন ছাড়াও মৃত ফুল মাহমুদের ছেলে মন্নান ও ফাইজুল, জুবায়ের হোসেনের ছেলে ডালিম, মৃত মনসুর আলীর ছেলে বাবলু, মুখলেস ও বিপুল, বাবলুর ছেলে টিপু, মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে কামরুল ইসলাম, মুসলিমের ছেলে মনজিল এবং হেলাল উদ্দিনের ছেলে শান্ত ও প্রান্তসহ আরও কয়েকজন অংশ নেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত কামাল হোসেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। যাদের বাড়িতে ভাঙচুর হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।”

এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।