হোসেনপুরে এলজিইডি–পৌরসভার সমন্বয়হীনতায় বেহাল সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা
সংগ্রহীত ছবি
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর–বাসকান্দা–পাকুন্দিয়া–ঢাকা আঞ্চলিক সড়কের হোসেনপুর পৌর এলাকার দ্বীপেশ্বর অংশে প্রায় ৩০ ফুটজুড়ে বড় একটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সংস্কার না হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, যানবাহনের চালক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সড়কের এই অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজ চললেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হোসেনপুর–বাসকান্দা–পাকুন্দিয়া সড়কটি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বাসকান্দা থেকে ঢাকার মহাখালীগামী ‘জলসিঁড়ি পরিবহন’-এর বাসসহ যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু পৌর এলাকার এ অংশটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির পৌর এলাকার অংশের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পৌরসভার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সংস্কার করা হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকুন্দিয়ার তারাকান্দি বাজার থেকে সবজি কিনে বাসকান্দায় ফিরছিলেন ব্যবসায়ী আমিন মিয়া। পথে দ্বীপেশ্বর এলাকার বড় গর্তে পড়ে তাঁর বহনকারী অটোরিকশাটি উল্টে যায়। এতে চালক মোখলেছুর রহমান গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাহাব উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, মফিজ উদ্দিন, মো. সুবল মিয়া ও সৃজন মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে বড় গর্তের কারণে ইতোমধ্যে অসংখ্য ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, গর্তটি একদিনে সৃষ্টি হয়নি; এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পৌর প্রকৌশলীকে দ্রুত গর্তটি ভরাট করে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে গর্তটির আকার আরও বড় হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই জনস্বার্থে এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।





Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array