মাদক ছাড়লে তিন মাসের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেবেন সাবেক চেয়ারম্যান হিমেল
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন ইউনিয়নটির সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ভূইয়া হিমেল। তিনি জানিয়েছেন, ইউনিয়নের কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবী স্বেচ্ছায় মাদক ছেড়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁর তিন মাসের সম্পূর্ণ ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেবেন।
সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল ইসলাম ভূইয়া হিমেল লিখেছেন, “গোবিন্দপুর ইউনিয়নের যে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবী স্বেচ্ছায় যদি মাদক ছেড়ে ভালো হয়ে চলে, আমি ব্যক্তিগতভাবে তার তিন মাসের সমস্ত ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেব। ইনশাআল্লাহ।”
তার এ ঘোষণার পর গোবিন্দপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একটি বড় অংশ এই উদ্যোগকে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে একটি ইতিবাচক ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন ও সামাজিক সহায়তাও সমানভাবে প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তি অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক অবহেলা কিংবা পারিবারিক সমস্যার কারণে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন না। এ অবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে সচেতন মহলের অভিমত, কেবল আর্থিক সহায়তা দিলেই মাদক সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। মাদক ছাড়তে আগ্রহীদের জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সামাজিক পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদক নির্মূলে স্থায়ী সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।
স্থানীয়রা আশা করছেন, শফিকুল ইসলাম ভূইয়া হিমেলের এই ঘোষণার মাধ্যমে মাদকাসক্তদের মধ্যে নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহ সৃষ্টি হবে এবং সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা আরও জোরদার হবে।







