মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

হোসেনপুরে অবাধে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে অবাধে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। আইন অনুযায়ী এসব জাল উৎপাদন, বিক্রি, পরিবহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে প্রকাশ্যেই এসব জালের ব্যবহার বেড়ে চলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ খাল-বিল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের শিকার। বর্ষা মৌসুমে এসব জলাশয় পানিতে পরিপূর্ণ হলে একসময় দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তখন মৎস্যজীবীরা ছাই, পলো, ঠেলা জাল, বড়শিসহ দেশীয় বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে পর্যাপ্ত মাছ শিকার করতেন।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, প্রায় এক দশক আগেও বর্ষা মৌসুমে এসব খাল-বিলে পর্যাপ্ত দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের নির্বিচার ব্যবহারের কারণে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন চক্র মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অসাধু মাছ শিকারিরা নিজেদের ভোগ ও বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে অবাধে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করছেন। এসব জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ছে। ফলে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা মাছও রক্ষা পাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ শিকারি জানান, বর্ষার নতুন পানি এলেই তারা চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করেন। এ জালে শুধু মাছ নয়, সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। ফলে জলজ পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দশক আগেও হোসেনপুর অঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে প্রায় আড়াই শতাধিক প্রজাতির দেশীয় মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু পরিবেশগত পরিবর্তন, জলাশয় দখল, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং নির্বিচারে ডিমওয়ালা মাছ শিকারের কারণে এসব মাছের অনেক প্রজাতিই এখন প্রায় বিলুপ্ত।

কিশোরগঞ্জ মৎস্য ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের অসচেতনতা বড় কারণ। নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহার মাছের প্রজনন ধ্বংস করছে। হারিয়ে যাওয়া দেশীয় মাছ সংরক্ষণে এখন ব্যাপক গবেষণা চলছে। তবে গবেষণার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কঠোর আইন প্রয়োগও জরুরি।

হোসেনপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাবিকুন নাহার বলেন, “চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে এসব জাল জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, শুধু অভিযান চালালেই হবে না; নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন, বিক্রি ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে খাল-বিল দখলমুক্ত করে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে হোসেনপুরের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতিই অচিরেই ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে।

পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ টানা বৃষ্টিতে ধসে গেছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে ভারী বর্ষণের মধ্যে চরফরাদী ইউনিয়নের নামা মির্জাপুর গ্রামের শামছ ফাতেমা হাফিজিয়া মাদ্রাসার সামনে সড়কটির একটি বড় অংশ ধসে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি মির্জাপুর, নামা মির্জাপুর, বর্ষাগাতি, কুড়তালা, চালিয়াগোপ ও দিয়াপাড়া গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে কোনো রকমে চলাচল করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনায়েম বলেন, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। সড়কটি ধসে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চরফরাদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সৈয়দুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নির্মাণের সময় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ভারী বৃষ্টিতে সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, এলজিইডির অধীনে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের একটি অংশ ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি ইউপি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েকটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

শাহীন আলম প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আকন্দের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের চৌদ্দশত পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ও তাঁর ভাই-বোন সবাই এই মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কখনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেনি; বরং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল মাদরাসা ও অধ্যক্ষের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

শাহীন আলম বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এ মাদরাসার শিক্ষার্থী। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষ কখনো অতিরিক্ত অর্থ নেননি; বরং অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে কম টাকায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বর্তমান শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের নেতৃত্বে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আচরণও ইতিবাচক। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে একটি মহল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে তাঁদের ধারণা। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদরাসাটি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে তাঁরা সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেছেন। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়মিত রসিদ দেওয়া হয়েছে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়। বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কমিশন ও মাটি কাটার অর্থ নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উদ্বৃত্ত অর্থ মাদরাসার উন্নয়নমূলক কাজেই ব্যয় করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে এক অভিভাবক মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি প্রকল্পের অর্থের অপব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের হিসাব গোপন রাখার অভিযোগ তোলেন।

ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার বৃষ্টির মধ্যেও বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

ভৈরবে শতবর্ষী ভবনের বারান্দা ধস, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ব্যবসায়ী ও পথচারীরা

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
ভৈরবে শতবর্ষী ভবনের বারান্দা ধস, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ব্যবসায়ী ও পথচারীরা

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি পুরোনো ভবনের বারান্দার একাংশ ধসে পড়েছে। রোববার (১২ জুলাই) রাতে ভৈরব বাজারের দুধপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাস্থলে থাকা এক ডিম ব্যবসায়ী ও কয়েকজন পথচারী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধসে পড়া ভবনটি প্রায় শতবর্ষী এবং দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ঘটনার সময় বৃষ্টির কারণে রাস্তায় মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম ছিল। এছাড়া বাজারেও স্বাভাবিকের তুলনায় ভিড় কম থাকায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে।

খবর পেয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশিদ এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সরোয়ার বাতেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এ কারণে ভৈরব পৌরসভা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মালিক তারেক আহমেদকে নোটিশ দেয়। তবে নোটিশের পরও ভবনটির দোতলা জাল ব্যবসায়ীদের গুদাম এবং নিচতলা ডিম ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ভবনটি দ্রুত ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. মামুনুর রশিদ বলেন, “ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জননিরাপত্তার স্বার্থে ভবন মালিককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।”


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41