মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

বিতর্কিত পেনাল্টিতে সেনেগালের স্বপ্নভঙ্গ, শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিতর্কিত পেনাল্টিতে সেনেগালের স্বপ্নভঙ্গ, শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে বেলজিয়াম ও সেনেগালের লড়াই শেষ পর্যন্ত গড়ায় বিতর্কে। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর রেফারির দেওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বেলজিয়াম। জয়সূচক গোলটি করেন ইউরি টিলেমান্স। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রেফারির সেই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত।

নির্ধারিত সময় শেষে দুই দল ২-২ সমতায় থাকায় ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। সেনেগালের ডিফেন্ডার লামিনে কামারা বল ক্লিয়ার করতে স্লাইড ট্যাকল করেন। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, বলে স্পর্শ করার আগেই তাঁর পা বেলজিয়ামের ইউরি টিলেমান্সের সঙ্গে সংস্পর্শে আসে।

মাঠে থাকা রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিলেও পরে ভিএআর কর্মকর্তাদের পরামর্শে মনিটরে রিপ্লে পর্যালোচনা করেন। পুনরায় ভিডিও দেখার পর তিনি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। সেই পেনাল্টি থেকেই জয়সূচক গোল করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।

রেফারির এই সিদ্ধান্তের পরপরই সেনেগালের খেলোয়াড়রা তীব্র আপত্তি জানান। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিদ্ধান্তটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক পেনাল্টির সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন, আবার অনেকে এটিকে ফুটবলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত বলেও মত দেন।

ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল আইটিভিকে বলেন, “আমার সত্যিই মনে হয় না এটা পেনাল্টি। টিলেমান্স যদি আগে বলে স্পর্শ করতেন এবং এরপর লাথি খেতেন, তবেই এটি পেনাল্টি হওয়ার যোগ্য ছিল।”

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন নাইজেরিয়ার সাবেক অধিনায়ক জন ওবি মিকেল। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে কারা খেলছে, তার ওপর ভিত্তি করে খেলার নিয়ম বদলে যাচ্ছে। একই ঘটনা অন্য কোনো দলের ক্ষেত্রে ঘটলে রেফারি নিশ্চিতভাবেই পেনাল্টি দিতেন না।”

ম্যাচ শেষে সেনেগালের খেলোয়াড়দের হতাশা ছিল স্পষ্ট। শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে হার মেনে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হওয়ায় দলটির খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়।

অন্যদিকে, বেলজিয়ামের জন্য এই জয় ছিল শেষ ষোলো নিশ্চিত করার উপলক্ষ। নাটকীয় এই জয়ের মাধ্যমে তারা টুর্নামেন্টে টিকে থাকলেও ম্যাচের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে রেফারির সিদ্ধান্ত।

ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভিএআর চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন করা। তবে এই ম্যাচের ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ভিডিও প্রযুক্তি ব্যবহারের পরও কেন একই সিদ্ধান্ত নিয়ে এত বড় বিতর্ক তৈরি হলো।

রেফারির সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল কি না, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচটি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সেতু নেই, বাঁশের সাঁকোই ভরসা: হোসেনপুরে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
সেতু নেই, বাঁশের সাঁকোই ভরসা: হোসেনপুরে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের দক্ষিণ চর হাজীপুর মাঝিবাড়ি থেকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মাস্টার বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়কে একটি ছোট সেতুর অভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগপথে একটি ছোট সেতু নির্মাণ করা হয়নি। ফলে কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁশের সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত ব্যাহত হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনারও শিকার হতে হয়। একই সঙ্গে জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও দেখা দেয় চরম দুর্ভোগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের দুই পাড়ের মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছেন। কৃষিপণ্য বহন কিংবা মোটরসাইকেল পারাপার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, জিনারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ ফসলি জমি খালের অপর পাশে অবস্থিত। ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য মাঠ থেকে বাড়িতে আনতে অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় প্রবীণ ও সাবেক গ্রাম সরকার সদস্য আবেদ আলী বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে আমরা শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি। একটি ছোট সেতুর অভাবে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। আমরা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।”

স্থানীয় কৃষক মোসারফ হোসেন বলেন, “আমাদের জমি খালের ওপারে। ধান, পাটসহ সব কৃষিপণ্য এই বাঁশের সাঁকো দিয়েই আনতে হয়। এতে সময়, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় কৃষিপণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাসুম বলেন, “এটি শুধু একটি গ্রামের দাবি নয়; কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক মাঝি বলেন, “এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ সহ্য করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করুক।”

স্কুলশিক্ষার্থী আশিক বলে, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে ভয় লাগে। বর্ষাকালে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এখানে একটি সেতু হলে নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব।”

এলাকার প্রবীণদের ভাষ্য, অতীতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সেতু নির্মাণের আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, একটি ছোট সেতু নির্মাণ হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “সেতু নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ টানা বৃষ্টিতে ধসে গেছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে ভারী বর্ষণের মধ্যে চরফরাদী ইউনিয়নের নামা মির্জাপুর গ্রামের শামছ ফাতেমা হাফিজিয়া মাদ্রাসার সামনে সড়কটির একটি বড় অংশ ধসে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি মির্জাপুর, নামা মির্জাপুর, বর্ষাগাতি, কুড়তালা, চালিয়াগোপ ও দিয়াপাড়া গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে কোনো রকমে চলাচল করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনায়েম বলেন, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। সড়কটি ধসে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চরফরাদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সৈয়দুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নির্মাণের সময় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ভারী বৃষ্টিতে সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, এলজিইডির অধীনে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের একটি অংশ ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি ইউপি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েকটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

শাহীন আলম প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আকন্দের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের চৌদ্দশত পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ও তাঁর ভাই-বোন সবাই এই মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কখনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেনি; বরং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল মাদরাসা ও অধ্যক্ষের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

শাহীন আলম বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এ মাদরাসার শিক্ষার্থী। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষ কখনো অতিরিক্ত অর্থ নেননি; বরং অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে কম টাকায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বর্তমান শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের নেতৃত্বে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আচরণও ইতিবাচক। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে একটি মহল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে তাঁদের ধারণা। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদরাসাটি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে তাঁরা সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেছেন। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়মিত রসিদ দেওয়া হয়েছে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়। বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কমিশন ও মাটি কাটার অর্থ নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উদ্বৃত্ত অর্থ মাদরাসার উন্নয়নমূলক কাজেই ব্যয় করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে এক অভিভাবক মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি প্রকল্পের অর্থের অপব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের হিসাব গোপন রাখার অভিযোগ তোলেন।

ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার বৃষ্টির মধ্যেও বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41