বিতর্কিত পেনাল্টিতে সেনেগালের স্বপ্নভঙ্গ, শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে বেলজিয়াম ও সেনেগালের লড়াই শেষ পর্যন্ত গড়ায় বিতর্কে। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর রেফারির দেওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বেলজিয়াম। জয়সূচক গোলটি করেন ইউরি টিলেমান্স। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রেফারির সেই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত।
নির্ধারিত সময় শেষে দুই দল ২-২ সমতায় থাকায় ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। সেনেগালের ডিফেন্ডার লামিনে কামারা বল ক্লিয়ার করতে স্লাইড ট্যাকল করেন। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, বলে স্পর্শ করার আগেই তাঁর পা বেলজিয়ামের ইউরি টিলেমান্সের সঙ্গে সংস্পর্শে আসে।
মাঠে থাকা রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিলেও পরে ভিএআর কর্মকর্তাদের পরামর্শে মনিটরে রিপ্লে পর্যালোচনা করেন। পুনরায় ভিডিও দেখার পর তিনি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। সেই পেনাল্টি থেকেই জয়সূচক গোল করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।
রেফারির এই সিদ্ধান্তের পরপরই সেনেগালের খেলোয়াড়রা তীব্র আপত্তি জানান। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিদ্ধান্তটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক পেনাল্টির সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন, আবার অনেকে এটিকে ফুটবলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত বলেও মত দেন।
ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল আইটিভিকে বলেন, “আমার সত্যিই মনে হয় না এটা পেনাল্টি। টিলেমান্স যদি আগে বলে স্পর্শ করতেন এবং এরপর লাথি খেতেন, তবেই এটি পেনাল্টি হওয়ার যোগ্য ছিল।”
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন নাইজেরিয়ার সাবেক অধিনায়ক জন ওবি মিকেল। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে কারা খেলছে, তার ওপর ভিত্তি করে খেলার নিয়ম বদলে যাচ্ছে। একই ঘটনা অন্য কোনো দলের ক্ষেত্রে ঘটলে রেফারি নিশ্চিতভাবেই পেনাল্টি দিতেন না।”
ম্যাচ শেষে সেনেগালের খেলোয়াড়দের হতাশা ছিল স্পষ্ট। শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে হার মেনে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হওয়ায় দলটির খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়।
অন্যদিকে, বেলজিয়ামের জন্য এই জয় ছিল শেষ ষোলো নিশ্চিত করার উপলক্ষ। নাটকীয় এই জয়ের মাধ্যমে তারা টুর্নামেন্টে টিকে থাকলেও ম্যাচের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে রেফারির সিদ্ধান্ত।
ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভিএআর চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন করা। তবে এই ম্যাচের ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ভিডিও প্রযুক্তি ব্যবহারের পরও কেন একই সিদ্ধান্ত নিয়ে এত বড় বিতর্ক তৈরি হলো।
রেফারির সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল কি না, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচটি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।













