অষ্টগ্রামে কৃষকদের পাশে সরকার, বিতরণ করা হলো নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য
ভাটি অঞ্চলে অতি বৃষ্টিপাত ও আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় ৬ হাজার ৪০০ কৃষকের মাঝে নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষককে মে ও জুন মাসের দুই কিস্তির মোট ৬ হাজার টাকা নগদ সহায়তা এবং ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার কারণে উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে অনেক কৃষক তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে না পেরে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। কৃষকদের সেই ক্ষতি আংশিকভাবে পুষিয়ে নিতে এবং তাদের জীবন-জীবিকা সচল রাখতে সরকার এ বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করে।
সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগী কৃষকরা। তারা জানান, ফসলহানির পর চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। সরকারের দেওয়া এ সহায়তা তাদের পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে এবং নতুন করে কৃষিকাজের প্রস্তুতি নিতে সহায়ক হবে।
উপজেলার কয়েকজন কৃষক বলেন, বন্যার কারণে তারা ঋণের বোঝা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা তাদের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে। তবে তারা ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য আরও বিস্তৃত সহায়তা কর্মসূচির দাবি জানান।
এদিকে সহায়তা বিতরণকে ঘিরে কিছু অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন কৃষকের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত নন কিংবা সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন কিছু ব্যক্তির নামও উপকারভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার বলেন, “যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে কোনো অযোগ্য বা অক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা চাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাই যেন সরকারি সহায়তার সুফল পান।”
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপরও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে সহায়তা বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃত উপকারভোগীরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে কৃষি খাতকে দুর্যোগের ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।










