মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কটিয়াদীতে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কটিয়াদীতে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

কৃষিই সমৃদ্ধি এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে সার, উন্নত জাতের রোপা আমন ধানের বীজ, গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ, হাইব্রিড মরিচের বীজ ও লেবুর চারা বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-২(কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে বৃহস্পতিবার দুপুরে কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ’র সভাপতিত্বে এবং উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. আজহার মাহমুদ’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এই নীতিকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার কৃষকদের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। উন্নতমানের বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করাই সরকারের লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, সরকার চায় প্রকৃত কৃষকরাই যেন সরকারি প্রণোদনার সুবিধা পান। কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই কৃষি বিভাগের মাধ্যমে তালিকা প্রণয়ন করে প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে এসব উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকদের জীবনমানেরও উন্নয়ন ঘটবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির লক্ষ্য, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং উপজেলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত উপকরণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে উফশী রোপা আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের মোট ১ হাজার ৯০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে জনপ্রতি ৫ কেজি উন্নতমানের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২০ কেজি রাসায়নিক সার (ডিএপি ও এমওপি) প্রদান করা হবে। এছাড়া ১ হাজার ৫০০ জন কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি ৩০ কেজি রাসায়নিক সার এবং ৩০০ গ্রাম করে গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ বিতরণ করা হবে। এসব বীজের মধ্যে রয়েছে কলমি শাক, পুঁইশাক, বেগুন, শিম, মিষ্টি কুমড়া, লাউ ও চাল কুমড়ার বীজ। অন্যদিকে ১৪০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ১০ কেজি রাসায়নিক সার ও ১০ গ্রাম হাইব্রিড মরিচের বীজ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২০ জন নির্বাচিত কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি পাঁচটি করে উন্নত জাতের লেবুর চারা বিতরণ করা হবে। সব মিলিয়ে উপজেলার ৩ হাজার ৫৬০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এ কর্মসূচির আওতায় সরকারি সহায়তা পাবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু কৃষকদের উপকরণ সহায়তা দেওয়া নয় বরং কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করা। উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে এসব উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন, শফিকুর রহমান বাদল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল, সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, হাজী মোহাম্মদ আলীসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, সুধীজন এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন ও পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদনসহ অতিথিবৃন্দ নির্বাচিত কৃষকদের হাতে রোপা আমনের বীজ, গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ, হাইব্রিড মরিচের বীজ, রাসায়নিক সার ও লেবুর চারা তুলে দিয়ে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে কৃষি অফিস পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভার তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে।

পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ টানা বৃষ্টিতে ধসে গেছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে ভারী বর্ষণের মধ্যে চরফরাদী ইউনিয়নের নামা মির্জাপুর গ্রামের শামছ ফাতেমা হাফিজিয়া মাদ্রাসার সামনে সড়কটির একটি বড় অংশ ধসে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি মির্জাপুর, নামা মির্জাপুর, বর্ষাগাতি, কুড়তালা, চালিয়াগোপ ও দিয়াপাড়া গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে কোনো রকমে চলাচল করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনায়েম বলেন, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। সড়কটি ধসে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চরফরাদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সৈয়দুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নির্মাণের সময় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ভারী বৃষ্টিতে সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, এলজিইডির অধীনে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের একটি অংশ ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি ইউপি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েকটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

শাহীন আলম প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আকন্দের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের চৌদ্দশত পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ও তাঁর ভাই-বোন সবাই এই মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কখনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেনি; বরং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল মাদরাসা ও অধ্যক্ষের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

শাহীন আলম বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এ মাদরাসার শিক্ষার্থী। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষ কখনো অতিরিক্ত অর্থ নেননি; বরং অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে কম টাকায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বর্তমান শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের নেতৃত্বে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আচরণও ইতিবাচক। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে একটি মহল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে তাঁদের ধারণা। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদরাসাটি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে তাঁরা সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেছেন। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়মিত রসিদ দেওয়া হয়েছে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়। বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কমিশন ও মাটি কাটার অর্থ নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উদ্বৃত্ত অর্থ মাদরাসার উন্নয়নমূলক কাজেই ব্যয় করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে এক অভিভাবক মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি প্রকল্পের অর্থের অপব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের হিসাব গোপন রাখার অভিযোগ তোলেন।

ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার বৃষ্টির মধ্যেও বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

ভৈরবে শতবর্ষী ভবনের বারান্দা ধস, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ব্যবসায়ী ও পথচারীরা

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
ভৈরবে শতবর্ষী ভবনের বারান্দা ধস, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ব্যবসায়ী ও পথচারীরা

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি পুরোনো ভবনের বারান্দার একাংশ ধসে পড়েছে। রোববার (১২ জুলাই) রাতে ভৈরব বাজারের দুধপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাস্থলে থাকা এক ডিম ব্যবসায়ী ও কয়েকজন পথচারী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধসে পড়া ভবনটি প্রায় শতবর্ষী এবং দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ঘটনার সময় বৃষ্টির কারণে রাস্তায় মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম ছিল। এছাড়া বাজারেও স্বাভাবিকের তুলনায় ভিড় কম থাকায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে।

খবর পেয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশিদ এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সরোয়ার বাতেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এ কারণে ভৈরব পৌরসভা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মালিক তারেক আহমেদকে নোটিশ দেয়। তবে নোটিশের পরও ভবনটির দোতলা জাল ব্যবসায়ীদের গুদাম এবং নিচতলা ডিম ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ভবনটি দ্রুত ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. মামুনুর রশিদ বলেন, “ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জননিরাপত্তার স্বার্থে ভবন মালিককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।”


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41