বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কটিয়াদীতে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

কটিয়াদী প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কটিয়াদীতে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে খরিপ-২ মৌসুমে আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে আমন ধানের বীজ, রাসায়নিক সার, গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ, মরিচের বীজ ও লেবুর চারা বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ উপলক্ষে এক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আজহার মাহমুদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিঠুসহ উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার মোট ৩ হাজার ৫৬০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১৫ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচিত কৃষকদের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ, মরিচের বীজ ও লেবুর চারাও বিতরণ করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার নিয়মিতভাবে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, সরকারি সহায়তায় দেওয়া উন্নতমানের বীজ ও সার সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আমনের আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে আরও উৎসাহিত করার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত কৃষকদের হাতে প্রতীকীভাবে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ তুলে দেন।

কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি, অনিয়মে কঠোর হুঁশিয়ারি

কটিয়াদী প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি, অনিয়মে কঠোর হুঁশিয়ারি

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন আকস্মিকভাবে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন, ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবার সার্বিক মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হাসপাতালে কোনো ধরনের অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা রোগীদের সঙ্গে অসদাচরণ বরদাশত করা হবে না। চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, জরুরি বিভাগে সবসময় এমবিবিএস চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে কোনো রোগীকে অযথা অন্যত্র রেফার করা যাবে না। রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পরই প্রয়োজন হলে রেফারের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, অ্যাম্বুলেন্স সেবা সচল রাখা এবং ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অযাচিত আনাগোনা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ শাহরিয়ার অনিক, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমানসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে ৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে ৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন

‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিদ্যমান আইনকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এ সংশোধনী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো পর্যালোচনা শেষে কমিটি প্রয়োজনীয় মতামত ও সুপারিশ মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করবে।

এইচএসসিতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৩৬ শতাংশই পরীক্ষায় নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
এইচএসসিতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৩৬ শতাংশই পরীক্ষায় নেই

সংগ্রহীত ছবি

এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না। প্রতিবছরই এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় নিবন্ধন করা কিছু শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেন না। তবে চলতি বছরে এ হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও নিবন্ধন করেছিলেন।

তবে তাঁদের সবাই এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। ফলে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নিয়মিত শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। সংখ্যার হিসাবে যা মোট নিয়মিত পরীক্ষার্থীর প্রায় ৩৬ শতাংশ।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া নিয়মিত শিক্ষার্থীর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপস্থিতির হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। সে সময় নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সোয়া ৪ লাখের বেশি শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেননি।

এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার হার প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, এ প্রবণতার পেছনে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া, শিক্ষাজীবনে দীর্ঘ বিরতি, আর্থিক সংকট, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা কারণ, কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়ে পড়া কিংবা উচ্চশিক্ষার প্রতি অনাগ্রহসহ একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এবং এর কারণ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন শিক্ষাবিদেরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।