বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত, ব্যয় গত সপ্তাহের চেয়ে বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত, ব্যয় গত সপ্তাহের চেয়ে বেশি

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা স্তিমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশি দামে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আন্তর্জাতিক কোটেশনের ভিত্তিতে দুই কার্গো এলএনজি আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। অথচ গত সপ্তাহে একই পরিমাণ এলএনজি আমদানির জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি ব্যয় প্রায় ৮২ কোটি টাকা বেড়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবের আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সভা-পরবর্তী অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দুই কার্গো এলএনজি বিপি সিঙ্গাপুর এবং টোটাল অ্যানার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার (যুক্তরাজ্য) থেকে আমদানি করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাবে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। সে সময় একেকটি কার্গোর মূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তবে গত সপ্তাহে আমদানি ব্যয় কমে কার্গোপ্রতি গড় খরচ ৭০০ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছিল। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও সেই ব্যয় ৭০০ কোটি টাকার ওপরে উঠে এসেছে।

এর আগে গত ২৪ জুন সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠকে সিঙ্গাপুরভিত্তিক অ্যারামকো ট্রেডিং ও গানভর সিঙ্গাপুর থেকে পৃথকভাবে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এরও আগে ১৭ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিন কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন ভাইটল এশিয়া, অ্যারামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর এবং টোটাল অ্যানার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার থেকে তিনটি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত হয়। ওই তিন কার্গো আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ১১২ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রতিটি কার্গোর গড় মূল্য ছিল ৭০০ কোটি টাকার বেশি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জুনের শুরু এবং মে মাসে যেসব এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর গড় মূল্য বর্তমানের তুলনায় আরও বেশি ছিল।

এদিকে একই বৈঠকে দেশের খাদ্য ও কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন এবং আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত।

এ ছাড়া কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কানাডা ও রাশিয়া থেকে ৭৫ হাজার টন এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার আমদানিরও অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

রাত পোহালেই শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কিশোরগঞ্জে কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
রাত পোহালেই শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কিশোরগঞ্জে কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ

রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দেশব্যাপী একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হবে, যা চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত এবং ৯ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে।

শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে, অর্থাৎ সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে নিজ নিজ পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এমসিকিউ অংশের জন্য সময় ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরীক্ষাকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে সারাদেশে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের প্রহরায় কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া এবং মোবাইলে সেট কোড পাওয়ার পর প্রশ্নপত্রের সিল খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের জন্য মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন নিষিদ্ধ থাকছে। তবে নন-প্রোগ্রামেবল হাতঘড়ি ও অনুমোদিত সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।

এদিকে, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ২ জুলাই থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত জেলার সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সব ফটোকপি মেশিনের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, পরীক্ষা গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নফাঁস, নকল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মতো যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শান্ত ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

হোসেনপুরে অবাধে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে অবাধে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। আইন অনুযায়ী এসব জাল উৎপাদন, বিক্রি, পরিবহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে প্রকাশ্যেই এসব জালের ব্যবহার বেড়ে চলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ খাল-বিল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের শিকার। বর্ষা মৌসুমে এসব জলাশয় পানিতে পরিপূর্ণ হলে একসময় দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তখন মৎস্যজীবীরা ছাই, পলো, ঠেলা জাল, বড়শিসহ দেশীয় বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে পর্যাপ্ত মাছ শিকার করতেন।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, প্রায় এক দশক আগেও বর্ষা মৌসুমে এসব খাল-বিলে পর্যাপ্ত দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের নির্বিচার ব্যবহারের কারণে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন চক্র মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অসাধু মাছ শিকারিরা নিজেদের ভোগ ও বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে অবাধে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করছেন। এসব জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ছে। ফলে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা মাছও রক্ষা পাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ শিকারি জানান, বর্ষার নতুন পানি এলেই তারা চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করেন। এ জালে শুধু মাছ নয়, সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। ফলে জলজ পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দশক আগেও হোসেনপুর অঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে প্রায় আড়াই শতাধিক প্রজাতির দেশীয় মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু পরিবেশগত পরিবর্তন, জলাশয় দখল, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং নির্বিচারে ডিমওয়ালা মাছ শিকারের কারণে এসব মাছের অনেক প্রজাতিই এখন প্রায় বিলুপ্ত।

কিশোরগঞ্জ মৎস্য ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের অসচেতনতা বড় কারণ। নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহার মাছের প্রজনন ধ্বংস করছে। হারিয়ে যাওয়া দেশীয় মাছ সংরক্ষণে এখন ব্যাপক গবেষণা চলছে। তবে গবেষণার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কঠোর আইন প্রয়োগও জরুরি।

হোসেনপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাবিকুন নাহার বলেন, “চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে এসব জাল জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, শুধু অভিযান চালালেই হবে না; নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন, বিক্রি ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে খাল-বিল দখলমুক্ত করে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে হোসেনপুরের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতিই অচিরেই ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে।

হোসেনপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা শাহীনের সংবর্ধনা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা শাহীনের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন আহমেদ শাহীনকে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে সিক্ত হন তিনি।

বুধবার (১ জুলাই) হোসেনপুর সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হোসেনপুরের একজন ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন আহমেদ শাহীনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি স্থানীয় নেতাকর্মীদের জন্য গর্বের বিষয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর নেতৃত্বে যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে।

বক্তারা আরও বলেন, দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও পরিশ্রমী নেতাদের মূল্যায়ন করায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রশংসার দাবিদার। ঐক্যবদ্ধভাবে দলের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাফায়েত হোসেন সম্রাট, সদস্য সচিব এবিএম জহির উদ্দিন সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান লিমন এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও হোসেনপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান চন্দন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আলম সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হক নাঈম, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন রাজিব, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাজিব আহম্মদ, সদস্য সচিব লিমন মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শওকত হোসেন, সদস্য সচিব আল আমিন ভূঁইয়া, তাঁতী দলের সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম এবং যুগ্ম সদস্য সচিব লুৎফর রহমান।

এ ছাড়া উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন আহমেদ শাহীনকে ফুলের মালা ও ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের ব্যানারে দলীয় বিভিন্ন স্লোগান স্থান পায়।

সংবর্ধনার জবাবে অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন আহমেদ শাহীন নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার সঙ্গে পালন করবেন। একই সঙ্গে হোসেনপুরে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন আহমেদ শাহীন হোসেনপুরের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন এবং দলের কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা দেবেন।