রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জে ৪১৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে ৪১৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় ৪১৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে সাদ্দাম নামে এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সদর উপজেলার গাইটাল পাক্কার মাথা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগ অবৈধভাবে সংগ্রহ করে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ও দোকানে পাইকারি বিক্রি করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে প্রায় ৪১৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সূফি সাজ্জাদ আল ফোজায়েল। ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শুভ্র চন্দ্র বিশ্বশর্মা।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ পরিবহন ও বিপণনের দায়ে ওই ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা পলিথিন আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

অভিযান শেষে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিষিদ্ধ পলিথিনের পরিবেশগত ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। পাশাপাশি পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব চট, কাপড় বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মমিন ভূঁইয়া বলেন, “নিষিদ্ধ পলিথিন পরিবেশ, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এর উৎপাদন, মজুত, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ

স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারসংক্রান্ত কমিটির পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান। স্থানীয় সরকার বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও মো. শহীদুল হাসানকে সচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ, চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।

পরে দুপুর ১২টায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে একই বিষয়ে পৃথক আরেকটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল আই মোহাম্মদ সভাপতিত্ব করেন।

সাম্প্রতিক সরকারি বদলি আদেশ অনুযায়ী, ড. রফিকুল আই মোহাম্মদকে ২১ আগস্ট পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে। এর আগে তিনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সভায় এ বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের বর্তমান ব্যবহার, বাস্তবায়নাধীন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং চলমান উদ্যোগগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে একদিকে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর শাহে আলম দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটে তাঁকে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার প্রধান। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনীর প্রধান রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। একই সঙ্গে তাঁরা নিজ নিজ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক ও চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি আধুনিক ও সক্ষম সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

বঙ্গভবনের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, তিন বাহিনীর প্রধান তাঁদের দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাহিনীর সার্বিক উন্নয়ন ও সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

কুলিয়ারচরে টেলিকম দোকানে চুরি, ময়মনসিংহে প্রধান অভিযুক্ত আটক

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
কুলিয়ারচরে টেলিকম দোকানে চুরি, ময়মনসিংহে প্রধান অভিযুক্ত আটক

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের ডুমরাকান্দা বাজারে স্মার্ট টেলিকমে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ময়মনসিংহ থেকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে ডুমরাকান্দা বাজারের ব্যবসায়ী ইজ্জত আলীর মালিকানাধীন স্মার্ট টেলিকমে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা দোকান থেকে পাঁচটি দামি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন, বিপুল পরিমাণ মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।

চুরির পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জড়িতদের শনাক্ত এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আটকের পর চুরি যাওয়া মালামাল ও নগদ টাকার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে চুরি যাওয়া সব মালামাল এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া মালামাল ও খোয়া যাওয়া নগদ টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে।

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে কি না, হলে মামলার নম্বর ও কোন ধারায় মামলা হয়েছে—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজন আটক হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকসহ ডুমরাকান্দা বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে চুরি যাওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।