স্কুলগামী ১,৫০০ শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি: বাজিতপুরের রশি মার্কেটে জমে আছে ময়লার স্তূপ
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌর এলাকার রশি মার্কেট সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ গলির সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার কারণে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়ক ব্যবহারকারী প্রায় ১,৫০০ স্কুলগামী শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যঝুঁকি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রশি মার্কেটের ভেতরের এই গলিপথটি বাজিতপুর শহরের অন্যতম ব্যস্ত চলাচলের রাস্তা। প্রতিদিন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী এই পথ ব্যবহার করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে ও বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং তা অপসারণ না করায় পুরো এলাকা দুর্গন্ধে ছেয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে স্তূপাকারে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পচনশীল বর্জ্যের কারণে মাছি, মশা ও বিভিন্ন রোগবাহক পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে। ফলে পথচারীদের নাক চেপে এবং চরম অস্বস্তির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন জমে থাকা আবর্জনা পচে ড্রেনের পানির সঙ্গে মিশে আশপাশের পরিবেশ দূষিত করে। অনেক সময় সড়কের ওপর ময়লা ছড়িয়ে পড়ে, ফলে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তারা উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ময়লা অপসারণ এবং স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর না হওয়ায় জনদুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন আমাদের সন্তানদের এই দুর্গন্ধযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্য দিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা চাই দ্রুত এই ময়লার স্তূপ অপসারণ করে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানান, দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা অনেক সময় দোকানে আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা জমে থাকলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, চর্মরোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তারা নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে এবং দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।







