শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও হাসপাতাল পরিদর্শন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও হাসপাতাল পরিদর্শন

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালি, প্রচারণা কর্মসূচি ও হাসপাতাল পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়।

“নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি” এবং “তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন”—এ দুটি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়।

র‍্যালি শেষে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল করিম এবং কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর মোহাম্মদ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তারা ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন, চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে অবগত হন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তারা।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব পর্যায়ের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। নিজের বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”

তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। তবে জনসচেতনতা ছাড়া এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস এবং আশপাশের এলাকায় তিন দিনের বেশি কোনো পাত্রে পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার, ডাবের খোসা, বালতি, ড্রাম ও অন্যান্য পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানান, এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। তাই শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার এবং শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসকরা জানান, তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও মাংসপেশীতে ব্যথা, বমিভাব এবং শরীরে লালচে দানা ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তারা আরও বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। কারণ কিছু ওষুধ ডেঙ্গু রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সচেতন হলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে।

সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় এলাকাবাসী, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় এলাকাবাসী, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামে অটোরিকশাচালক মো. সোহেলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক মো. সোহেলের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলায় গুরুতর আহত সোহেল বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, আহত সোহেলের মা মোছা. হাজেরা খাতুন গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে হোসেনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-০৭।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ওপর এ ধরনের নৃশংস হামলা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্ত মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. আল-আমীন, মো. মাজিম উদ্দিন ও মো. ফুল চাঁদসহ অন্যরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও অধিকাংশের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে। একই সঙ্গে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে হামলার প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা জানান, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে অটোরিকশা চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তার ওপর হামলার ঘটনায় পরিবারটি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “উক্ত মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

‘প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিন’-পাকুন্দিয়ায় সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
‘প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিন’-পাকুন্দিয়ায় সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করি, ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পৌর সদরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা স্বর্ণা চক্রবর্তী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাকুন্দিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নিতাই দাস, পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক মাসুদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের বাসাবাড়ি, আঙিনা এবং আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অন্যতম প্রধান উৎস। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে শুধু একটি দিন নয়, প্রতিদিনই নিজ নিজ পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।”

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে এডিস মশার বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অস্ত্রোপচার সক্ষমতা বাড়াতে জহুরুল ইসলাম মেডিকেলে আধুনিক ওটি কমপ্লেক্স

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
অস্ত্রোপচার সক্ষমতা বাড়াতে জহুরুল ইসলাম মেডিকেলে আধুনিক ওটি কমপ্লেক্স

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে অবস্থিত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণ এবং রোগীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন ওটি (অপারেশন থিয়েটার) কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। হাসপাতালের বিদ্যমান অপারেশন থিয়েটার কমপ্লেক্সের সঙ্গে নতুন করে চারটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার সংযোজন করা হয়েছে, যা হাসপাতালের অস্ত্রোপচার সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সম্প্রতি আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. বাহার উদ্দিন ভূঞা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. সাঈদ হাসান, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. খালিকুল ইসলাম, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এস. এম. ইউসুফ ভূঁইয়া, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. বাহার উদ্দিন ভূঞা বলেন, “চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। নতুন এই অপারেশন থিয়েটারগুলো হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগীদের জন্য আরও নিরাপদ, উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের অস্ত্রোপচার সেবা নিশ্চিত করবে। আমাদের লক্ষ্য, দেশের বড় বড় হাসপাতালের মতো আধুনিক চিকিৎসাসেবা এখানেই নিশ্চিত করা।”

তিনি আরও বলেন, “রোগীদের আস্থা ও সন্তুষ্টিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। তাই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। মানবিক ও মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দেশের অন্যতম সেরা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. সাঈদ হাসান। তিনি আধুনিক চিকিৎসাসেবায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে অপারেশন থিয়েটার ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং আধুনিক সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে।”

অন্যান্য বক্তারাও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার, রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণ এবং হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা কার্যক্রম আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নতুন চারটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার চালুর ফলে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের জেলার রোগীরা উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের বাড়তি সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা নতুন ওটি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং সেখানে স্থাপিত আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুবিধাসমূহ ঘুরে দেখেন। উপস্থিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নতুন এই সংযোজনকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।