রেলস্টেশন দখল করে তাণ্ডব, ভৈরবে সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যসহ ২৫
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রেলস্টেশন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা, ভাঙচুর ও নৈরাজ্যের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম দখল করে স্টেশন মাস্টারের কক্ষসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতির অবনতির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের অন্তত ৯টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। প্রায় সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভৈরব রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বহু যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ভৈরব রেলস্টেশন এলাকায়। উত্তেজিত লোকজন প্ল্যাটফর্ম দখল করে স্টেশন মাস্টারের কক্ষ ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালায়। এছাড়া প্ল্যাটফর্মে থাকা একাধিক দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের কারণে রেলপথে চলাচলকারী একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। এর মধ্যে ৩৭ আপ নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৭০৩ আপ মহানগর গোধূলী ভৈরব বাজার জংশন আউটার সিগন্যালে, ৭১০ ডাউন পারাবত এক্সপ্রেস তালশহর, ৭২২ ডাউন মহানগর এক্সপ্রেস নরসিংদী, ৭৩৯ আপ উপবন এক্সপ্রেস জিনারদী, ৮১৪ কক্সবাজার এক্সপ্রেস আড়িখোলা, ৭৪৯ এগারসিন্ধু গোধূলী দৌলতকান্দি, নরসিংদী কমিউটার খানাবাড়ি এবং ৬০৬ ডাউন মালবাহী ট্রেন মেথিকান্দা স্টেশনে আটকা পড়ে।
দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক যাত্রী স্টেশন ও ট্রেনের ভেতরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। কেউ কেউ বিকল্প পরিবহনের খোঁজে স্টেশন ত্যাগ করেন।
সংঘর্ষে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য মুছা মিয়াসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ, ভৈরব থানা পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে সংঘর্ষে জড়িতদের ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায়। পরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রাত পৌনে ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ বলেন, “ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে রেলস্টেশন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হামলাকারীরা স্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনা ও দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়। সংঘর্ষ শুরু হলে যাত্রীরা আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে থাকেন।”
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, “ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সামান্য খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতা এবং রেলস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।










