মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাবলম্বিতায় ব্র্যাকের হাঁস পালন কর্মসূচি

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাবলম্বিতায় ব্র্যাকের হাঁস পালন কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি (দাবি)-এর উদ্যোগে হাঁসের বাচ্চা বিতরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ২০ জন উপকারভোগীর মাঝে হাঁসের বাচ্চা বিতরণের পাশাপাশি তাদের হাঁস পালন, পরিচর্যা ও রোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বুধবার ব্র্যাকের করিমগঞ্জ শাখা কার্যালয়ের হলরুমে এ প্রশিক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক করিমগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোবারক হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের করিমগঞ্জ এলাকার এলাকা ব্যবস্থাপক (দাবি) মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. বাছির উদ্দিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সিনিয়র শাখা ব্যবস্থাপক মো. মোবারক হোসেন, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাজমুল হাসানসহ ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে হাঁস পালনকে লাভজনক ও টেকসই আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। উপকারভোগীদের হাঁসের সঠিক পরিচর্যা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, বাসস্থান প্রস্তুতকরণ, রোগ প্রতিরোধ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ২০ জন উপকারভোগীর প্রত্যেককে ২০টি করে হাঁসের বাচ্চা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রধান অতিথি উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁসের বাচ্চা তুলে দেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে হাঁস পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত। স্বল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় বলে এটি দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের জন্য আয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে হাঁস পালন করে অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। হাঁসের বাচ্চা বিতরণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও তারই অংশ। এ ধরনের উদ্যোগ উপকারভোগীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং পরিবারভিত্তিক আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের আর্থিক সক্ষমতা জোরদার করবে।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমিতির সদস্য, উপকারভোগী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপকারভোগীরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে ব্র্যাক কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে উপকারভোগীরা হাঁস পালনকে একটি লাভজনক উদ্যোগে পরিণত করতে সক্ষম হবেন, যা তাদের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে পলিন (৩০) নামে এক যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস।

দণ্ডপ্রাপ্ত পলিন উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের নরপতি গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনাময়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় মাদক সেবনের উপকরণসহ ওই যুবককে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পলিনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জে এসে পৌরসভার সামনে সন্তান কোলে নিয়ে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করছেন রিনা আক্তার মনি নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। তাঁর কোলে রয়েছে এক কন্যাসন্তান। রিনার দাবি, তিনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামী সেলিম মিয়া গাড়ি আনতে যাওয়ার কথা বলে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেননি বলে জানান তিনি।

রিনা আক্তার মনি সেন্টমার্টিন, টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া। সেলিম মিয়ার বাবার নাম আবু কালাম এবং তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রায় পাঁচ বছর আগে রিনা ও সেলিমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে রিনা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

রিনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রিনা, তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া ও তাঁদের সন্তান কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সেলিম তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে রেখে রিনার কাছে থাকা ১ হাজার টাকা নিয়ে গাড়ি আনার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান।

কিন্তু দুপুর পেরিয়ে গেলেও সেলিম আর ফিরে আসেননি বলে জানান রিনা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রিনা জানান, কিশোরগঞ্জে স্বামীর সঠিক ঠিকানা কিংবা তাঁর পরিচিতজনদের সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত জানেন না।

একদিকে কোলে ছোট সন্তান, অন্যদিকে গর্ভে আরেক সন্তান—এ অবস্থায় স্বামীর অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে বসে আছেন রিনা। তাঁর এই অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রিনার স্বামী সেলিম মিয়ার সন্ধান পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন রিনা আক্তার মনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ এবং ‘জমে থাকা পানি অপসারণ করি, ডেঙ্গুমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কাউট দলের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না পারে।

এ সময় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে মশার উপদ্রব কমানো এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জি. এম. শফিউর রহমান।

অভিযান চলাকালে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।