বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খাদ্য নিরাপত্তা আইনের লঙ্ঘন, কটিয়াদীতে মশলা কারখানার মালিককে অর্থদণ্ড

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৯:২১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
খাদ্য নিরাপত্তা আইনের লঙ্ঘন, কটিয়াদীতে মশলা কারখানার মালিককে অর্থদণ্ড

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার কামারকোনা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়া মশলা পুনরায় প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করার অভিযোগে একটি মশলা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা আফরোজ মারলিজ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কামারকোনা মহল্লায় অবস্থিত ‘ফ্যামিলি মশলা’ নামের একটি গুঁড়া মশলা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযানের সময় দেখা যায়, মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়া মশলা নতুন মোড়কে পুনরায় প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খোলা অবস্থায়ও এসব মশলা বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মালিক আল-আমিন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

অভিযান চলাকালে কারখানার উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজারজাতকরণ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “জনস্বাস্থ্য রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ কিংবা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা অসাধু উপায়ে খাদ্যপণ্য বাজারজাত করে জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

অভিযানকালে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সচেতন মহল ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, খাদ্যপণ্যে ভেজাল ও অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলে সাধারণ ভোক্তারা উপকৃত হবেন এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সহজ হবে।

যুবদলের ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কিশোরগঞ্জের ৬ নেতা

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
যুবদলের ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কিশোরগঞ্জের ৬ নেতা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর প্রকাশিত এ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়জন নেতা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে স্থান পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রায় দুই বছর পর সেই কমিটিকে সম্প্রসারণ করে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঘোষিত কমিটিতে রেজাউল কবীর পলককে সিনিয়র সহসভাপতি এবং বিল্লাল হোসেন তারেককে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া ২৮ জনকে সহসভাপতি এবং ২৮ জনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়জন নেতা গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ভৈরব উপজেলার সাইদুর রহমান কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখলা এলাকার খন্দকার আল আশরাফ মামুন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন।

এছাড়া তাড়াইল উপজেলার মজিবর রহমান ভূঁইয়া সবুজকে সহ-সাধারণ সম্পাদক, কটিয়াদী উপজেলার অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মননকে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক, অ্যাডভোকেট মুর্তজা কামাল মোস্তাককে আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং অষ্টগ্রাম উপজেলার অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম আখতারকে মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কিশোরগঞ্জের একাধিক নেতার অন্তর্ভুক্তিকে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জেলার প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।

কমিটি ঘোষণার পর কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নবনির্বাচিত নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও শুভেচ্ছা বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।

দলের নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন কমিটির নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

হোসেনপুরে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা, উন্নয়ন ও জনসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা, উন্নয়ন ও জনসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি নিয়ে ব্যাপক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

সভায় জেলা প্রশাসক উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময় করেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের মতামত মনোযোগ সহকারে শোনেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব। জনগণের কল্যাণে পরিচালিত প্রতিটি কর্মসূচি যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মোহসী মাসনাদ, হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসান জিকো, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আছমা আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. এহছানুল হক এবং হোসেনপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত চন্দ্র শীল।

এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং জনসেবার বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করেন। পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শুকনো খাবার, নগদ অর্থ সহায়তা এবং ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।

সরকারের মানবিক সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

উপস্থিত বক্তারা বলেন, মাঠপর্যায়ের জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রশাসন জনগণের সমস্যাগুলো সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করে। ফলে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।

উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজনের আহ্বান জানান।

এএসআই বুলবুলের বিরুদ্ধে সরকারি সাইনবোর্ড উপড়ে নদীতে ফেলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
এএসআই বুলবুলের বিরুদ্ধে সরকারি সাইনবোর্ড উপড়ে নদীতে ফেলার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন দাবি করা সরকারি জমির সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের একাংশ পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)-এর বিরুদ্ধে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করিমগঞ্জ মৌজার সাবেক দাগ নং ৯৮২ ও ৯৮৯-এর আওতাধীন প্রায় ০.৮৩ একর জমিকে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন উল্লেখ করে সেখানে একটি সরকারি নোটিশ বোর্ড (সাইনবোর্ড) স্থাপন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সাইনবোর্ডে জমির মালিকানা ও দাগসংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি একদল ব্যক্তি ওই সাইনবোর্ডটি উপড়ে ফেলে ভাঙচুর করে। পরে সেটি পাশের নদীতে নিক্ষেপ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বুলবুল মিয়ার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশনা ছিল। তবে অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সরকারি সম্পত্তির সাইনবোর্ড এভাবে অপসারণ ও ভাঙচুরের ঘটনা উদ্বেগজনক। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি সম্পত্তি ও মালিকানাসংক্রান্ত চিহ্ন অপসারণের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল কবির বলেন, “জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা ও মালিকানা রক্ষায় তারা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।