মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

চাঁদা দাবির অভিযোগে তোলপাড় ভৈরব, সংবাদ সম্মেলনের পরই আটক নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
চাঁদা দাবির অভিযোগে তোলপাড় ভৈরব, সংবাদ সম্মেলনের পরই আটক নেতা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে এক নারীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওমর মোহাম্মদ অপু (৩৬)কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি অডিও কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন। তবে সেই সংবাদ সম্মেলনের প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় ভৈরব থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ।

গ্রেপ্তারকৃত ওমর মোহাম্মদ অপু পৌর শহরের পঞ্চবটি পুকুরপাড় এলাকার মোমতাজ হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং পৌর বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কল রেকর্ড নিয়ে ভৈরবজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অডিওটিতে এক নারীর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যায় একজন ব্যক্তিকে। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, ওই অর্থের একটি অংশ এলাকার কিছু যুবক এবং প্রশাসনকে দিতে হবে।

ভাইরাল অডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওমর মোহাম্মদ অপু। সেখানে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তার কণ্ঠস্বর নকল করে একটি ভুয়া অডিও তৈরি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিয়ে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনের কিছু সময় পরই ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এতে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পায় এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মামলার বাদী পপি বেগম অভিযোগ করেন, তিনি কোনো ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তা সত্ত্বেও এলাকায় বসবাস করতে হলে তাকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাপ প্রয়োগ করা হয়। চাঁদার টাকা না দিলে তাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হবে এবং বাড়িঘর বিক্রি করে অন্যত্র চলে যেতে বলা হয়। এমনকি টাকা না দিলে তার বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নিজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে চাঁদা দাবির অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।

ঘটনাটি ভৈরবের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একদিকে সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে নির্দোষ দাবি, অন্যদিকে অল্প সময়ের ব্যবধানে গ্রেপ্তার— পুরো ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, “ভুক্তভোগী নারী পপি বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ওমর মোহাম্মদ অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঁদা দাবি করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবেন না। অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কিশোরগঞ্জে হিন্দু যুব মহাজোটের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে হিন্দু যুব মহাজোটের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

‘সবুজ গড়ি, পরিবেশ বাঁচাই, সুস্থ সুন্দর বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের জেলা শাখা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে শহরের নরোত্তম প্রেমধাম মন্দির থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে শহরের বিভিন্ন মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচিতে বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোট কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহিদাস আচার্য, রাজন মজুমদার ও সজল কর্মকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন সূত্রধর, প্রচার সম্পাদক সৌরভ দেবনাথ, অগ্রদীপ সাহাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে বৃক্ষের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বক্তারা সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও সড়কের পাশে চারা বিতরণ করা হয়। সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের রোপণ করা গাছের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট দেশব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

ভৈরবে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে নারীসহ দুজনের কারাদণ্ড

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
ভৈরবে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে নারীসহ দুজনের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আমলাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আমলাপাড়া এলাকার ছোলাইমান মিয়ার স্ত্রী শম্পা (২৮) এবং একই এলাকার জাহিদ হোসেন ওরফে ভোলা মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৩১)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে আমলাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শম্পার কাছ থেকে ১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সময় মাদক সেবনের উপকরণসহ রুবেল মিয়াকে আটক করা হয়।

পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক শম্পাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে মাদক সেবনের কথা স্বীকার করায় রুবেল মিয়াকে ৪৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব কার্যালয়ের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমলাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শম্পা ও রুবেলকে ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের উপকরণসহ আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শম্পাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং রুবেল মিয়াকে ৪৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভৈরবে ২শ পিস নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ২শ পিস নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, মা মাছ ও রেণু পোনা নিধন বন্ধ এবং মাছের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্রহ্মপুত্র জলমহালে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের ২শ পিস নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জালগুলো প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র জলমহালে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মা মাছ ও রেণু পোনা সংরক্ষণে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি বা রিং জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ব্রহ্মপুত্র জলমহালে অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে জেলেরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে জাল ফেলে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে জলমহাল থেকে ২শ পিস চায়না দুয়ারি রিং জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

অভিযান শেষে জব্দ করা নিষিদ্ধ জালগুলো মেঘনা নদীর তীরবর্তী ত্রি-সেতু এলাকায় নিয়ে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেনসহ মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদের ইজারাদার আব্দুর রাজ্জাক শেখ এবং ভৈরব নৌ-থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক বলেন, মাছের প্রজনন বৃদ্ধি, রেণু পোনা সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, সোমবার মৎস্য কর্মকর্তার বিশেষ তদারকিতে পরিচালিত অভিযানের সময় অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেরা জাল ফেলে পালিয়ে যান। পরে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের ২শ পিস চায়না দুয়ারি রিং জাল জব্দ করা হয়। জালগুলো মেঘনা নদীর ত্রি-সেতু এলাকায় আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু নদী ও জলমহালে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ জালের উৎপাদনস্থল, মজুতের জায়গা ও বাজারে বিক্রয়কারী ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এর ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নদীতে জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পাশাপাশি ভৈরব বাজারে যারা নিষিদ্ধ জাল বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিক্রেতারা এসব জাল সরবরাহ করছেন বলেই জেলেরা তা ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন।