ঈদের ছুটি শেষে স্কুলে এসে ছাদ ধসের দৃশ্য, আতঙ্কে বাড়ি ফিরল শিক্ষার্থীরা
পাকুন্দিয়ার দক্ষিণ মাইজহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার উদ্যোগ, বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান চালুর আশ্বাস
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনের ছাদ ধসে পড়ায় শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চললেও ঈদুল আজহার ছুটি শেষে বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষকরা এসে ভবনের একাধিক স্থানে ছাদ ধসের ঘটনা দেখতে পান। পরে বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীরা ভবনের অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের একমাত্র ভবনটির অফিস কক্ষসহ একাধিক শ্রেণিকক্ষের ছাদের বড় অংশ ধসে পড়েছে। দুর্ঘটনার পর শিক্ষকরা বারান্দা ও মাঠে অবস্থান করছেন। বিদ্যালয়ের ১০৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১৫ জন উপস্থিত ছিল। ভবন ধসের খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। অনেকেই সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান, আবার কেউ কেউ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে একতলা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১০৯ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছিল। বিষয়টি একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে ভবনের ভয়াবহ এই অবস্থা দেখতে পান।
একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। বিদ্যালয় চলাকালে যদি ছাদ ধসের ঘটনা ঘটত, তাহলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। ছুটির সময় ঘটনাটি ঘটায় একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে সবাই রক্ষা পেয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সুরাইয়া বিলকিস বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছিলাম। ঈদের ছুটি শেষে বিদ্যালয়ে এসে ভবনের এই অবস্থা দেখতে পাই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসলিমা বেগম লিপি বলেন, “বিদ্যালয় ভবন ধসের খবর পাওয়ার পর প্রকৌশলীর মাধ্যমে ভবনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার প্রক্রিয়া চলছে। আপাতত এই ভবনে পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। বিকল্প হিসেবে খোলা আকাশের নিচে অথবা অস্থায়ী টিনশেড ঘরে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। নতুন ভবন নির্মাণের জন্যও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
এদিকে বিদ্যালয়ের ভবন ধসের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।










