প্রিপেইড মিটারের দীর্ঘ টোকেনে চরম ভোগান্তি, গ্রাহকসেবার দুর্বলতায় ক্ষোভ কিশোরগঞ্জে
প্রতীকি ছবি
বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় ও প্রিপেইড মিটারের নিরাপত্তা হালনাগাদ কার্যক্রমের পর দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো কিশোরগঞ্জেও দীর্ঘ টোকেন নম্বর নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। আগে যেখানে মাত্র ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর ব্যবহার করে সহজেই বিদ্যুৎ রিচার্জ করা যেত, সেখানে বর্তমানে ১৬০ থেকে ৩২০ ডিজিট পর্যন্ত দীর্ঘ টোকেন নম্বর প্রবেশ করাতে হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি, ভোগান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রিপেইড মিটারের ‘কি রিভিশন নম্বর’ (KRN) বা নিরাপত্তা কোড হালনাগাদের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার, ভ্যাট এবং সফটওয়্যারভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য মিটারে হালনাগাদ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এই আপডেট সম্পন্ন করা হচ্ছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে দীর্ঘ টোকেন নম্বর প্রবেশ করাতে গিয়ে নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন গ্রাহকরা। একটি সংখ্যা ভুল হলে পুরো টোকেন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বারবার ভুল কোড প্রবেশের কারণে মিটার সাময়িকভাবে লক হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
কিশোরগঞ্জের হারুয়া এলাকার বাসিন্দা আলমাছ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে ২০ ডিজিটের টোকেন ব্যবহার করে মিটারে রিচার্জ করে আসছি। কিন্তু চলতি মাসে প্রায় ১৮০ ডিজিটের একটি টোকেন পেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। বিষয়টি জানতে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে আমাকে বলা হয়, সব নম্বর একসঙ্গে প্রবেশ করতে হবে। পরে দেখি, ২০ ডিজিটের বেশি মিটারের স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছে না। আবার যোগাযোগ করলে বলা হয়, মিটার নষ্ট হয়ে গেছে এবং নতুন মিটার নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পরে অন্য একটি সূত্র থেকে জানতে পারি, প্রতি ২০ ডিজিট প্রবেশের পর সবুজ বাটন চাপ দিয়ে পরবর্তী অংশ প্রবেশ করতে হয়। অথচ বিদ্যুৎ অফিস থেকে আমাকে এ তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে অযথা ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।”
আরেক গ্রাহক রওফ মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎ বিভাগের হটলাইন বা গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হন। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।”
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, প্রিপেইড মিটারের নতুন টোকেন পদ্ধতি চালুর আগে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এসএমএস এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা চালানো হলে সাধারণ মানুষ এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতেন না। পাশাপাশি গ্রাহকসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে গ্রাহকদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করলে জনদুর্ভোগ বাড়বে। তাই নতুন টোকেন পদ্ধতি ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে সহজ ভাষায় নির্দেশনা প্রচার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা জরুরি।
এদিকে দীর্ঘ টোকেন নম্বর ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে আরও ব্যাপক প্রচারণা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং কার্যকর গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন তখনই সফল হবে, যখন সাধারণ গ্রাহক সহজে ও নির্বিঘ্নে সেই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।










