প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শুরু ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে কক্সবাজার জেলার পিএমখালির ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্থানে রোপণকৃত চারার কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই সময়ে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
সরকারের ঘোষিত ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’-এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৪৯ জেলার ১৪৯ উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে বনাঞ্চল বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আশা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, পরিবেশসচিব রায়হান কাওছারসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু আনুষ্ঠানিক রোপণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং চারার পরিচর্যা ও টেকসই সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর বিভিন্ন জেলায় সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি ও ক্রীড়াভিত্তিক একাধিক পাইলট কর্মসূচি চালু করা হয়। একই সঙ্গে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের সবুজায়ন বৃদ্ধি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।






