একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিরল অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর নতুন ঠিকানা এখন সাভার। মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সাভার ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়েছে আলোচিত এই মহিষটিকে, যেখানে এটি সংরক্ষণ, জিনগত গবেষণা ও প্রজনন উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএলআরআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে মহিষটিকে। বর্তমানে এটিকে বিশেষ কোয়ারেন্টাইনে রেখে নিবিড় স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কোয়ারেন্টাইন পর্ব শেষে এর জিনগত বৈশিষ্ট্য, উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রজনন সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা শুরু হবে।

এ লক্ষ্যে বিএলআরআই ১৩ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান ড. গৌতম কুমার দেবের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি প্রাণীটির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও গবেষণাকাজ পরিচালনা করবে। প্রাথমিকভাবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে লালিত-পালিত সাদাটে বর্ণের এই অ্যালবিনো মহিষটির মাথার বিশেষ ধরনের চুলের বিন্যাস দেখে মজার ছলে এর নাম রাখা হয়েছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। পরে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় প্রাণীটি।

কোরবানির জন্য বিক্রির পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারি উদ্যোগে মহিষটিকে জবাই থেকে বিরত রাখা হয় এবং প্রথমে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠার পর এবার গবেষণার স্বার্থে তার নতুন গন্তব্য হয়েছে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট।

গবেষকদের আশা, বিরল বৈশিষ্ট্যের এই অ্যালবিনো মহিষ নিয়ে পরিচালিত গবেষণা ভবিষ্যতে দেশের মহিষের জাত উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *