মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

নেইমার–রোনালদোর অশ্রুর পর আজ কী মেসির পালা?

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নেইমার–রোনালদোর অশ্রুর পর আজ কী মেসির পালা?

ফুটবলে অতীতের অর্জন, ব্যক্তিগত রেকর্ড কিংবা কোটি ভক্তের ভালোবাসা—কোনোটিই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিশ্চিত নিরাপত্তা দেয় না। কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই নির্মম বাস্তবতার শিকার হয়েছেন দুই মহাতারকা নেইমার জুনিয়রক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দুজনেরই শেষ বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে চোখের জলে। এখন গোটা ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে আরেক কিংবদন্তি লিওনেল মেসির দিকে। আজ আর্জেন্টিনা জিতবে, নাকি বিশ্বমঞ্চে আরেকটি অশ্রুসিক্ত বিদায়ের সাক্ষী হবে ফুটবল?

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব বরাবরই অনিশ্চয়তার অন্য নাম। একটি ভুল, একটি মিস কিংবা একটি মুহূর্ত বদলে দিতে পারে ইতিহাস। সেই কারণেই এবার ব্রাজিল ও পর্তুগালের বিদায় ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তবে কি এবার মেসিরও শেষ বিশ্বকাপ এমন করেই শেষ হবে?

মেটলাইফেই শুরু, মেটলাইফেই শেষ নেইমারের আন্তর্জাতিক অধ্যায়

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। বদলি হিসেবে নেমে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও দলের হার ঠেকাতে পারেননি নেইমার।

শেষ বাঁশি বাজতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। পরে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ইঙ্গিত দেন, জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ।

বিশেষ এক কাকতালীয় ঘটনাও জড়িয়ে রইল তার বিদায়ে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ঠিক এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। ১৬ বছর পর একই মাঠেই শেষ হলো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

সংখ্যার হিসেবে নেইমারের ক্যারিয়ার ঈর্ষণীয়—

  • ম্যাচ: ১৩০
  • গোল: ৮০ (ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ)
  • অ্যাসিস্ট: ৫৮

কিন্তু শিরোপার তালিকায় রয়েছে কেবল ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ। অলিম্পিক স্বর্ণ জিতলেও বিশ্বকাপের ট্রফি অধরাই থেকে গেল।

বিশ্বকাপ ছুঁতে পারলেন না রোনালদোও

স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। শেষ বাঁশির পর অশ্রু লুকাতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

এটাই ছিল তার ষষ্ঠ ও শেষ বিশ্বকাপ।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্লাব ফুটবলে প্রায় সবকিছু জয় করা রোনালদোর ক্যারিয়ারে অপূর্ণ থেকে গেল একমাত্র বিশ্বকাপ।

তবে বিদায়বেলায়ও রেখে গেলেন ইতিহাস।

রোনালদোর বিশ্বকাপ রেকর্ড

  • ২৭ ম্যাচে ১১ গোল।
  • ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল।
  • ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে নকআউট পর্বে গোল করে নতুন রেকর্ড।
  • ২০১৮ সালে স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক এখনো বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।

পর্তুগালের সাবেক কোচ রবার্তো মার্টিনেজ বলেন,

“বিশ্বকাপ জেতাই ছিল তার স্বপ্ন। অধিনায়ক হিসেবে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন। ফুটবলের ইতিহাসে তিনি চিরকাল একজন আইকন হয়ে থাকবেন।”

দুই কিংবদন্তির অশ্রু, এবার চোখ মেসির দিকে

নেইমার কাঁদলেন।

রোনালদো কাঁদলেন।

আজ মাঠে নামছেন লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপে মেসির নাম মানেই কোটি মানুষের আবেগ। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে নিজের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা ঘুচিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চার বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযানে আবারও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা।

নকআউটে কোনো ফেভারিট নেই। অতীতে জার্মানি, স্পেন, ব্রাজিল কিংবা ফ্রান্স—সবাই এই বাস্তবতা দেখেছে।

তাই আজকের ম্যাচ ঘিরে একটাই প্রশ্ন-  শেষ হাসিটা কি মেসির হবে, নাকি বিশ্ব ফুটবল আরও একটি কিংবদন্তির অশ্রুসিক্ত বিদায় দেখবে?

ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপ কাউকে ছাড় দেয় না

বিশ্বকাপের সৌন্দর্যই হলো এর নিষ্ঠুরতা।

পেলে, মারাদোনা, জিদান, রোনালদো নাজারিও—প্রত্যেক কিংবদন্তির ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ লিখেছে গৌরব, আবার বেদনাও।

এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে নেইমার ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নাম।

একজন বিদায় নিলেন নিজের শুরু হওয়া স্টেডিয়ামেই।

আরেকজন বিদায় নিলেন ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড রেখে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন আর ব্যক্তিগত রেকর্ডের মূল্য নেই। বেঁচে থাকার লড়াই।

আজ জিতলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাবে আরেক ধাপ।

হারলে শেষ হয়ে যাবে মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়ও।

দুই কিংবদন্তির চোখের জল ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে ভাসিয়েছে।

এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি এক মানুষকে ঘিরে-  লিওনেল মেসি কি হাসিমুখে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে হাঁটবেন, নাকি বিশ্বকাপ আরেকটি অশ্রুসিক্ত বিদায়ের গল্প লিখবে?

কুলিয়ারচরে ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে চার আবেদন

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে চার আবেদন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার এবং অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ বিক্রি, অতিরিক্ত খাজনা আদায়, জমির শ্রেণি পরিবর্তনে অনিয়ম এবং ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার ও তদন্তের দাবিতে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের কাছে চারটি পৃথক লিখিত আবেদন করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনগুলো জমা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গ্রহণ সিলযুক্ত কপির তথ্য অনুযায়ী, আবেদনগুলো তদন্তের দাবি জানিয়ে দাখিল করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত আরএস ১০৬৬৭ দাগের ০.৮৩ একর সরকারি খাল ও রাস্তার পাশ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫টি বিভিন্ন প্রজাতির সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এতে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে বিষয়টি আড়াল করতে গত ১৫ জানুয়ারি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৮টি গাছ চুরির অভিযোগ কুলিয়ারচর থানায় জমা দেওয়া হয়। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি), এফআইআর বা তদন্ত হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন, ভূমি অফিসের অদূরে দিনের বেলায় এতগুলো গাছ কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি আরও তিনটি সরকারি গাছ বিক্রির মাধ্যমেও প্রায় ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করেন, তার পতিত শ্রেণির জমির বার্ষিক খাজনা ২০২৩ সালে ছিল ১০ টাকা। কিন্তু চলতি বছরের ৬ জুলাই সরেজমিন তদন্ত ছাড়াই জমির শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩ হাজার ১২ টাকা আদায় করা হয়েছে। তিনি অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ ফেরত ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ভাটিজগৎচর গ্রামের মো. ছয়াইব হোসেন অভিযোগ করেন, তার পিতার মোট জমির পরিমাণ ৪২০ শতাংশ। ভূমি উন্নয়ন কর আইন অনুযায়ী এই জমির খাজনা মওকুফ হওয়ার কথা থাকলেও তার কাছে ১১ হাজার ৮৮৩ টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি নামজারির প্রস্তাব পাঠানোর নামে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

পশ্চিম গোবরিয়া গ্রামের কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পরও তার জমির বিপরীতে ১৯৭৬-৭৭ সাল থেকে বকেয়া দেখিয়ে ২৬ হাজার ৫২৬ টাকা দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয় এক দলিল লেখকের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার পরও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

একই গ্রামের আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার জমির মূল রেকর্ডে ‘বাড়ি’ ও ‘বাঁশঝাড়’ শ্রেণি থাকলেও তা পরিবর্তন করে ‘আবাসিক’ ও ‘চা বাগান’ দেখানো হয়েছে। এর ফলে তার ওপর ১২ হাজার ৪৩৫ টাকা খাজনা ধার্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নানা ধরনের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তাদের দাবি, ঘুষ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে সেবা পাওয়া যায় না। নামজারি, খাজনা নির্ধারণ ও জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

তাদের দাবি, বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব বিষয়ে ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলুন।”

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার বলেন, “সরকারি জায়গা থেকে কে বা কারা গাছ কেটেছে, তা আমি জানি না। বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। অভিযোগ করার পর থেকে আমাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

তবে কারা হুমকি দিচ্ছেন—এ বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি আমার যোগদানের আগের। বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। থানায় এ ধরনের কোনো অভিযোগের নথি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম বলেন, “বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকার বলেন, “জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনগুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। অন্য অভিযোগগুলোও তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সেতু নেই, বাঁশের সাঁকোই ভরসা: হোসেনপুরে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
সেতু নেই, বাঁশের সাঁকোই ভরসা: হোসেনপুরে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের দক্ষিণ চর হাজীপুর মাঝিবাড়ি থেকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মাস্টার বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়কে একটি ছোট সেতুর অভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগপথে একটি ছোট সেতু নির্মাণ করা হয়নি। ফলে কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁশের সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত ব্যাহত হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনারও শিকার হতে হয়। একই সঙ্গে জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও দেখা দেয় চরম দুর্ভোগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের দুই পাড়ের মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছেন। কৃষিপণ্য বহন কিংবা মোটরসাইকেল পারাপার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, জিনারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ ফসলি জমি খালের অপর পাশে অবস্থিত। ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য মাঠ থেকে বাড়িতে আনতে অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় প্রবীণ ও সাবেক গ্রাম সরকার সদস্য আবেদ আলী বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে আমরা শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি। একটি ছোট সেতুর অভাবে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। আমরা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।”

স্থানীয় কৃষক মোসারফ হোসেন বলেন, “আমাদের জমি খালের ওপারে। ধান, পাটসহ সব কৃষিপণ্য এই বাঁশের সাঁকো দিয়েই আনতে হয়। এতে সময়, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় কৃষিপণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাসুম বলেন, “এটি শুধু একটি গ্রামের দাবি নয়; কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক মাঝি বলেন, “এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ সহ্য করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করুক।”

স্কুলশিক্ষার্থী আশিক বলে, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে ভয় লাগে। বর্ষাকালে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এখানে একটি সেতু হলে নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব।”

এলাকার প্রবীণদের ভাষ্য, অতীতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সেতু নির্মাণের আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, একটি ছোট সেতু নির্মাণ হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “সেতু নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ টানা বৃষ্টিতে ধসে গেছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে ভারী বর্ষণের মধ্যে চরফরাদী ইউনিয়নের নামা মির্জাপুর গ্রামের শামছ ফাতেমা হাফিজিয়া মাদ্রাসার সামনে সড়কটির একটি বড় অংশ ধসে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি মির্জাপুর, নামা মির্জাপুর, বর্ষাগাতি, কুড়তালা, চালিয়াগোপ ও দিয়াপাড়া গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে কোনো রকমে চলাচল করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনায়েম বলেন, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। সড়কটি ধসে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চরফরাদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সৈয়দুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নির্মাণের সময় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ভারী বৃষ্টিতে সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, এলজিইডির অধীনে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের একটি অংশ ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি ইউপি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েকটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41