মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জে ডিম ও মুরগির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে খামারিদের স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে ডিম ও মুরগির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে খামারিদের স্মারকলিপি

ডিম ও মুরগির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণসহ ছয় দফা দাবিতে কিশোরগঞ্জে স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলার কয়েক শতাধিক পোল্ট্রি খামারি। একই সঙ্গে চলমান সংকট থেকে দেশের পোল্ট্রি শিল্পকে রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ), কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন খামারিরা। পরে তারা কাফনের কাপড় পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহরের বটতলা মোড়ে গিয়ে ডিম ভেঙে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ডিম ও পোল্ট্রি পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় সারা দেশের মতো কিশোরগঞ্জের খামারিরাও চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। সরকারি নির্ধারিত খামার পর্যায়ের প্রতি ডিমের মূল্য ১০ টাকা ৮০ পয়সা হলেও বাস্তবে মাত্র ৭ থেকে ৭ টাকা ৫০ পয়সায় ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।

খামারিদের ভাষ্য, উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় বাজারমূল্য অনেক কম থাকায় অধিকাংশ খামারি লোকসানের মুখে পড়েছেন। ফলে অনেকেই ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, পোল্ট্রি খাদ্য, একদিন বয়সী বাচ্চা, ওষুধ, ভ্যাকসিন এবং উৎপাদন উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পোল্ট্রি শিল্পকে ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

স্মারকলিপিতে পোল্ট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দেশের পোল্ট্রি শিল্পের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. সাদেকুর রহমান, সদস্যসচিব মো. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. সুলতান কবির, হাফেজ মাও. রাশিদ আহমেদ, খামারি মো. শহীদ মল্লিক, মো. নুরুল আরেফিন লিংকন, আব্দুল ওয়াদুদসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিপুলসংখ্যক পোল্ট্রি খামারি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কুলিয়ারচরে ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে চার আবেদন

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে চার আবেদন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার এবং অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ বিক্রি, অতিরিক্ত খাজনা আদায়, জমির শ্রেণি পরিবর্তনে অনিয়ম এবং ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার ও তদন্তের দাবিতে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের কাছে চারটি পৃথক লিখিত আবেদন করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনগুলো জমা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গ্রহণ সিলযুক্ত কপির তথ্য অনুযায়ী, আবেদনগুলো তদন্তের দাবি জানিয়ে দাখিল করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত আরএস ১০৬৬৭ দাগের ০.৮৩ একর সরকারি খাল ও রাস্তার পাশ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫টি বিভিন্ন প্রজাতির সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এতে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে বিষয়টি আড়াল করতে গত ১৫ জানুয়ারি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৮টি গাছ চুরির অভিযোগ কুলিয়ারচর থানায় জমা দেওয়া হয়। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি), এফআইআর বা তদন্ত হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন, ভূমি অফিসের অদূরে দিনের বেলায় এতগুলো গাছ কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি আরও তিনটি সরকারি গাছ বিক্রির মাধ্যমেও প্রায় ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করেন, তার পতিত শ্রেণির জমির বার্ষিক খাজনা ২০২৩ সালে ছিল ১০ টাকা। কিন্তু চলতি বছরের ৬ জুলাই সরেজমিন তদন্ত ছাড়াই জমির শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩ হাজার ১২ টাকা আদায় করা হয়েছে। তিনি অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ ফেরত ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ভাটিজগৎচর গ্রামের মো. ছয়াইব হোসেন অভিযোগ করেন, তার পিতার মোট জমির পরিমাণ ৪২০ শতাংশ। ভূমি উন্নয়ন কর আইন অনুযায়ী এই জমির খাজনা মওকুফ হওয়ার কথা থাকলেও তার কাছে ১১ হাজার ৮৮৩ টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি নামজারির প্রস্তাব পাঠানোর নামে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

পশ্চিম গোবরিয়া গ্রামের কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পরও তার জমির বিপরীতে ১৯৭৬-৭৭ সাল থেকে বকেয়া দেখিয়ে ২৬ হাজার ৫২৬ টাকা দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয় এক দলিল লেখকের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার পরও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

একই গ্রামের আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার জমির মূল রেকর্ডে ‘বাড়ি’ ও ‘বাঁশঝাড়’ শ্রেণি থাকলেও তা পরিবর্তন করে ‘আবাসিক’ ও ‘চা বাগান’ দেখানো হয়েছে। এর ফলে তার ওপর ১২ হাজার ৪৩৫ টাকা খাজনা ধার্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নানা ধরনের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তাদের দাবি, ঘুষ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে সেবা পাওয়া যায় না। নামজারি, খাজনা নির্ধারণ ও জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

তাদের দাবি, বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব বিষয়ে ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলুন।”

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার বলেন, “সরকারি জায়গা থেকে কে বা কারা গাছ কেটেছে, তা আমি জানি না। বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। অভিযোগ করার পর থেকে আমাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

তবে কারা হুমকি দিচ্ছেন—এ বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি আমার যোগদানের আগের। বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। থানায় এ ধরনের কোনো অভিযোগের নথি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম বলেন, “বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকার বলেন, “জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনগুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। অন্য অভিযোগগুলোও তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সেতু নেই, বাঁশের সাঁকোই ভরসা: হোসেনপুরে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
সেতু নেই, বাঁশের সাঁকোই ভরসা: হোসেনপুরে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের দক্ষিণ চর হাজীপুর মাঝিবাড়ি থেকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মাস্টার বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়কে একটি ছোট সেতুর অভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগপথে একটি ছোট সেতু নির্মাণ করা হয়নি। ফলে কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁশের সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত ব্যাহত হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনারও শিকার হতে হয়। একই সঙ্গে জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও দেখা দেয় চরম দুর্ভোগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের দুই পাড়ের মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছেন। কৃষিপণ্য বহন কিংবা মোটরসাইকেল পারাপার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, জিনারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ ফসলি জমি খালের অপর পাশে অবস্থিত। ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য মাঠ থেকে বাড়িতে আনতে অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় প্রবীণ ও সাবেক গ্রাম সরকার সদস্য আবেদ আলী বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে আমরা শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি। একটি ছোট সেতুর অভাবে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। আমরা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।”

স্থানীয় কৃষক মোসারফ হোসেন বলেন, “আমাদের জমি খালের ওপারে। ধান, পাটসহ সব কৃষিপণ্য এই বাঁশের সাঁকো দিয়েই আনতে হয়। এতে সময়, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় কৃষিপণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাসুম বলেন, “এটি শুধু একটি গ্রামের দাবি নয়; কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক মাঝি বলেন, “এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ সহ্য করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করুক।”

স্কুলশিক্ষার্থী আশিক বলে, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে ভয় লাগে। বর্ষাকালে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এখানে একটি সেতু হলে নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব।”

এলাকার প্রবীণদের ভাষ্য, অতীতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সেতু নির্মাণের আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, একটি ছোট সেতু নির্মাণ হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “সেতু নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ টানা বৃষ্টিতে ধসে গেছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে ভারী বর্ষণের মধ্যে চরফরাদী ইউনিয়নের নামা মির্জাপুর গ্রামের শামছ ফাতেমা হাফিজিয়া মাদ্রাসার সামনে সড়কটির একটি বড় অংশ ধসে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি মির্জাপুর, নামা মির্জাপুর, বর্ষাগাতি, কুড়তালা, চালিয়াগোপ ও দিয়াপাড়া গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে কোনো রকমে চলাচল করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনায়েম বলেন, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। সড়কটি ধসে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চরফরাদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সৈয়দুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নির্মাণের সময় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ভারী বৃষ্টিতে সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, এলজিইডির অধীনে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের একটি অংশ ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি ইউপি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েকটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41