শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও দায়িত্বে ফিরতে পারছেন না ইউপি চেয়ারম্যান

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও দায়িত্বে ফিরতে পারছেন না ইউপি চেয়ারম্যান

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারছেন না কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি প্যানেল চেয়ারম্যান খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ভৈরব বাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত বছরের ২৬ মার্চ একটি মামলায় জামিনে থাকা অবস্থায় তাকে বিনা কারণে গ্রেপ্তার করা হয় এবং থানা ভাঙচুরের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় আরও চারটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এ অবস্থায় তার অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান খুরশেদ আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি জানান, পরবর্তীতে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সব মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তি লাভ করেন এবং পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে ইউএনওকে লিখিতভাবে অবহিত করেন। একই সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আইডি পুনরায় সক্রিয় করার জন্য আবেদন করেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মিজানুর রহমান রিপন আরও বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান খুরশেদ আলম ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেন। তদন্ত শেষে ১৯ নভেম্বর মন্ত্রণালয় তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে এবং দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি জানান, পরে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করলে গত ২ এপ্রিল আদালত চার সপ্তাহের জন্য প্যানেল চেয়ারম্যানের কার্যক্রম স্থগিত করে এবং তাকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। ১৯ এপ্রিল ইউএনও কার্যালয় আদালতের আদেশ গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব নিতে পারেননি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের আইডি প্রদান না করায় তিনি পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না। এ সুযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান বেআইনিভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যানের ভাই জিল্লুর রহমান ভূইয়া বলেন, স্থানীয় সরকার আইনের ৩৩(২) ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতেই কেবল প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করতে পারেন। চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে সক্ষম হলে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকে না। তিনি তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান খুরশেদ আলম বলেন, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে সরকারিভাবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মিজানুর রহমান রিপন একাধিক মামলার আসামি এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সরকার নির্দেশ দিলে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা গাফিলতির অভিযোগ সঠিক নয়। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেছেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের। তিনি জানান, এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে করণীয় সম্পর্কে ২৮ এপ্রিল চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে।

নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।