স্কুল মাঠে নিকলীর সাজনপুর হাট, দ্বিগুণ খাজনায় দূর্ভোগে ব্যবসায়ী
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর আঠারোবাড়িয়া এলাকার গোপীরায় বাজারে বসা গরুর হাটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নানা অনিয়ম ও জনদুর্ভোগ। স্কুল মাঠ ও সড়ক দখল করে দীর্ঘদিন ধরে হাট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে চলতি মৌসুমে গরু, ছাগল ও মহিষের ওপর দ্বিগুণ খাজনা আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৭ বছর ধরে সাজনপুর আঠারোবাড়িয়া এলাকায় প্রতি বুধবার গরুর হাট বসছে। হাটের কারণে স্কুল মাঠ, আশপাশের রাস্তা ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখল হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যেতে না পারায় ঝরে পড়ার ঘটনাও বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয় অভিভাবকদের।
এলাকাবাসী জানান, গরুর হাটটি “গোপীরায় বাজার” নামে ইজারা দেওয়া হলেও মূল গোপীরায় বাজারের জায়গা এখনো প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। সেখানে স্থায়ী দোকানপাট নির্মাণ করা হলেও সরকারি জায়গা উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ সরকার প্রতিবছর এই বাজার থেকে কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের দিন পুরো এলাকায় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। সড়কের ওপর গরু বেচাকেনা হওয়ায় যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। স্কুলগামী শিশু, নারী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
হাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সুবিধা, গণশৌচাগার কিংবা ব্যাংকিং সেবাও নেই। এমনকি জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনও দেখা যায়নি। অথচ প্রতি হাটে কোটি কোটি টাকার পশু কেনাবেচা হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, ব্যাংকিং সুবিধা না থাকায় বড় অঙ্কের নগদ টাকা বহনে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে তাদের।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত বছর হাটটির ইজারা মূল্য ছিল প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কিন্তু চলতি বছর ইজারা মূল্য কমে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় নেমে এলেও গবাদিপশুর খাজনা দ্বিগুণ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ হাটে গরু, ছাগল ও মহিষ বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে ৬০০ টাকা করে মোট ১ হাজার ২০০ টাকা খাজনা আদায় করা হয়েছে। অথচ গত সপ্তাহেও প্রতি পশুর জন্য মোট ৬০০ টাকা খাজনা নেওয়া হয়েছিল।
গরু ব্যবসায়ী রহিম মিয়া বলেন, “গত বছর এবং আগের হাটেও খাজনা অনেক কম ছিল। এবার হঠাৎ দ্বিগুণ করায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”
করগাঁও গ্রামের সাবিনা বেগম বলেন, “৩ হাজার টাকার একটি ছাগল বিক্রি করেছি। কিন্তু ৬০০ টাকা খাজনা দিতে হয়েছে। এতে কোনো লাভ থাকছে না।”
এ বিষয়ে ইজারাদার পক্ষের পরিচালক আঙ্গুর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ইজারাদার পক্ষের একটি সূত্র দাবি করেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত লোকবল, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বেশি খাজনা নেওয়া হচ্ছে। তবে কাউকে জোরপূর্বক হয়রানি করা হচ্ছে না বলেও দাবি তাদের।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “খাজনা আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধ এবং স্কুল ও সড়ক দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।










