কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৃথক মানবপাচার মামলায় এক নারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের নামাপাড়া এলাকা থেকে শিরিনা বেগম (৪৮) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার আসাদ মিয়ার স্ত্রী।

একই রাতে পৌর শহরের কমলপুর এলাকা থেকে মোস্তাকিম ওরফে বিজয় (২৬) নামে আরও এক আসামিকে আটক করা হয়। তিনি কমলপুর এলাকার সাজিদ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কুদ্দুস মিয়া নামের এক ব্যক্তি সাতজনকে আসামি করে ভৈরব থানায় মানবপাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, তার ছেলে রনি মিয়াকে ইউরোপের দেশ ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে একটি দালালচক্র ১৭ লাখ টাকা নেয়। পরে তাকে লিবিয়ায় নেওয়া হলেও ইতালিতে পাঠানো হয়নি।

অপরদিকে, ভৈরবের ভবানীপুর এলাকার আলাল মিয়াও তার ছেলে তারিকুল ইসলামকে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাসে শিরিনা বেগমসহ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রায় দেড় বছর আগে ৯ লাখ টাকা দেন। পরবর্তীতে তার ছেলেকেও লিবিয়ায় নেওয়া হলেও ইতালিতে পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় আলাল মিয়া শিরিনা বেগমসহ চারজনকে আসামি করে ভৈরব থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারের পর থানা চত্বরে শিরিনা বেগম ও মোস্তাকিম ওরফে বিজয় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তারা বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তাদের আপোষ-মীমাংসা হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূরুল হুদা বলেন, আদালতের নির্দেশে ভৈরব থানায় মামলাগুলো গ্রহণ করা হয়। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এক নারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা মানবপাচার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *