বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান, কটিয়াদীতে সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান, কটিয়াদীতে সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা কটিয়াদী বাজারের কাপড়পট্টি থেকে পাটপট্টি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের আরসিসিকরণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এ উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান কাঞ্চন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মাহবুবুল আলম মাসুদ, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সেতু, কটিয়াদী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস আলী, বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর হোসেন এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তফরিফুল হাসিবসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কটিয়াদী বাজারের কাপড়পট্টি-পাটপট্টি সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। আরসিসিকরণ কাজ সম্পন্ন হলে বাজার এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং বাজার এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়ন কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত ও টেকসইভাবে কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান। তারা বলেন, সড়কটি সংস্কার হলে বাজারে যানবাহন চলাচল সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে ভারতের ওপরে টাইগাররা

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

শাহীন আলম প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের কীর্তি গড়ল টাইগাররা।

এই জয়ের ফলে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট টেবিলেও বড় অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। পয়েন্ট তালিকায় ভারতকে পেছনে ফেলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে টাইগাররা।

মঙ্গলবার ম্যাচের পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল আরও ১৬৩ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট। তবে দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। বিশেষ করে স্পিনার তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮ (লিটন দাস ১২৬); পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২; বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩৯০ (মুশফিকুর রহিম ১৩৭); পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৩৫৮ (মোহাম্মদ রিজওয়ান ৯৪, সালমান আলী আগা ৭১; তাইজুল ইসলাম ৬/১২০) ফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী।

৪০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আগের দিনই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। শেষ দিনে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে রিজওয়ানকে ৯৪ রানে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন শরিফুল ইসলাম।

এরপর ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি এই স্পিনার দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করেন। ম্যাচে তার মোট শিকার ৯ উইকেট।

বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। প্রথম ইনিংসে লিটনের ১২৬ রানের ইনিংসে লড়াইয়ে ফিরে বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকের ১৩৭ রানের ইনিংসে পাকিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করায় স্বাগতিকরা।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স এবং ফিল্ডারদের দৃঢ়তায় পুরো ম্যাচেই আধিপত্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয়ের পর ঘরের মাঠেও একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য।

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর সিলেট স্টেডিয়ামে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন দর্শকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ দল।

ভৈরবে ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’ উমান গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’ উমান গ্রেফতার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিশেষ অভিযানে উমান মিয়া নামে এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভৈরবসহ আশপাশের এলাকায় বিস্তৃত মাদক চোরাচালান ও বিক্রয় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিলেন।

মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ৯টার দিকে ভৈরব থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের দিকনির্দেশনা এবং ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া উমান মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উমান মিয়া ভৈরব এলাকায় প্রায় ২০০ সদস্যের একটি মাদক চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য সরবরাহ করা হতো। মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থে তিনি এলাকায় একটি পাঁচতলা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও পুলিশের দাবি।

পুলিশ আরও জানায়, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের মাদকাসক্ত করে তোলার মাধ্যমে তিনি এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের কাছ থেকেও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল।

ভৈরব থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া উমান মিয়াকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ উপলক্ষে হোসেনপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ উপলক্ষে হোসেনপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।

বুধবার (২০ মে) সকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, হোসেনপুরের উদ্যোগে ফায়ার স্টেশন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় ফায়ার স্টেশন প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ, হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা শামসুল হকসহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ সদস্য, স্কাউটস, গার্ল গাইডস এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা অগ্নিনির্বাপণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

পরে ফায়ার স্টেশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আয়োজকরা জানান, সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক সেমিনার এবং সাধারণ মানুষের জন্য খোলা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শামসুল হক বলেন, “বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ডই অসতর্কতার কারণে ঘটে। তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের আয়োজন সাধারণ মানুষকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে সহায়তা করে এবং ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয়।