মাজহারুলের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ কিশোরগঞ্জের ৩ মনোনয়ন প্রত্যাশী
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে বিএনপি ঘোষিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে
একাট্টা হয়েছেন ৩ মনোনয়নপ্রত্যাশী। তারা হলেন— জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু,সদর উপজেলা বিএনপির খালেদ
সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরে তাদের নেতৃত্বে মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের
দাবিতে আলাদা আলাদাভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা অংশ নেন।
মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ ও তুলনা: গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।
এতে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে তুমুল জনপ্রিয় মজিবুর রহমান ইকবালকে মনোনয়ন দেওয়ায় নেতাকর্মীরা খুশি হলেও
, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মাজহারুল ইসলামের নাম আসায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষুব্ধ নেতাদের অভিযোগ, “যার জনপ্রিয়তা পৌরসভা নির্বাচনে একজন কমিশনারের সমানও নয়, তাকে দুটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে
গঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা তাকে পাশে পান না, সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি অপরিচিত।”
সিন্ডিকেট ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ: মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, কিশোরগঞ্জের এই মনোনয়ন একটি বিশেষ ‘সিন্ডিকেট’-এর
মাধ্যমে হয়েছে। অভিযোগের তীর বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলমের দিকে।
তৃণমূলের দাবি, শরীফুল আলমের লবিং এবং বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই তার মদদপুষ্ট মাজহারুল ইসলামকে এই মনোনয়ন পাইয়ে
দেওয়া হয়েছে।
মাঠের পরিস্থিতি: শুক্রবার খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় কর্মসূচি থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল।
শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে ফিরলে হাজারো নেতাকর্মী তাকে
পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তিনি বক্তৃতা দেন ও পরবর্তী আন্দোলনের জন্য ঘোষণা দেন।
রবিবারের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা প্রশ্ন তোলেন, “খালেদা জিয়া যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন,
তখন দলের ভেতরে কি মাইনাস ফর্মুলা চলছে? জিয়া পরিবারের অবর্তমানে কি দল হাইজ্যাক হয়ে যাচ্ছে?” অবিলম্বে এই পকেট
কমিটি ও বিতর্কিত মনোনয়ন বাতিল না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন ঐক্যবদ্ধ এই তিন মনোনয়ন প্রত্যাশী।







