বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২

মাজহারুলের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ কিশোরগঞ্জের ৩ মনোনয়ন প্রত্যাশী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:১০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাজহারুলের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ কিশোরগঞ্জের ৩ মনোনয়ন প্রত্যাশী

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে বিএনপি ঘোষিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে
একাট্টা হয়েছেন ৩ মনোনয়নপ্রত্যাশী। তারা হলেন— জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু,সদর উপজেলা বিএনপির খালেদ
সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরে তাদের নেতৃত্বে মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের
দাবিতে আলাদা আলাদাভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা অংশ নেন।

মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ ও তুলনা: গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।
এতে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে তুমুল জনপ্রিয় মজিবুর রহমান ইকবালকে মনোনয়ন দেওয়ায় নেতাকর্মীরা খুশি হলেও
, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মাজহারুল ইসলামের নাম আসায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষুব্ধ নেতাদের অভিযোগ, “যার জনপ্রিয়তা পৌরসভা নির্বাচনে একজন কমিশনারের সমানও নয়, তাকে দুটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে
গঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা তাকে পাশে পান না, সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি অপরিচিত।”

সিন্ডিকেট ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ: মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, কিশোরগঞ্জের এই মনোনয়ন একটি বিশেষ ‘সিন্ডিকেট’-এর
মাধ্যমে হয়েছে। অভিযোগের তীর বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলমের দিকে।
তৃণমূলের দাবি, শরীফুল আলমের লবিং এবং বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই তার মদদপুষ্ট মাজহারুল ইসলামকে এই মনোনয়ন পাইয়ে
দেওয়া হয়েছে।

মাঠের পরিস্থিতি: শুক্রবার খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় কর্মসূচি থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল।
শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে ফিরলে হাজারো নেতাকর্মী তাকে
পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তিনি বক্তৃতা দেন ও পরবর্তী আন্দোলনের জন্য ঘোষণা দেন।

রবিবারের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা প্রশ্ন তোলেন, “খালেদা জিয়া যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন,
তখন দলের ভেতরে কি মাইনাস ফর্মুলা চলছে? জিয়া পরিবারের অবর্তমানে কি দল হাইজ্যাক হয়ে যাচ্ছে?” অবিলম্বে এই পকেট
কমিটি ও বিতর্কিত মনোনয়ন বাতিল না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন ঐক্যবদ্ধ এই তিন মনোনয়ন প্রত্যাশী।

আপিলে বৈধ হলো কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর মোল্লার মনোনয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
আপিলে বৈধ হলো কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর মোল্লার মনোনয়ন

হাদি হত্যা মামলা: ডিবির চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
হাদি হত্যা মামলা: ডিবির চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ডিবি পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে তিনি এ আবেদন দাখিল করেন।

বাদীপক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা কেবল দায়সারা তদন্ত শেষে চার্জশিট দিয়েছেন। এতে মূল হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে শুটারদের সম্পর্ক স্পষ্ট করা হয়নি। তাঁর দাবি, হাদি সাধারণ কেউ ছিলেন না; তাকে হত্যার পেছনে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল। প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল—ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যেন আর কেউ কথা বলার সাহস না পায়।

তিনি আরও বলেন, চার্জশিটে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পক্ষে এমন ঘটনার নেতৃত্ব দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। চার্জশিটে শুধু ফয়সালকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং একটি চেক জব্দের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যা তদন্তের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার পর আসামিরা কীভাবে নিরাপদে পালাল এবং পরিকল্পনাকারীরা কীভাবে সহযোগিতা করেছে—এসব বিষয় চার্জশিটে অনুপস্থিত।

আইনজীবী বলেন, শরীফ ওসমান হাদি ন্যায়বিচারের কথা বলতেন, তাই তাঁর হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই নারাজি আবেদন করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে ১২ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে হাজির হয়ে চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য সময় নেন। বৃহস্পতিবার আদালত চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।

চার্জশিটে পলাতক ছয় আসামির মধ্যে রয়েছেন—ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ, তার সহযোগী আলমগীর হোসেন, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার। বাকি ১১ আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শরীফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। মাথা ও ডান কানের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।

প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়, যা পরে হত্যার মামলায় রূপান্তর করা হয়।

হাওর-জলাভূমি রক্ষায় কঠোর আইন: জারি হলো অধ্যাদেশ-২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
হাওর-জলাভূমি রক্ষায় কঠোর আইন: জারি হলো অধ্যাদেশ-২০২৬

দেশের হাওর ও জলাভূমির অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

হাওর বা জলাভূমি অবৈধ দখল, ভরাট কিংবা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পাবলিক রিলেশন্স অফিসার) এ তথ্য জানান।

অধ্যাদেশে অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জারিকৃত ‘সুরক্ষা আদেশ’ লঙ্ঘন, হাওর-জলাভূমি ও কান্দার অবৈধ দখল, ভরাটকরণ, অননুমোদিত খনন কিংবা পানির প্রবাহ ব্যাহত করে এমন অবকাঠামো নির্মাণের মতো অপরাধের জন্য অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

অধ্যাদেশে এসব অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ ও ‘অ-জামিনযোগ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, হাওর ও জলাভূমি এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলন এবং মাটি, বালু বা পাথর আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পরিযায়ী পাখি শিকার, সংরক্ষিত জলজ প্রাণী ধরা, জলাবন বিনষ্ট করা এবং বিষটোপ বা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

অধ্যাদেশের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই গঠিত ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর’-কে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে হাওর ও জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অধিদপ্তর নিশ্চিত করবে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের ফলে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনসাধারণের জীবিকায় কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে কি না।

সরকার চাইলে বিশেষ কোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। সংরক্ষিত এলাকার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো স্থাপনা থাকলে অধিদপ্তর তা অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হবে।