ইটনায় রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে দেড় শতাধিক অসহায় পরিবার পেল ৬০ লাখ টাকার সহায়তা
হাওর অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় ১৫০টি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারকে নগদ সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। প্রতিটি পরিবারকে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।
হাওরবেষ্টিত ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের থানেশ্বর কমিউনিটি এবং রায়টুটি ইউনিয়নের ধারা কমিউনিটির উপকারভোগীদের মাঝে এই অর্থ বিতরণ করা হয়। গত ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের নিজ নিজ অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করা হয়।
এই কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হচ্ছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের মাধ্যমে। ড্যানিশ রেড ক্রসের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও জীবিকায়ন সহায়তা প্রকল্প (সিসিএ-কিশোরগঞ্জ)’। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো হাওর অঞ্চলের মানুষকে স্বাবলম্বী করা এবং টেকসই জীবিকায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা।
নগদ সহায়তা সম্পূর্ণ নিঃশর্তভাবে প্রদান করা হয়েছে। সহায়তা দেওয়ার আগে উপকারভোগীদের দিয়ে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন করানো হয় এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) নগদ সহায়তা বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের সহসম্পাদক এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য যোবায়ের আহসান জাবের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের উপ-সহকারী পরিচালক ও ইউনিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোতালিবসহ জাতীয় সদর দপ্তর ও ড্যানিশ রেড ক্রসের একাধিক কর্মকর্তা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যোবায়ের আহসান জাবের বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সবসময় অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। এই সহায়তা উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী হতে সহায়ক হবে এবং তারা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা আমাদের।
অনুষ্ঠানে উপ-সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মোতালিব বলেন, রেড ক্রিসেন্টের সব ধরনের সহায়তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। সহায়তার নামে কেউ যদি অর্থ দাবি করে, তাহলে উপকারভোগীদের হটলাইন নম্বর ১৬২২৬-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সিডিএমসি কমিটির সদস্য, সিডিআরটি দলনেতা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কমিউনিটি অর্গানাইজার ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।







