কিশোরগঞ্জ-১ আসনে দেয়ালঘড়ি ও রিক্সা উভয় প্রার্থী সক্রিয়, জোট সমর্থন নিয়ে মাঠ গরম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে দুটি ইসলামী দলের মনোনীত প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী শায়খুল হাদিস মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, তিনি নির্বাচন থেকে সরে যাননি এবং অপপ্রচারকে অস্বীকার করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরানথানাস্থ দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি মো. মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা এমদাদুল্লাহ, সহ-সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমদ, প্রচার সম্পাদক মাসউদুল হাসান, বায়তুল মাল সম্পাদক অলিউর রহমান, সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাও শফিকুল ইসলাম খান, শহর শাখার সহ-সভাপতি আব্দুল হাফিজ, জেলার সমাজকল্যাণ সম্পাদক আহমদ ফারুক, শ্রমিক মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা শরীফুল ইসলাম ফরহাদ প্রমুখ।
মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী যশোদল ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী গ্রামের পৈতৃক নিবাসী। যদিও তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ ঢাকায় কেটেছে। দাওয়াতি ও শিক্ষা কার্যক্রম এবং মিডিয়া কেন্দ্রিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর। ভোটাররা তার কাছে একজন দায়িত্বশীল আলেম হিসেবে সংসদে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রধানত তার বড় ছেলে আবু হানিফা নুমানের ২০১৩ সালে গুম হওয়া এবং ২০১৪–২০১৫ সালে কারাবরণ ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো এখনো গভীর প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর চূড়ান্ত সমর্থন নিয়ে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদীও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক ভূঁইয়াকে প্রত্যাহার করে মুফতি হেদায়াতুল্লাহকে একক প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।
মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদী জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের সকল শরিক দল সমন্বিতভাবে তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালাবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমীর মাওলানা ক্বারী নজরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সদর উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল মোমেন শেরজাহান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব রেজাউল হাসনাত নাহিদ, সহ সাংগঠনিক কর্মকর্তা ফয়সাল প্রিন্সসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং বাস্তবভিত্তিক ঐক্য তৈরি না হলে দুই প্রার্থীই শক্ত অবস্থান হারাবেন।







