শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ ১৪৩২
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে দেয়ালঘড়ি ও রিক্সা উভয় প্রার্থী সক্রিয়, জোট সমর্থন নিয়ে মাঠ গরম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে দেয়ালঘড়ি ও রিক্সা উভয় প্রার্থী সক্রিয়, জোট সমর্থন নিয়ে মাঠ গরম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে দুটি ইসলামী দলের মনোনীত প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী শায়খুল হাদিস মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, তিনি নির্বাচন থেকে সরে যাননি এবং অপপ্রচারকে অস্বীকার করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরানথানাস্থ দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি মো. মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা এমদাদুল্লাহ, সহ-সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমদ, প্রচার সম্পাদক মাসউদুল হাসান, বায়তুল মাল সম্পাদক অলিউর রহমান, সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাও শফিকুল ইসলাম খান, শহর শাখার সহ-সভাপতি আব্দুল হাফিজ, জেলার সমাজকল্যাণ সম্পাদক আহমদ ফারুক, শ্রমিক মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা শরীফুল ইসলাম ফরহাদ প্রমুখ।

মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী যশোদল ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী গ্রামের পৈতৃক নিবাসী। যদিও তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ ঢাকায় কেটেছে। দাওয়াতি ও শিক্ষা কার্যক্রম এবং মিডিয়া কেন্দ্রিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর। ভোটাররা তার কাছে একজন দায়িত্বশীল আলেম হিসেবে সংসদে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রধানত তার বড় ছেলে আবু হানিফা নুমানের ২০১৩ সালে গুম হওয়া এবং ২০১৪–২০১৫ সালে কারাবরণ ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো এখনো গভীর প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর চূড়ান্ত সমর্থন নিয়ে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদীও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক ভূঁইয়াকে প্রত্যাহার করে মুফতি হেদায়াতুল্লাহকে একক প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদী জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের সকল শরিক দল সমন্বিতভাবে তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালাবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমীর মাওলানা ক্বারী নজরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সদর উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল মোমেন শেরজাহান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব রেজাউল হাসনাত নাহিদ, সহ সাংগঠনিক কর্মকর্তা ফয়সাল প্রিন্সসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং বাস্তবভিত্তিক ঐক্য তৈরি না হলে দুই প্রার্থীই শক্ত অবস্থান হারাবেন।

নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে কিশোরগঞ্জে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে কিশোরগঞ্জে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট, সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসের আয়োজনে নির্বাচন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলাম প্রামানিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কটিয়াদীতে এনসিপির প্রচার কর্মসূচি

মিজানুর রহমান প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কটিয়াদীতে এনসিপির প্রচার কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের গণভোটকে কেন্দ্র করে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর উদ্যোগে ব্যাপক প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা বাজার এলাকায় এ প্রচারণা কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠক আবু সাঈদ (উজ্জ্বল)। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং গণভোটের গুরুত্ব ও দেশের উন্নয়নে ভোটাধিকার প্রয়োগের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রচারণাকালে আবু সাঈদ উজ্জ্বল বলেন, “দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই। জনগণই রাষ্ট্রের মালিক—এই মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সচেতনভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই গণভোট দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই সব ধরনের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সবাইকে নির্ভয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

এ সময় এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রচারণা চলাকালে লিফলেট বিতরণ এবং সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে গণভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান আরও জোরদার হয়।

বাজিতপুরে মার্কিন সিনেটর বড় ভাই দেশে এসে ভোট চাইলেন ছোট ভাইয়ের পক্ষে

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে মার্কিন সিনেটর বড় ভাই দেশে এসে ভোট চাইলেন ছোট ভাইয়ের পক্ষে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনে স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের হাঁস প্রতীকের বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় বাজিতপুরের ঐতিহাসিক ডাক বাংলার মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় হাজারো মানুষের ঢল নামে, যা একপর্যায়ে মহাসমাবেশে রূপ নেয়।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এবং তিনবারের মার্কিন সিনেটর শেখ মুজাহিদ রহমান চন্দন। তিনি বলেন, “আমি যদি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হতে পারি, তাহলে আমার ভাই কেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য হতে পারবে না? গত ৪৬ বছর ধরে আমি বিদেশে অবস্থান করছি। এই সময়ে বাংলাদেশ অনেক উন্নয়ন করলেও বাজিতপুর ও নিকলী এখনো পিছিয়ে রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁস মার্কায় ভোট দিয়ে আমার ভাইকে জয়যুক্ত করুন।”

তিনি আরও বলেন, বাজিতপুর–নিকলীর মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে দাঁড়ায়, তবে এ জনপদে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন সম্ভব।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “আমি আপনাদের কাছে একটি মাত্র ভোট ভিক্ষা চাই। আমাকে একটি ভোট দিন—আমি আপনাদের পাঁচ বছর নিরাপত্তা দেব। ইনশাল্লাহ, আপনারা দরজা খোলা রেখেই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।”

তিনি বলেন, “দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আমি বাজিতপুর–নিকলীর মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকব। দল-মত নির্বিশেষে—হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ—সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই এলাকাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে চাই।”

দলীয় বহিষ্কার প্রসঙ্গে ইকবাল বলেন, “আমার দলের যেসব নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজয়ের মাধ্যমে এই অন্যায়ের জবাব দেওয়া হবে। এই বিজয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে।”

জনসভায় বাজিতপুর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল সহকারে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। এতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয় এবং ডাক বাংলার মাঠে সৃষ্টি হয় এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক জনসমাবেশ।