শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ ১৪৩২
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ ১৪৩২

শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় হোসেনপুরে ঈদের প্রধান জামাত

এস কে শাহীন নবাব প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় হোসেনপুরে ঈদের প্রধান জামাত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।

জামাতে অংশ নেন হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, শিল্পপতি ও জননেতা জহিরুল ইসলাম মবিন। তিনি সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে উপস্থিত সবার সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এবারের ঈদের নামাজে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জর ঐতিহাসিক জামিয়া ইমদাদিয়ার প্রধান মুফতি হযরত মাওলানা মুফতি ওমর সাহেব। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, আহ্বায়ক কামরুজ্জামান খান, হোসেনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি এ কে এম রফিকুল ইসলাম সফিক, বিএনপি নেতা সাদ্দাম হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শওকত হোসেন এবং পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাজীব আহমেদ পিয়াস প্রমুখ।

উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাঠের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ধস: নদীতে পড়ে ৩ শিশু নিহত, নিখোঁজ ২

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ধস: নদীতে পড়ে ৩ শিশু নিহত, নিখোঁজ ২

সংগ্রহীত

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদে নির্মিত একটি ভাসমান ড্রাম ব্রিজ ভেঙে শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে গেলে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। ঈদের আনন্দমুখর মুহূর্তেই দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে ঈদের দিন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই ওই স্থানে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এবারও ঈদের দিন বিকেলে সেখানে প্রচুর মানুষ জড়ো হন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে হঠাৎ ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। এ সময় ব্রিজে থাকা শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে যান।

তাদের মধ্যে অনেকেই সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কয়েকজন শিশু পানির স্রোতে ভেসে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন শিশুর মৃত্যু হয় এবং আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।

হোসেনপুরের পুমদীতে ডাহরা গোলপুকুর পাড়ে ৮০তম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের পুমদীতে ডাহরা গোলপুকুর পাড়ে ৮০তম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ডাহরা গোলপুকুর পাড় ঈদগাহ মাঠে ৮০তম বৃহৎ ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের পরেই এই ঈদগাহ মাঠটি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ মাঠ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এখানে একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

উক্ত জামাতে ইমামতি করেন মো. আ. কাইরুম (মামুন হুজুর)। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত ছিলেন এলাকার কৃতী সন্তান ও বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. শওকত আকবরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ঈদের এই বৃহৎ জামাতকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়।

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে হোসেনপুরের জুলাই শহীদ পরিবার

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে হোসেনপুরের জুলাই শহীদ পরিবার

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

শুভেচ্ছা বিনিময়ের এক পর্যায়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। শহীদের মা ফাতেমাতুজ জহুরা এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত ছোট ভাই মাহমুদুল্লাহ বিন জাহিদ (জিসান) এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে অসুস্থ মাহমুদুল্লাহর চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক আচরণে শহীদ পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হন।

উল্লেখ্য, ‘২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুথ্যানে ৫ আগস্ট ঢাকার উত্তরা এলাকায় বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আবদুল্লাহ বিন জাহিদ, যিনি রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে একটি সুখী পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

পরবর্তীতে সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারটি আরও এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। ছোট ছেলে মাহমুদুল্লাহ বিন জাহিদ কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং বর্তমানে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার চিকিৎসা চলছে। এরই মধ্যে পিতা জাহিদুল ইসলাম সোহরাব হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাহমুদুল্লাহর চিকিৎসা ব্যয়ের একটি বড় অংশ সরকার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) ও শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় বহন করা হচ্ছে। শহীদের মা ফাতেমাতুজ জহুরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটি তার তৃতীয় সাক্ষাৎ। পূর্বেও তিনি তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন এবং স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে একটি চাকরির ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ঈদের এই সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের খোঁজখবর নেন এবং অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির এই আয়োজনের মধ্যেই একটি শোকাহত পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রীর দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনাটি উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর মানবিক অনুভূতির সৃষ্টি করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।