দুটি সেতুর দাবি ১০ হাজার মানুষের
দিলালপুর নদীঘাটে চরম ভোগান্তি
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দিলালপুর নদীঘাট এক সময় শত বছরের পুরোনো সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে নদীর ধীরে ধীরে সরু হয়ে যাওয়া ও নাব্যতা সংকটের কারণে এখন এই ঘাটই দিলালপুরসহ মাইজচর ইউনিয়নের মাইজচর, বাহেরবালী, আয়নারগোপ ও নোয়াহাটা গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে দিলালপুর খেয়া নৌকাই এসব এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা। কিন্তু খেয়া পারাপারে যাত্রীদের প্রতিদিনই দীর্ঘ অপেক্ষার শিকার হতে হচ্ছে। কখনও আধা ঘণ্টা, কখনও এক ঘণ্টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘাটে।
বাহেরবালী গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিনসহ কয়েকজন যাত্রী জানান,
“খেয়া পার হতে কখনও ১৫ মিনিট, কখনও ৩০ মিনিট, আবার কখনও এক ঘণ্টা লাগে। জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েও ঘাটে এসে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।”
রাত নামলে ভোগান্তি আরও বাড়ে। দিনের বেলায় যেখানে খেয়া পারাপারের ভাড়া জনপ্রতি মাত্র ১০ টাকা, সেখানে সন্ধ্যার পর মাঝিরা ৩–৪ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু দিলালপুর নয়, নোয়াহাটা খেয়া পারাপারের পরিস্থিতিও একই রকম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত দুটি সেতু নির্মাণ করা জরুরি—
-
দিলালপুর ঘাটে একটি সেতু—মাইজচর, বাহেরবালী, আয়নারগোপ ও নোয়াহাটা—চারটি গ্রামের মানুষের জন্য।
-
নোয়াহাটা এলাকায় আরেকটি সেতু—যা আরও তিনটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ সহজ করবে।
গ্রামবাসীরা বলেন, এ দুটি সেতু নির্মাণ হলে ১০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন চলাচল সহজ হবে, সময় ও খরচ দুটোই কমবে এবং বহুদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




