কুলিয়ারচরে সরকারি জমির তিনটি গাছ কাটার অভিযোগ
অবৈধভাবে কাটা গাছ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাজরা–মাছিমপুর গ্রামের সরকারি রেকর্ডভুক্ত জায়গা থেকে তিনটি গাছ অবৈধভাবে কাটার অভিযোগ উঠেছে। আনুমানিক দুই লাখ টাকা মূল্যের এসব গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগ দাখিল করেন—মো. সারফ উদ্দিন সুপন, আতিকুল ইসলাম, মো. কারিমুল হাসান, শরিফুল ইসলাম ও খোকা মিয়া।
অভিযোগে বলা হয়, বাজরা–মাছিমপুর খেলার মাঠের পাশের পুরনো সরকারি রাস্তার পাশে থাকা একটি রেইনট্রি, একটি আমগাছ ও একটি জামগাছ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মাছিমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম লিটন, নুরুল মনছুর টেনাম ও তানভীর আহম্মেদ বিক্রি করে দেন। গাছগুলো ক্রয় করেন মনোহরপুর গ্রামের গাছ ব্যবসায়ী মো. ফুল মিয়া, যিনি ১ লাখ ১৮ হাজার টাকায় গাছ তিনটি কিনেছিলেন। তিনি জানান, একটি গাছ কাটার পর আরেকটি গাছ মাঝামাঝি কাটতেই পুলিশ বাধা দেয়।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘটনাস্থলে তদন্তে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান। তিনি কাটা গাছ ও ডালপালা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কাইয়ুমের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন।
এদিকে, মাছিমপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম লিটন গাছ বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পূর্বের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প সরকারি রাস্তা দৃশ্যমান করার জন্য স্থানীয়দের মতামত ও চেয়ারম্যান–মেম্বারকে অবহিত করেই গাছ তিনটি ১ লাখ ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। সরকারি নিয়ম ভঙ্গের জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানান। একই বক্তব্য দেন তানভীর আহম্মেদ। তবে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
কুলিয়ারচর থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম বলেন, “ইউএনও ও এসিল্যান্ডের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা ও নিয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি সম্পত্তির গাছ নিয়মবহির্ভূতভাবে কাটা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তদন্ত চলছে।”




