তাড়াইলে তরুণদের অনলাইন জুয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার প্রতি ঝোঁক ভয়াবহভাবে বাড়ছে। সহজ ইন্টারনেট সুবিধা, মোবাইল বেটিং অ্যাপের লোভনীয় অফার এবং বিভিন্ন অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্মের প্রলোভনে পড়ে স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেকার যুবকেরাও জুয়ার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—রাত হলেই উপজেলার কয়েকটি এলাকায় গোপনে অনলাইন জুয়ার সেশন চলে।
জানা গেছে, অনেক তরুণ ‘বেট৩৬৫’, অনলাইন লাইভ ক্যাসিনো, স্লট গেম ও কার্ড গেমসহ বিভিন্ন অ্যাপে টাকা লাগিয়ে জুয়া খেলছে। শুরুতে অল্প টাকায় শুরু করলেও পরে লোভে পড়ে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত হারাচ্ছে অনেকে। পরিবারের অজান্তে বিকাশ, নগদ ও রকেট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেন করাই এখন তাদের দৈনন্দিন কাজে পরিণত হয়েছে। অনলাইন জুয়ার কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ছোটখাটো অপরাধের প্রবণতাও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের দাবি, জুয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তরুণদের আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। পড়াশোনায় অনাগ্রহ, রাতভর মোবাইল ব্যবহার, অস্থিরতা, আচরণগত পরিবর্তন এবং অর্থের চাপে পরিবারে ঝগড়া–অশান্তি বেড়েছে।
এক অভিভাবক বলেন,
“বাচ্চারা সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে থাকে। কিছু বলতে গেলেই রেগে যায়। পরে দেখি অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়েছে। পরিবারে দুশ্চিন্তা লেগেই আছে।”
সমাজকর্মী ও সাংবাদিক রবীন্দ্র সরকার বলেন,
“এ আসক্তি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়—মানসিক চাপ, হতাশা এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতাও বাড়াচ্ছে। তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
তাড়াইল থানার ওসি সাব্বির রহমান জানান,
“অনলাইন জুয়া রোধে আমরা মনিটরিং জোরদার করেছি। যারা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের প্রবণতা ঠেকানো কঠিন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যালয়ে সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো, পরিবারের কড়াকড়ি নজরদারি এবং তরুণদের খেলাধুলা ও ইতিবাচক সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা গেলে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।




