চার দশকেও তাড়াইল উপজেলা পরিষদ চত্বরে সীমানাপ্রাচীর নেই
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা পরিষদ চার দশক পার করলেও এখনো সীমানাপ্রাচীরহীন। কোর্ট ভবন, প্রশাসনিক অফিস, সরকারি যানবাহন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন এবং অন্যান্য সরকারি স্থাপনা রাতের বেলায় নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চুরি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদকসেবীসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম চত্বরকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। চার দশক ধরে চলমান এই অব্যবস্থাপনা শুধু প্রশাসনিক ঝুঁকি নয়, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাড়াইল কোর্ট ভবনটি ১৯৮৫ সালে উদ্বোধন করেন তৎকালীন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আবদুল মতিন খান চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, জেলা ও দায়রা জজ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা গণপূর্ত বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এই উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি ভবনের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নির্দেশ করে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও জিসান আলী জানান, “দিনের বেলায় মানুষের চলাচল স্বাভাবিক হলেও রাতের বেলায় চুরি ও মাদকসেবীদের কার্যক্রমের কারণে চত্বর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সীমানাপ্রাচীর থাকলে নিরাপত্তা অনেকাংশে নিশ্চিত করা যেত।”
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী জাহিদুল হাসান জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব তহবিল থেকে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন প্রেরণ করা হয়েছে। তবে বাজেট অনুমোদন না হওয়ায় কাজ শুরু হয়নি।
স্থানীয়রা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দাবি করছেন, সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বাজেট অনুমোদনের মাধ্যমে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা জরুরি। তাড়াইল সরকারি মুক্তিযোদ্ধা কলেজের শিক্ষার্থীরাও মনে করেন, এত বড় সরকারি এলাকা উন্মুক্ত রাখা অযৌক্তিক; প্রাচীর থাকলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে।




