শিমুলকান্দি ইউপিতে জনভোগান্তি কমাতে অস্থায়ী প্রশাসক জরুরী
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ৩নং শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বে পরিষদের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ জরুরি নাগরিক সেবার জন্য আসা সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
গত ৫ আগস্ট থানা ভাংচুর মামলায় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন গ্রেফতার হওয়ার পর প্রশাসনের নির্দেশে প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলামিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ আট মাস পর রিপন কারামুক্ত হয়ে গত ৩০ নভেম্বর ইউএনওর কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরবর্তীতে দু’জনকেই সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নেতৃত্বের টানাপোড়েনে পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। একাধিকবার সেবা নিতে এসে মানুষকে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই দ্বন্দ্ব চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই তারা চাইছেন—দুই পক্ষের কাউকেই আপাতত ক্ষমতা না দিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিষদের সব সেবা পুনরায় চালু করা হোক।
মধ্যেরচর গ্রামের বাসিন্দা কাওসার মিয়া অভিযোগ করে বলেন, মিজানুর রহমান রিপন ফ্যাসিস্ট শক্তির সহচর। তিনি ভৈরব উপজেলার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান। আমরা তাকে চাই না।
তিনি আরও বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলামিন বিএনপির সহযোগী সংগঠন শিমুলকান্দি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। আমরা বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বে ইউনিয়নের উন্নয়ন সম্ভব হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষের মারাত্মক ভোগান্তি হচ্ছে। এখন পুরো নাগরিক সেবা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. মামুনুর রশিদ বলেন, এটি সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি বিষয়। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ পেলেই আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
কিশোরগঞ্জ জেলার উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দুই-এক দিনের মধ্যে নির্দেশনা পাওয়া যাবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ (ইউনিয়ন পরিষদ–১ শাখা) এর উপসচিব নূরে আলম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাইনি। প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ইউনিয়নের সব সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রশাসক নিয়োগ করাই হবে কার্যকরী উদ্যোগ।




