নিকলীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উদযাপনে নারী ও শিশু অধিকার রক্ষার বার্তা
দুর্গম হাওরাঞ্চল এক সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতিসহ প্রায় সকল ক্ষেত্রে ছিল অবহেলিত ও পশ্চাদপদ। বর্তমানে সেই হাওরে লেগেছে সামাজিক উন্নয়নের ঢেউ। গতকাল বুধবার কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীতে জাতীয় সংগীত, নাচ, গান এবং আলোচনা পর্বের মাধ্যমে পালিত হয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। পরে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে একটি র্যালিও অনুষ্ঠিত হয়।
মালালা ফান্ডের এডুকেশন নেটওয়ার্কের সহায়তায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পপির উদ্যোগে নিকলী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা পর্ব। পপির জেলা সমন্বয়কারী ফরিদুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা পর্বে অংশ নেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ, জেলা মহিলা পরিষদ সভাপতি অ্যাডভোকেট মায়া ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক আতিয়া হোসেন, স্থানীয় শিক্ষক ফাতেমা বেগম এবং নারী অধিকার কর্মী মাহমুদা আক্তার।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ বলেন, “সরকার মানবাধিকারের চিন্তা মাথায় রেখে সামাজিক সুরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতায় সমাজের পিছিয়ে থাকা অসহায় মানুষদের নিয়মিত ভাতা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ইত্যাদি। তবে সমাজের বিত্তবান মানুষকেও এ ধরনের সেবামূলক কাজে এগিয়ে আসতে হবে।”
জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মায়া ভৌমিক বলেন, “আমরা সমাজে কাজ করতে গিয়ে দেখতে পাই, একেকটা পরিবারে কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারের নারীরা প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অনেকে এর প্রতিকার চাইতে কোথাও যেতে পারে না। দেশে আইন থাকলেও অনেকেই আইনি সুরক্ষার সুযোগ নিতে পারে না। আছে পরিবারের বাধা, লোকলজ্জার বাধা।”
জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আতিয়া হোসেন বলেন, “আমাদের সমাজে মেয়েরা নিজের পরিবারেও যথাযথ মর্যাদা ও যত্ন থেকে বঞ্চিত হয়, শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও বঞ্চিত হয়। আবার ছেলে নিজের পরিবারেও বাড়তি যত্ন পায়, শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও খুব সমাদর পায়। ফলে সবকিছু কেবল আইন দিয়ে সমাধান হবে না। নিজেদের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে।”
পপির সমন্বয়ক ফরিদুল আলম বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি হাওর জনপদের শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের মধ্যে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে এবং আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে। এক্ষেত্রে অনেকটাই সফল হতে পেরেছি। মেয়েদের মধ্যে থেকে জড়তা কেটে যাচ্ছে। সামনে আরও পথ পাড়ি দিতে হবে। অগ্রজদের দেখে পরের প্রজন্ম অনেক কিছু শিখতে পারবে। সেভাবেই পরিকল্পনামাফিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।”




