সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

হাওরে ৩৩ কেভি লাইনে বাঁশের খুঁটি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাওরে ৩৩ কেভি লাইনে বাঁশের খুঁটি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বড় হাওরে এখন আর থইথই পানি নেই। তবে বিস্তীর্ণ হাওরের মধ্য দিয়ে টানা ৩৩ হাজার ভোল্ট (৩৩ কেভি) বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হচ্ছে। উচ্চ ভোল্টেজের এই লাইনের জন্য বাঁশ, কাঠ ও জিআই তার দিয়ে তৈরি খুঁটি ব্যবহার করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, অষ্টগ্রামের বড় হাওরে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের জন্য ছয়টি বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশের উপজেলা মিঠামইনের নবাবপুর হাওরেও একটি বাঁশের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ সরবরাহে অস্থায়ী বাঁশের খুঁটি ব্যবহার দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাওরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার টানার জন্য বাঁশের খুঁটি ব্যবহারের কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত এসব খুঁটি অপসারণ করে সিমেন্টের তৈরি স্থায়ী খুঁটি বসানোর দাবি জানান তাঁরা।

পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বর্ষার পানির প্রবল স্রোতে অষ্টগ্রাম হাওরে ছয়টি সিমেন্টের খুঁটি পড়ে যায়। এতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ৩৩ হাজার গ্রাহক। এর আগে আগস্ট মাসে মিঠামইন সদর ইউনিয়নের নবাবপুরে একটি খুঁটি পড়ে গিয়ে সারা দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ হাওরের পানিতে নৌকায় দাঁড়িয়ে ১২–১৪ জন শ্রমিক ও টেকনিশিয়ান দুই দিনে একটি করে অস্থায়ী বাঁশের খুঁটি তৈরি করেন। প্রতিটি খুঁটি নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। শুষ্ক মৌসুমে এসব বাঁশের খুঁটির স্থলে নতুন সিমেন্টের খুঁটি বসানো হয় বলে জানায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, মিঠামইন জোনাল অফিসের আওতায় অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন—এই তিন হাওর উপজেলায় ১০৮ কিলোমিটার ৩৩ কেভি এবং ৯৪৫ কিলোমিটার ১১ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রয়েছে। এসব এলাকায় মোট গ্রাহক প্রায় ৮০ হাজার ৬৩৫ জন। এর মধ্যে অষ্টগ্রামে ৩৩ হাজার ৫১৩ জন, মিঠামইনে ২৭ হাজার ৬৫৩ জন এবং ইটনায় ১৯ হাজার ৩৬৯ জন গ্রাহক রয়েছেন।

বর্ষাকালে হাওরের পানিতে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়ার মাটি নরম হয়ে যায়। ফলে পানির স্রোত, ঝড়, নৌকা ও পর্যটকবাহী ট্রলারের ধাক্কায় খুঁটি হেলে পড়ে বা সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এতে বিদ্যুতের তার পানিতে ছিঁড়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক সময় কয়েক দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়, ভোগান্তিতে পড়ে হাজারো গ্রাহক।

চার বছর আগে হাওরাঞ্চলে বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়া রোধে টেকসই স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কার্যালয়ে পাঠানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানা গেছে।

মিঠামইন সদর ইউনিয়নের বিদ্যুৎ গ্রাহক ফরহাদ আহমেদ (৪০) বলেন, “পানির সময় খুঁটি পড়লে বাঁশের খুঁটি ছাড়া বিকল্প নেই, এটা আমরা বুঝি। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ হতে পারে।”

এ বিষয়ে মিঠামইন পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা) মো. নবী উল হোসেন বলেন, “বর্ষাকালে হাওরে সিমেন্টের খুঁটি বসানো সম্ভব হয় না। গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অস্থায়ীভাবে বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়। এখন পানি নেমে গেছে, দ্রুত এসব খুঁটি অপসারণ করে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করা হবে।”

হোসেনপুর পৌর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুর পৌর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ

নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও জনদুর্ভোগ কমাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (২ মার্চ) দুপুরে হোসেনপুর পৌর বাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহসীন মাসনাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে পৌর বাজারের কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে মূল্যতালিকা যাচাই করা হয়। পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কের ওপর স্থাপিত অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ করা হয়।

দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে প্রশাসন নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে যানজট এড়াতে চারটি প্রবেশমুখ দিয়ে শহরের ভেতরে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর সদস্যরা। তাদের সহযোগিতায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করেছে বলে জানায় প্রশাসন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসীন মাসনাদ বলেন, “সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো ও বাজারব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ফুটপাত দখল ও যানজট নিরসনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। বিএনসিসি সদস্যরা প্রশংসনীয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।”

পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তা স্থায়ীভাবে কার্যকর রাখার দাবি জানিয়েছেন।

হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিকের পিতা ও মাতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) হোসেনপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত হোসেনপুর মডেল মসজিদে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

পারিবারিক ও দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে মরহুম পিতা ও মরহুমা মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে হোসেনপুর উপজেলার উন্নয়ন, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। এ সময় এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিক তাঁর পিতা-মাতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, মালিকরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলেও নদীর মধ্যে কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। গত রোববার(১ মার্চ) তিনি এমন কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসুন্দা নদীতে কেউ কেউ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পৌরসভা কীভাবে এসব স্থাপনার প্ল্যান পাস করল? প্রয়োজনে জমির মালিকদের উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করা হবে; তবে নদীর মধ্যে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

কিশোরগঞ্জের নানামুখী উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে থাকা কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস ও নিটোল মোটরসের কাছে বিক্রি করা কালিয়াচাপড়া চিনিকল পরিদর্শন করবেন। এসব প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব না হলেও সেখানে বিকল্প শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসুন্দা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হোসেনপুরের কাউনা বাঁধ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন  সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন, সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিৎ শর্মা, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ সিদ্দিকুল্লাহ, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দিলু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলার আমীর মোঃ রমজান আলী, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে নাসিম , হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মবিন মিয়া, কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক , কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া সহ অনেকে।