সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

‘সেইফ জোন’ চরআলগিতে প্রশাসনের অভিযান, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৫১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘সেইফ জোন’ চরআলগিতে প্রশাসনের অভিযান, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

সংবাদমাধ্যমে মাদক কারবারিদের ‘সেইফ জোন’ হিসেবে পরিচিত চরআলগি গ্রাম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরআলগি গ্রাম পরিদর্শন করেছে প্রশাসন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে চরআলগি গ্রাম পরিদর্শন করেন পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান। এ সময় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সমাবেশে তিনি উপস্থিত থেকে স্থানীয়দের অভিযোগ শোনেন এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রশাসনিকভাবে চরআলগি গ্রামটি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। গ্রামের এক পাশে ময়মনসিংহের পাগলা থানা এবং অন্য পাশে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা অবস্থিত। চারপাশে নদীবেষ্টিত হওয়ায় গ্রামটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতাকেই কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

মাদকবিরোধী সমাবেশে স্থানীয় শিক্ষক, ইমাম, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল, নৌযানসহ স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।

স্থানীয়রা জানান, নদীঘেরা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের উপস্থিতিতে তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও স্থায়ী ব্যবস্থা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, প্রয়োজনে পাকুন্দিয়া থানা থেকে নিয়মিতভাবে চরআলগি এলাকায় ক্যাম্প বসানো হবে। তিনি জানান, নিজে উপস্থিত থেকে সেকেন্ড অফিসার ও তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে এলাকায় অভিযান পরিচালনা করবেন। প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)কে সঙ্গে নিয়ে থানা ক্যাম্প ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

ওসি আরও বলেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কারাগারে পাঠানো হবে। ইভটিজিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের নাম তালিকাভুক্ত করে পুলিশকে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে মাদক সেবনকারীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এরপর সেই তালিকা অনুযায়ী পুলিশ, ইউএনও এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের চিকিৎসার জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় মাদক সেবনকারীর সংখ্যা কমলে মাদক ব্যবসায়ীদের বাজারও ভেঙে পড়বে। মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নিয়মিতভাবে এখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

হোসেনপুর পৌর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুর পৌর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ

নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও জনদুর্ভোগ কমাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (২ মার্চ) দুপুরে হোসেনপুর পৌর বাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহসীন মাসনাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে পৌর বাজারের কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে মূল্যতালিকা যাচাই করা হয়। পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কের ওপর স্থাপিত অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ করা হয়।

দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে প্রশাসন নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে যানজট এড়াতে চারটি প্রবেশমুখ দিয়ে শহরের ভেতরে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর সদস্যরা। তাদের সহযোগিতায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করেছে বলে জানায় প্রশাসন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসীন মাসনাদ বলেন, “সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো ও বাজারব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ফুটপাত দখল ও যানজট নিরসনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। বিএনসিসি সদস্যরা প্রশংসনীয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।”

পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তা স্থায়ীভাবে কার্যকর রাখার দাবি জানিয়েছেন।

হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিকের পিতা ও মাতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) হোসেনপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত হোসেনপুর মডেল মসজিদে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

পারিবারিক ও দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে মরহুম পিতা ও মরহুমা মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে হোসেনপুর উপজেলার উন্নয়ন, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। এ সময় এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিক তাঁর পিতা-মাতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, মালিকরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলেও নদীর মধ্যে কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। গত রোববার(১ মার্চ) তিনি এমন কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসুন্দা নদীতে কেউ কেউ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পৌরসভা কীভাবে এসব স্থাপনার প্ল্যান পাস করল? প্রয়োজনে জমির মালিকদের উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করা হবে; তবে নদীর মধ্যে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

কিশোরগঞ্জের নানামুখী উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে থাকা কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস ও নিটোল মোটরসের কাছে বিক্রি করা কালিয়াচাপড়া চিনিকল পরিদর্শন করবেন। এসব প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব না হলেও সেখানে বিকল্প শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসুন্দা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হোসেনপুরের কাউনা বাঁধ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন  সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন, সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিৎ শর্মা, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ সিদ্দিকুল্লাহ, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দিলু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলার আমীর মোঃ রমজান আলী, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে নাসিম , হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মবিন মিয়া, কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক , কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া সহ অনেকে।