‘সেইফ জোন’ চরআলগিতে প্রশাসনের অভিযান, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
সংবাদমাধ্যমে মাদক কারবারিদের ‘সেইফ জোন’ হিসেবে পরিচিত চরআলগি গ্রাম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরআলগি গ্রাম পরিদর্শন করেছে প্রশাসন।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে চরআলগি গ্রাম পরিদর্শন করেন পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান। এ সময় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সমাবেশে তিনি উপস্থিত থেকে স্থানীয়দের অভিযোগ শোনেন এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রশাসনিকভাবে চরআলগি গ্রামটি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। গ্রামের এক পাশে ময়মনসিংহের পাগলা থানা এবং অন্য পাশে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা অবস্থিত। চারপাশে নদীবেষ্টিত হওয়ায় গ্রামটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতাকেই কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
মাদকবিরোধী সমাবেশে স্থানীয় শিক্ষক, ইমাম, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল, নৌযানসহ স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, নদীঘেরা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের উপস্থিতিতে তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও স্থায়ী ব্যবস্থা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, প্রয়োজনে পাকুন্দিয়া থানা থেকে নিয়মিতভাবে চরআলগি এলাকায় ক্যাম্প বসানো হবে। তিনি জানান, নিজে উপস্থিত থেকে সেকেন্ড অফিসার ও তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে এলাকায় অভিযান পরিচালনা করবেন। প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)কে সঙ্গে নিয়ে থানা ক্যাম্প ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
ওসি আরও বলেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কারাগারে পাঠানো হবে। ইভটিজিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের নাম তালিকাভুক্ত করে পুলিশকে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে মাদক সেবনকারীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এরপর সেই তালিকা অনুযায়ী পুলিশ, ইউএনও এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের চিকিৎসার জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় মাদক সেবনকারীর সংখ্যা কমলে মাদক ব্যবসায়ীদের বাজারও ভেঙে পড়বে। মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নিয়মিতভাবে এখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।




