কটিয়াদীতে পৈতৃক সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও ভুয়া কাগজে জমা খারিজের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তির বৈধ জমা খারিজ থাকা সত্ত্বেও অন্যের নামে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে জমা খারিজ করার অভিযোগ উঠেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও জজ কোর্টের একজন আইনজীবীর পাঠানো লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা যায়, কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী মৌজার আরএস-৫৫৮ খতিয়ানের আওতাধীন আরএস ৬৪২৫, ৬৪৪০, ৬৪৬২ ও ৭৫৩৪ নম্বর দাগে মোট ২৯ শতাংশ ভূমি বিএস রেকর্ড অনুযায়ী দখলকার হিসেবে আব্দুল হাসিম, কাশেম আলী (পিতা: আব্দুল কালাম) এবং মস্তুফা মিয়া (পিতা: মৃত দুলাল মিয়া)-এর নামে আরএস রেকর্ড চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়।
উক্ত খতিয়ানে কাশেম আলী ০.৩৭৫ অংশ হারে এবং অন্যান্য ওয়ারিশদের কাছ থেকেও ০.৩৭৫ অংশ হারে ভূমি প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে আব্দুল হাসিম নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে ৬৪২৫ দাগ থেকে তার প্রাপ্য ৬ শতাংশ ভূমিসহ মোট ১২ শতাংশ ভূমি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়।
গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে ৮৭৮০/১৪ নম্বর হেবা ঘোষণা দলিলের মাধ্যমে ৬৪২৫ দাগে ১২ শতাংশ, ৬৪৬০ দাগে ৩ শতাংশ এবং ৬৪৬২ দাগে ৩ শতাংশ—মোট ১৮ শতাংশ ভূমির মালিক হন মো. আলমগীর ও তার ভাই জাহাঙ্গীর। পরে পিতার কাছ থেকে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত অন্যান্য দাগের জমিসহ গত ১২ জুলাই ২০১৮ তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে মো. আলমগীরের নামে জমা খারিজ সম্পন্ন করেন।
বর্তমানে উক্ত জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে মো. আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, একটি কুচক্রী মহল ও স্থানীয় সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় মৃত ইদ্রিস আলীর পুত্র আব্দুস সালাম সহকারী কমিশনার (ভূমি), কটিয়াদীর নিকট খারিজ বাতিলের আবেদন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ভূমি অফিসের একটি চক্র মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করে কোনো ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই খারিজ বাতিল করে দেয়।
ঘটনার পর থেকে মো. আলমগীর প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র নিয়ে লোহাজুরী ইউনিয়ন ভূমি অফিস, কটিয়াদী সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয় এবং কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একাধিকবার গেলেও এখনো কোনো সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, “আমি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বৈধভাবে আমার জমির জমা খারিজ করিয়েছি। একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হয়রানি করছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে আমার আবেদন—সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে আমাকে ন্যায়বিচার প্রদান করা হোক।”







