সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জে ভূমি ও স্থাপনার অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগীরা।

রোববার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকরা। মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৯–২০২০ অর্থবছরের আওতায় কিশোরগঞ্জ–করিমগঞ্জ চামটাঘাট সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এ প্রকল্পের আওতায় কয়েকশত পরিবারের জমি ও স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হলেও আজ পর্যন্ত তারা ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি। বিশেষ করে এলএ কেস নম্বর–৯-এর অধিগ্রহণের টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

বক্তারা আরও বলেন, সড়কের পাশে অবস্থিত অনেক বাড়িঘর অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে। ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় তারা বাড়িঘর মেরামত বা নতুন করে নির্মাণ করতে পারছেন না। অধিগ্রহণের পর প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ভুক্তভোগীরা এখনও তাদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পাননি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, অধিগ্রহণের টাকা পরিশোধের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রাক্কলন প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা গত মে মাসেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা পাঠিয়েছি। তবে ডিসেম্বর মাস চললেও এখনো প্রাক্কলিত অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। আমরাও চাই ভুক্তভোগীদের টাকা দ্রুত তাদের হাতে পৌঁছে দিতে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা-জমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রায় ১২৪ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে তদবির চলমান রয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি পাওয়া যাবে।

কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, এই প্রকল্পে মোট পাঁচটি এলএ মামলা ছিল। এর মধ্যে চারটির ক্ষতিপূরণের টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। কেবল একটি মামলা এখনো বাকি রয়েছে, যার প্রাক্কলিত মূল্য প্রায় ১২৩ কোটি টাকা।

মানববন্ধনে চামটা বন্দর করিমগঞ্জ এলাকার ভুক্তভোগীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. কবির উদ্দিন ভূইয়া (৪৪), পিতা গোলাপ ভূইয়া; মো. আজহারুল ইসলাম আরজু (৫৫), পিতা মিয়াফর আলী; মো. জুয়েল মিয়া (৩৮), পিতা আবদুল হক; মো. রেনু মিয়া (৫৬), পিতা মজিদ মিয়া; মো. হেলাল মিয়া (৪৩), পিতা মিয়াফর; ও মো. হেলিম মিয়া (৪০), পিতা আফির উদ্দিন।

ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী পরিবার অংশগ্রহণ করেন।

হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিকের পিতা ও মাতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) হোসেনপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত হোসেনপুর মডেল মসজিদে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

পারিবারিক ও দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে মরহুম পিতা ও মরহুমা মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে হোসেনপুর উপজেলার উন্নয়ন, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। এ সময় এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিক তাঁর পিতা-মাতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, মালিকরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলেও নদীর মধ্যে কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। গত রোববার(১ মার্চ) তিনি এমন কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসুন্দা নদীতে কেউ কেউ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পৌরসভা কীভাবে এসব স্থাপনার প্ল্যান পাস করল? প্রয়োজনে জমির মালিকদের উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করা হবে; তবে নদীর মধ্যে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

কিশোরগঞ্জের নানামুখী উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে থাকা কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস ও নিটোল মোটরসের কাছে বিক্রি করা কালিয়াচাপড়া চিনিকল পরিদর্শন করবেন। এসব প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব না হলেও সেখানে বিকল্প শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসুন্দা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হোসেনপুরের কাউনা বাঁধ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন  সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন, সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিৎ শর্মা, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ সিদ্দিকুল্লাহ, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দিলু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলার আমীর মোঃ রমজান আলী, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে নাসিম , হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মবিন মিয়া, কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক , কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া সহ অনেকে।

রোজায় ৪০০ পরিবারে ইফতার পৌঁছে দিলেন প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
রোজায় ৪০০ পরিবারে ইফতার পৌঁছে দিলেন প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেন

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বর্শিকুড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের উদ্যোগে ৪০০টি পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বর্শিকুড়া ও আদুমাস্টার বাজার এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে এসব ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় অসচ্ছল ও রোজাদার পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত তোফাজ্জল হোসেন নিজ গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন সময় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। বিশেষ করে রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর তিনি এলাকার রোজাদার মানুষের মাঝে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন।

তোফাজ্জল হোসেনের ভাই নজরুল ইসলাম জানান, প্রবাসে থাকলেও তোফাজ্জল সবসময় গ্রামের মানুষের খোঁজখবর রাখেন। রমজান মাসে দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি প্রতি বছরই এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ইফতার সামগ্রী পেয়ে উপকৃত পরিবারের সদস্যরা প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর মঙ্গল কামনা করেন।