বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২

নেতাকর্মীরা সৎ ও নামাজি হলে দেশের এই অবস্থা হতো না: মাসুদ হিলালী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নেতাকর্মীরা সৎ ও নামাজি হলে দেশের এই অবস্থা হতো না: মাসুদ হিলালী

কিশোরগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাবেক চার দলীয় ঐক্যজোটের কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ হিলালী বলেছেন,
“আজ যদি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটি নেতাকর্মী সৎ ও নামাজি হতো, তাহলে দেশের অবস্থা এমন হতো না।”

তিনি বলেন, “আমি ৫০ বছর এই দল করেছি। আমার বাড়ি-ঘরের কোনো উন্নতি হয়নি। অথচ আজ যারা বড় বড় কথা বলেন, তারা তখন কোথায় ছিলেন? শুধু সমালোচনা করবেন না।”

শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে কিশোরগঞ্জ শহরের শোলাকিয়া এলাকায় এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের নিজ বাসভবন সংলগ্ন স্কলারস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাসুদ হিলালী আরও বলেন, “আল্লাহ সব দেখেন, সব শোনেন। সামান্য অন্যায়ের জন্যই আল্লাহ কাউকে ছেড়ে দেন না। ৮-১০ দিনের মধ্যে কীভাবে এক সময়ের শক্ত শাসকের পতন হলো, সবাই দেখেছে। সেদিন ছাত্ররা জেগেছিল বলেই পরিবর্তন এসেছে।”

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে কোন কমিটিতে রাখেনি—এমনকি জেলা সম্মেলনও দাওয়াত দেওয়া হয়নি। তখন আমি ভেবেছি, এটা কি এমন কোনো দল—যেটা না করলে আমি মারা যাব? তাই দূরে সরে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখনকার কিছু নেতা যেভাবে হুংকার দেন, তাদের সতর্ক করে বলতে চাই—আমাকে দেয়ালে ঠেকাবেন না।”

দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন দারুস সালাম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুল হামিদ। মোনাজাতে তার জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন— কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ সুলতান মিয়া, যুবদলের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম সুজন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাঈদ সুমন, সহ-সভাপতি সোয়েব সাদেকিন বাপ্পি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এহসানুল হক রাফি, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিক রহমান সহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

প্রসঙ্গত প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাসুদ হিলালী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-০১(কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর) হতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জোয়ারের সময় সরাসরি বিরোধিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত জনাব মাজহারুল ইসলামের দলীয় মনোনয়নের বিরোধিতায় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা এই নেতা দলের স্বিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার আশায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন। মোট চার নেতার স্বতন্ত্র মনোনয়নের মধ্যে একমাত্র সাবেক এই সাংসদের মনোনয়ন এখন পর্যন্ত বৈধতা পেয়েছে, অন্যদের আপীল আবেদন নির্বাচন কমিশনে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ তিন সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার: ফিশিংয়ে কোটি টাকার হাতবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ তিন সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার: ফিশিংয়ে কোটি টাকার হাতবদল

গত বছরের ১৭ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা খিতিশচন্দ্র রায়ের মোবাইল ফোনে বিকাশ থেকে একের পর এক ক্যাশআউটের এসএমএস আসতে থাকে। বিকাশ অ্যাপে ব্যালেন্স চেক করে তিনি দেখতে পান, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে দুই লাখ ২২ হাজার টাকা উধাও হয়ে গেছে। সেখানে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৬০০ টাকা।

ভুক্তভোগী খিতিশচন্দ্র রায় জানান, তাঁর এক ব্যাচমেটের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সহায়তার জন্য বন্ধুদের কাছ থেকে বিকাশে পাঠানো হয়েছিল এই অর্থ। পরে অসাবধানতাবশত একটি ফিশিং লিংকে ক্লিক করার পরই প্রতারণার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় তিনি তেজগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উল্লেখ্য, খিতিশচন্দ্র রায় নিজেও পুলিশের একজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর)।

অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেয় পুলিশ। পাশাপাশি র‍্যাবও প্রতারক চক্র শনাক্তে কাজ শুরু করে। তিন থেকে চার মাস ধরে শতাধিক ফোন নম্বর বিশ্লেষণের পর একটি সন্দেহজনক নম্বর শনাক্ত করে র‍্যাব। সেই সূত্র ধরে রাজধানীর শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে ফ্ল্যাটের ভেতরে ও বাইরে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা, একাধিক রাউটার ও বিভিন্ন প্রযুক্তি সরঞ্জাম দেখতে পায় র‍্যাব। বাড়ির মালিক জানান, অভিযুক্তরা নিজেদের শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সার পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন।

র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় সাদমান সাকিব প্রিয়ম, তরিকুল ইসলাম ইমন ও মাহিনুর রহমান মাহি নামের তিন যুবককে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় শতাধিক জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন, প্রিন্টারসহ প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রিয়ম আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। মাহি কিশোরগঞ্জের ইশাখা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি অধ্যয়নরত। তারা ২০২২ সাল থেকে সংঘবদ্ধভাবে সাইবার প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, তারা ফিশিং লিংকের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে বিকাশসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ও ওটিপি সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করে। এছাড়া ওয়াইফাই রাউটার ও সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও রয়েছে।

একই এনআইডি নম্বর রেখে নাম সামান্য পরিবর্তন করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার কৌশলও তারা ব্যবহার করত বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করত। ঢাকায় মাসিক প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাটে বসবাস, দামি মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করত তারা। এলাকাবাসীর মধ্যেও তাদের জীবনযাপন নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ ছিল।

এক প্রতিবেশী বলেন,
“মাঝেমধ্যে প্রাইভেট কার আসত, দামি জিনিসপত্র ব্যবহার করত। তখন বুঝিনি, এখন বোঝা যাচ্ছে টাকার উৎস কী ছিল।”

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মৃত বিএনপি নেতা ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মৃত বিএনপি নেতা ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মারা যাওয়া জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ডাবলুর ছোট ভাই ও মা লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ, সিআইপি আলহাজ সাহিদুজ্জামান টরিক, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সারোয়ার বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার অহিদুল আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন,
‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই দেশে আমরা এ ধরনের মৃত্যু প্রত্যাশা করি না। ডাবলুর মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে এভাবে প্রাণ দিতে না হয়।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
‘জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’

পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসির সামনে থেকে ডাবলুকে আটক করা হয়। পরে রাত ১২টার পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিরাপত্তাহীনতা ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তাহীনতা ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এই রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।