সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

সরারচর মাঠ থেকেই স্বপ্নের যাত্রা: ‘২১–’২৫ সরারচর ফুটবল একাডেমির গৌরবগাথা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সরারচর মাঠ থেকেই স্বপ্নের যাত্রা: ‘২১–’২৫ সরারচর ফুটবল একাডেমির গৌরবগাথা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ঐতিহাসিক সরারচর খেলার মাঠ—একসময় যেখানে গ্রামবাংলার তরুণরা শখের ফুটবল খেলত—আজ সেই মাঠ ঘিরেই গড়ে উঠেছে একটি স্বপ্নের নাম: সরারচর ফুটবল একাডেমি। ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা এই একাডেমি অল্প সময়ের মধ্যেই তৃণমূল ফুটবলের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

একাডেমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান তত্ত্বাবধায়ক মোঃ সারোয়ার জামান নিপু। তাঁর পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও দিকনির্দেশনায় ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একাডেমি ধারাবাহিক সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছে। মাঠের ঘাম, শৃঙ্খলা ও স্বপ্নের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই একাডেমি এখন এলাকাবাসীর গর্ব।

একাডেমির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন জুয়েল রাজ, সঞ্জয়, রাকিব খান, আবু নাঈম ও সাজ্জাদুল আমিন সামি, আর সাংগঠনিক নেতৃত্বে আছেন সভাপতি মোঃ শিহাব সরকার। তিনি বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ম্যাচ জেতা নয়, তৃণমূল থেকে ভালো মানুষ ও দক্ষ ফুটবলার তৈরি করা। ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলবে—এমন খেলোয়াড় তৈরি করাই আমাদের স্বপ্ন।”

প্রতিষ্ঠার পর থেকে সরারচর ফুটবল একাডেমি বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে ৯ বার চ্যাম্পিয়ন এবং ৩ বার রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একাডেমিটির নান্দনিক ও আক্রমণাত্মক খেলা দর্শক ও ক্রীড়ামোদীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মোঃ সারোয়ার জামান নিপুর তত্ত্বাবধানে একাডেমির একাধিক খেলোয়াড় ইতোমধ্যেই জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯, ১৭, ২০ ও ১৬ দলের কয়েকজন খেলোয়াড় বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব (বিপিএল)-এ খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। এছাড়া: আবু নাঈম বিসিএলসহ প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগে আজমপুর ক্লাবে, সঞ্জয় রাজ প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগে কিংস্টার ক্লাবে, মোঃ শাকিল চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার লিগে শতদল ও কিশোরগঞ্জ জেলা দলের হয়ে নিয়মিত খেলছেন—যা একাডেমির সাফল্য প্রমাণ করে।

মাঠ থেকে মাঠে সাফল্যের ছাপ ছড়িয়ে আছে সরারচর ফুটবল একাডেমির গল্প। উদাহরণস্বরূপ: বোয়ালিয়া তাহেরা নুর স্কুল মাঠে কিশোর ফুটবল একাডেমির বিপক্ষে লড়াই, গোবরিয়া মাদ্রাসা মাঠে রুকন একাডেমির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সাদিরচর গাবতলী মাঠে সাদিরচর স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ, বড়চারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বড়চর ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ খেলা।

খেলাধুলার মাধ্যমে এলাকার যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সরারচর ফুটবল একাডেমি শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ব ও সুস্থ সংস্কৃতির পথে এগিয়ে নিচ্ছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই একাডেমির সাফল্য আজ শুধুই একটি ক্লাবের নয়—এটি একটি এলাকার স্বপ্ন ও সম্ভাবনার গল্প।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।